Inqilab Logo

বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৩ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

পাকিস্তান ‘লাল তালিকায়’ থাকলেও অ্যাম্বারে উন্নীত ভারত

এমপিদের প্রবল সমালোচনার মুখে ব্রিটিশ সরকার

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৬ আগস্ট, ২০২১, ১২:২০ এএম

ব্রিটিশ আইন প্রণেতারা গতকাল তাদের সরকারের ‘ভয়াবহ’ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন যাতে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য তার ‘লাল তালিকায়’ রাখা হয়েছে, কিন্তু কোভিড-১৯ পরিস্থিতি আরো গুরুতর হওয়া সত্তে¡ও ভারতকে ‘অ্যাম্বার তালিকায়’ উন্নীত করা হয়েছে। অথচ করোনাভাইরাসের ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট ভারতেই প্রথম ধরা পড়ে।
যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য একটি ‘ট্রাফিক লাইট’ সিস্টেম পরিচালনা করে, যেখানে কম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো কোয়ারেন্টাইনমুক্ত ভ্রমণের জন্য সবুজ তালিকাভুক্ত, মাঝারি ঝুঁকির দেশগুলো অ্যাম্বার তালিকাভুক্ত এবং বেশি ঝুঁকির দেশগুলো লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। লাল তালিকায় থাকা দেশগুলো থেকে আগতদেরকে হোটেলে ১০ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানকে লাল তালিকায় রাখা হয়েছিল এবং গত ১৯ এপ্রিল ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ এবং ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের উত্থানের কারণে ভারতকেও একই তালিকায় রাখা হয়। ব্রিটিশ সরকার জারি করা ভ্রমণ তালিকাগুলোর নতুন আপডেটে বাহরাইন, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে ভারতকেও গত রোববার থেকে অ্যাম্বার তালিকায় স্থানান্তরিত করা হয়।
এ ঘটনার সমালোচনা করে ব্র্যাডফোর্ড ওয়েস্ট আসনের সংসদ সদস্য নাজ শাহ বলেছেন যে, তিনি এ পদক্ষেপে ‘অবাক’। তিনি বলেন, এটি প্রথমবারের মতো নয় যে, যুক্তরাজ্য তার কোয়ারেন্টাইন ট্রাফিক লাইট সিস্টেম পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘কুরুচিপূর্ণ আচরণ’ প্রদর্শন করেছে। তিনি প্রশ্ন করেন, কেন গত ৭ দিনে প্রতি ১০ হাজারে ১৪ জন সংক্রমিত হওয়া সত্তে¡ও পাকিস্তান এখনও লাল তালিকায় রয়েছে। অথচ, একই সময়ে প্রতি ১০ হাজার জনে ২০ জন সংক্রমিত হওয়া সত্তে¡ও ভারতেকে অ্যাম্বার তালিকায় উন্নীত করা হয়েছে? এ সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে তিনি বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করার অঙ্গীকার করেন।
বোল্টন দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার এমপি ইয়াসমিন কুরেশিও উল্লেখ করেছেন যে, ‘উদ্বেগের কোন রূপ না থাকা সত্তে¡ও পাকিস্তান লাল তালিকায় রয়ে গেছে।’ তিনি জানান, তিনি সরকারকে প্রশ্ন করেছিলেন এবং সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু এর কিছুই হয়নি। তিনি বলেন, ‘সরকার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধার পক্ষে পাকিস্তানকে শাস্তি দিতে চাইছে। এটি পাকিস্তানের প্রতি স্পষ্ট বৈষম্য।’ এই বিষয়ে ব্রিটেনের পরিবহনমন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপসকে একটি চিঠি লিখেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
লুটন নর্থের লেবার এমপি সাওয়াহ ওয়েনও বলেন যে, সর্বশেষ পরিবর্তনের পেছনে যুক্তি বোঝা কঠিন। তিনি বলেন, ‘যখন আপনি এ রকম পরিসংখ্যান দেখেন, তখন টরি মন্ত্রীরা ভারতকে কেন অ্যাম্বার করতে যাচ্ছেন তা বোঝানোর জন্য অনেক ব্যাখ্যা করেছেন, কিন্তু পাকিস্তান এবং অন্যান্য দেশগুলো লাল তালিকায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিচ্ছিন্নভাবে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো আমরা যাদের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই তাদের জন্য কখনই ভাল নয়। এসব সিদ্ধান্তের বড় স্বাস্থ্য এবং ব্যক্তিগত পরিণতি রয়েছে।’
নতুন পরিবর্তনের অংশ হিসাবে, ব্রিটেন ফ্রান্স থেকে ইংল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ডে ফিরে আসা সম্পূর্ণ-টিকা নেয়া ভ্রমণকারীদেরকে আর কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। অতিরিক্তভাবে, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, সেøাভেনিয়া, সেøাভাকিয়া, লাটভিয়া, রোমানিয়া এবং নরওয়ে সবই ইংল্যান্ডের সবুজ তালিকায় যুক্ত হবে।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মানবাধিকার মন্ত্রী শিরীন মাজারিও যুক্তরাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছিলেন এবং এটিকে ‘রাজনীতি খেলা’ এবং পাকিস্তানকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ বছর এপ্রিলে বলেছিলাম যে, যুক্তরাজ্য সরকার কোভিড বিধিনিষেধ নিয়ে রাজনীতি করছে। কারণ, তারা পাকিস্তানের ভাল ব্যবস্থাপনার বিপরীতে ভারতে কোভিড ব্যবস্থাপনা বিপর্যয়ের সত্তে¡ও ভারতের দুই সপ্তাহ আগে পাকিস্তানকে লাল তালিকায় রেখেছিল।’ সূত্র : ডন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ব্রিটিশ


আরও
আরও পড়ুন