Inqilab Logo

বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ১৯ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

ক্রিকেট দলের অনন্য সাফল্য

| প্রকাশের সময় : ৮ আগস্ট, ২০২১, ১২:০৪ এএম

ক্রিকেটের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার সাথে প্রথম দ্বিপাক্ষিক টি-২০ সিরিজ জিতে এক অনন্য সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। পাঁচ ম্যাচে সিরিজের প্রথম তিনটিতে জিতে সিরিজ জয় করে তারা দেশের ক্রিকেটে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছে। করোনার এই দুঃসময়ে দেশের ভারাক্রান্ত মানুষকে কিছুটা হলেও আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়েছে দেশের তরুণ ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটারদের এই অসামান্য অর্জন দেশের ক্রিকেটের উন্নতি ও অগ্রযাত্রারই স্মারক হয়ে থাকবে। ক্রিকেট বিশ্বে যে আমরা এখন আর দুর্বল প্রতিপক্ষ নই, আমাদের খাটো করে দেখার সুযোগ নেই, বরং সমান তালে আমরা লড়তে পারি এবং যে কাউকে হারানোর সক্ষমতা রাখি, তা টাইগাররা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যেকোনো সংস্করণে এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচে জিতে বাংলাদেশ সিরিজ জেতার দোরগোড়ায় ছিল। তৃতীয় ম্যাচটি জিতলেই সিরিজ জেতা হয়ে যাবে, এমন এক পরিস্থিতিতে গত শুক্রবার বৃষ্টিস্নাত শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিংয়ের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে টাইগাররা সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে। এই বিজয়ে আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, কোচ, নির্বাচকসহ সকলকে অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাই।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি ও অগ্রগতি বিস্ময় জাগানিয়া। বিগত এক দশকে বিশ্বের পরাশক্তিধর ক্রিকেট দলগুলোকে ধারাবাহিকভাবে হারিয়েছে টাইগাররা। শুধু তাই নয়, সিরিজ জেতার পাশাপাশি হোমগ্রাউন্ডে নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ের মতো দলকে হোয়াইট ওয়াশ করার নজির স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জয় যে এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং জয়কে অভ্যাসে পরিণত করা ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখার মতো, তা ক্রিকেট বিশ্ব এখন ভালোভাবেই অবগত। গত মাসে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে সফর করে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজ জয় করেছে। দেশে ফিরেই তারা অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছে। করোনা সুরক্ষা বলয়ে অনেকটা বন্দিদশার মধ্যে থেকে শারিরীক ফিটনেস ধরে রেখে এবং মানসিক চাপ সামলে ক্রিকেটারদের এখন খেলতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে যে ধরনের মানসিক শক্তি ও দৃঢ়তা থাকা প্রয়োজন তা দেশের ক্রিকেটাররা বিগত এক মাসের বেশি সময় ধরে দেখিয়ে আসছে। সবচেয়ে বড় কথা, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সিরিজ জিতেছে কয়েকজন নিয়মিত, অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য সিনিয়র ক্রিকেটকে বাইরে রেখে। তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিমের মতো বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার এ দলে নেই। তাদের পরিবর্তে তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, সুযোগ পেয়েই আফিফ, নুরুল হাসান, শামীম, শরিফুলরা মাহমুদউল্লাহ ও সাকিবদের পাশাপাশি ব্যাটিং-বোলিংয়ে অসাধারণ পারফরমেন্স দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিততে ভূমিকা রেখেছে। সুযোগ পাওয়া এই তরুণরা প্রতিভার দ্যুতি ছড়াতে থাকে জিম্বাবুয়ে সফর থেকে। সেই ধারাবাহিকতা তারা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ধরে রেখেছে। তরুণদের এই বিশ্বমানের পারফরমেন্স থেকে এটাই প্রমাণিত হয়, দেশের ক্রিকেট ক্রমাগত উন্নতি লাভ করছে। ক্রিকেটের অন্তর্গত শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অভিজ্ঞদের ছাড়াও যে ম্যাচ ও সিরিজ জেতা যায়, এমন মানসিক দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্ব তরুণদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে দলে জায়গা করে নেয়ার ক্ষেত্রে এক ধরনের প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে। অভিজ্ঞরা যেমন জায়গা ধরে রাখতে ভাল খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সচেষ্ট হবে, তেমনি তরুণরাও ভালো খেলে অবস্থান পাকাপোক্ত করতে এতটুকু ত্রুটি করবে না। এ প্রতিযোগিতা দেশের ক্রিকেটকে আরো শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, দেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য প্রয়োজন বিশ্বমানের অবকাঠামোসহ ক্রিকেটারদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা। বাংলাদেশ সরকার ও ক্রিকেট বোর্ড এ কাজটি অত্যন্ত সাফল্যের সাথে করেছে। বিশ্বমানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ফিটনেস সেন্টার, অনুশীলনের ইনডোর সুবিধাসহ উঁচুমানের প্রধান কোচ, বোলিং কোচ, ফিল্ডিং কোচ, ফিজিওসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে। এসব সুবিধার সুফল একের পর এক জয়ের মধ্য দিয়ে পাওয়া যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের টি-২০ সিরিজ জয় নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক ঘটনা। তবে এ জয়কে প্রথম এবং শেষ বলে ধরা যাবে না। ক্রিকেট দলকে এ জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। প্রতিপক্ষ যেই হোক, জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে। এক্ষেত্রে পেশাদারি মনোভাবের বিকল্প নেই। বিশ্বের যে দেশে এবং যে পিচেই খেলা হোক না কেন, তার পরিবেশ এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে জয়ের জন্য খেলতে হবে। এ মাসের শেষের দিকে ক্রিকেটের আরেক পরাশক্তি নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে। আমরা আশা করি, জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে নিউজিল্যান্ডকেও বাংলাদেশ হারাতে সক্ষম হবে। সামনে টি-২০ বিশ্বকাপ। জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জেতা এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিততে পারলে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যেকোনো দলের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠবে। বলা বাহুল্য, টি-২০ ক্রিকেটের এমনই একটি সংস্করণ যেখানে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ বলে কাউকে নির্দিষ্ট করে ধরা সম্ভব নয়। এখানে কে র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে, কে তলানিতে তা খুব একটা কাজে আসে না। যে কেউ জিততে পারে। আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ১০ নম্বরে থেকেও ৫ নম্বর র‌্যাংকিংয়ের অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে। বাংলাদেশ যেভাবে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে, তা অব্যাহত রাখতে পারলে বিশ্বকাপে যেকোনো দলকে হারিয়ে ভাল ফলাফল করা অসম্ভব কিছু নয়।

 

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ক্রিকেট দল
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ