Inqilab Logo

সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫ আশ্বিন ১৪২৮, ১২ সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

কে মডেল-অভিনেত্রী আর কে নয়, জানিয়ে শিল্পী সংঘের বিবৃতি

বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ আগস্ট, ২০২১, ১০:৪২ এএম

সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মদ-ইয়াবাসহ গ্রেফতার হয়েছেন কয়েকজন মডেল বা অভিনয়শিল্পী পরিচয়ধারী। এমন পরিস্থিতিতে শোবিজ তারকাদের ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ‘নামমাত্র’ মডেলদের বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে নাকি মূলধারার তারকাদের পড়তে হচ্ছে নানা প্রশ্নের মুখে। এমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে টেলিভিশন তারকাদের নিয়ে গঠিত সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘ। কাকে মডেল বা অভিনেত্রী বলা হবে আর কাকে নয়- এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র/বিবৃতি দিয়েছে সংগঠনটি।

অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক ও অভিনেতা আহসান হাবিব নাসিম বিবৃতিটিতে বলা হয়, ‘ব্যক্তিগত পরিচয়, ‘ব্যক্তিগত পরিচয়, প্রভাব, কখনো বাহ্যিক সৌন্দর্য, কিছু ক্ষেত্রে কপালের জোরে দু-একটি বিজ্ঞাপন বা নাটকে কাজ করলেই তাকে মডেল বা অভিনেত্রী বলা যায় কি না সেই ভাবনাটা জরুরি হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কেউ কোনো টাইম পাসিং সোশ্যাল প্লাটফর্মে, ফ্রেন্ডলি মেইড ভিডিওতে অভিনয় করেছে, মডেল হিসেবে হয়তো ছবি আছে বাসার পাশের কোনো টেইলরের দোকানে অথবা একটা দুটো বিলবোর্ডে, সেও সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজেকে অ্যাক্টর বা মডেল দাবি করছে। অথচ মডেল বা অভিনেতা/অভিনেত্রী হয়ে ওঠার জন্য যে নিষ্ঠা, একাগ্রতা, জ্ঞান, দর্শন, প্রস্তুতি, সামাজিক ও পেশাদার দায়বদ্ধতা প্রয়োজন সে সবের কিছুই তার নেই।’

‘আবার হুট করে এসেও কেউ মডেল বা অভিনেতা হয়ে ওঠে না, তাও না। সেক্ষেত্রে শতভাগ একাগ্রতার সাথে নিজেকে তৈরি করতে হয় আরো ভালো কাজের জন্যে এবং শিল্পী হিসেবে পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাবার জন্য। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংগঠন, সক্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন, অভিজ্ঞ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ তার আগ্রহ ও নিষ্ঠাকে গুরুত্ব দিয়ে তাকে গাইড করে, তার মধ্যে শিল্পী হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। কালচারাল অ্যাক্টিভিস্ট, বিনোদন জগতের স্টেক হোল্ডার, মডেল বা অভিনেত্রী তকমা নেবার বা দেবার আগে তার কাজ, কাজের প্রতি আগ্রহ, সামাজিক দায়বদ্ধতা, প্রস্তুতি প্রভৃতি বিষয় বিবেচ্য হওয়া জরুরি।’

গণমাধ্যমের প্রতি নাসিমের অভিযোগ, ‘বাংলাদেশের প্রচুর অভিনেতা-অভিনেত্রী, মডেল তাদের কাজ দিয়ে সম্মান অর্জন করেছেন, পরিবারের জন্য গর্ব হয়েছেন, পেয়েছেন মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা, সামাজিক ও জাতীয় স্বীকৃতি, হয়েছেন কোটি মানুষের আদর্শ। কোথাও পুলিশি অভিযানে ধরপাকড় হলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হেডলাইন হয় অমুক মডেল বা অভিনেতা/অভিনেত্রী গ্রেপ্তার; যা অবধারিতভাবে হয়ে ওঠে আকর্ষণীয় সংবাদ। এ ধরনের হেডলাইন; সর্বজন শ্রদ্ধেয়, প্রথিতযশা অভিনেতা-অভিনেত্রী, মডেলসহ বিনোদন মাধ্যমে নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মরত সবার জন্য সামাজিকভাবে অত্যন্ত বিব্রতকর এবং অসম্মানজনক হয়ে ওঠে। সময়ে সময়ে এ ধরনের খবরের ফলে যারা সিরিয়াসলি প্রফেশনাল ইথিক্সসহ এই কাজটা করে তাদের প্রায়শই আত্মীয়, বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে শুনতে হয় 'দেখলাম তোমাদের এক মডেল/অভিনেতা এই কুকর্ম করেছে' এ রকম শ্লেষাত্মক কথা।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই পেশার মানুষ সম্পর্কে এক ধরনের অনাস্থা, অসম্মান তৈরি হয় সমাজে। যা হয়ে উঠতে পারে অপ্রত্যাশিত সোশ্যাল ট্যাবু। গণমাধ্যম কাকে অভিনেতা/অভিনেত্রী বা মডেল বলবে তার ওপরই নির্ভর করে এই পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না? এত এত সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ, নানান প্রতিকূলতার মধ্যে স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়া স্ট্রাগলার এবং ভবিষ্যতে বিনোদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে উদগ্রীব নতুন প্রজন্মকে এ রকম বিব্রতকর প্রশ্নের সম্মুখীন যেন না হতে হয়, সেটা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিশ্চিত করার দায়িত্ব অনেকটাই আপনাদের। তাই গণমাধ্যম যখন হেডলাইন করবে, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো থেকে যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কাজে তার নিষ্ঠা, তার অবদান প্রভৃতি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে তার তার পেশা উল্লেখ করবেন- এটাই প্রত্যাশিত।’

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ মডেল পরিচয়টি শিরোনামে আসে ১ আগস্ট ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌ নামের দু’জনকে গ্রেফতার করার মাধ্যমে। রবিবার (১ আগস্ট) বারিধারা ও মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের পৃথক দুটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, দেড় হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, সীসা খাওয়ার উপকরণ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে পিয়াসার নামে গুলশান থানায় ও মৌর নামে মোহাম্মদপুর থানায় পৃথক দুটি মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়। সোমবার তাদের আদালতে সোপর্দ করে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।



 

Show all comments
  • Nazrul islam ৪ আগস্ট, ২০২১, ১২:৪৭ পিএম says : 0
    #গণমাধ্যমের প্রতি নাসিমের অভিযোগ, ‘বাংলাদেশের প্রচুর অভিনেতা-অভিনেত্রী, মডেল তাদের কাজ দিয়ে সম্মান অর্জন করেছেন, পরিবারের জন্য গর্ব হয়েছেন, পেয়েছেন মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা, সামাজিক ও জাতীয় স্বীকৃতি, হয়েছেন কোটি মানুষের আদর্শ। কোথাও পুলিশি অভিযানে ধরপাকড় হলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হেডলাইন হয় অমুক মডেল বা অভিনেতা/অভিনেত্রী গ্রেপ্তার; যা অবধারিতভাবে হয়ে ওঠে আকর্ষণীয় সংবাদ। এ ধরনের হেডলাইন; সর্বজন শ্রদ্ধেয়, প্রথিতযশা অভিনেতা-অভিনেত্রী, মডেলসহ বিনোদন মাধ্যমে নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মরত সবার জন্য সামাজিকভাবে অত্যন্ত বিব্রতকর এবং অসম্মানজনক হয়ে ওঠে। সময়ে সময়ে এ ধরনের খবরের ফলে যারা সিরিয়াসলি প্রফেশনাল ইথিক্সসহ এই কাজটা করে তাদের প্রায়শই আত্মীয়, বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে শুনতে হয় 'দেখলাম তোমাদের এক মডেল/অভিনেতা এই কুকর্ম করেছে' এ রকম শ্লেষাত্মক কথা।# যখন একজন নিামধারী আলেম/হুজুর খারাপ কিছু করেন তখন আপনাদের সামাজিক মানুষের মনে কোন সময় কি ভাবনার উদ্রেক হয়েছিল????
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ঢালিউড


আরও
আরও পড়ুন