Inqilab Logo

বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ১৯ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

আজান ইসলামের প্রতীক

খালেদ সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী | প্রকাশের সময় : ১১ আগস্ট, ২০২১, ১২:০১ এএম

ভোরের আজানে মানুষের ঘুম ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ আমাদের দেশের এক শ্রেণির লোকের মধ্যে যেমন রয়েছে, তেমনি এটা প্রতিবেশী ভারতের কোনো কোনো রাজ্যেও কিছু দিন আগে তীব্র আকার ধারণ করেছিল। তখন সেখানকার মুসলমানগণ আজানবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সে প্রতিবাদ সমালোচনা অনেকের প্রত্যক্ষ করার কথা। আমরা সেসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি না করে আজান সম্পর্কে দুই একটি হাদীসের মধ্যে আমাদের আলোচনা সীমিত রাখতে চাই।

কোরআন ও হাদীসে অসংখ্য স্থানে শয়তানের প্ররোচণা-প্রতারণার বিবরণ রয়েছে এবং সেগুলোতে আজানের ক্ষেত্রে শয়তানের পরাজিত ভ‚মিকার বিষয়টাও স্থান লাভ করেছে। আজানের শব্দ শুনে শয়তান দিশেহারা হয়ে কীভাবে পলায়ন করে, সে সম্পর্কে রসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আজানের আওয়াজ শুনে শয়তান পীঠ ফিরিয়ে পলায়ন করতে থাকে, বায়ু (পাদ) নির্গত হতে থাকে। আজানের পর সে আবার প্রত্যাবর্তন করে। এরপর যখন ইকামত বলা হয়, আবার ফিরে আসে এবং নামাজীদের অন্তরে নানা কুমন্ত্রণা দিতে থাকে, যাতে নামাজী ভুলে যায় সে কত রাকাত নামাজ পড়েছে এবং কী পড়েছে।’ (বোখারী মুসলিম)

আজানের শব্দ শুনে শয়তানের পলায়ন করার কারণ এই যে, আজানের শব্দ শুনে সে এ কারণে পালাতে চায় যে, কেয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট তাকে যেন সাক্ষী দিতে না হয়। কেননা হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন জি¦ন, মানব এবং জমিনের প্রতিটি বস্তু- যারাই আজানের শব্দ শুনবে, সবাই সাক্ষী হবে।’

মোহাদ্দেসীন ও উলামায়ে কেরামের বিভিন্ন বর্ণনা হতে জানা যায় যে, শয়তান ও তার লাও লশকর মানুষকে সত্যের পথ হতে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য সর্বদা ব্যস্ত এবং কোফর ও বাতিলে লিপ্ত রাখার জন্য সর্ব প্রকারের অস্ত্র ব্যবহার করে থাকে। কাফের মোশরেকের কথা বাদ দিয়ে মুসলমানের ক্ষেত্রে শয়তান এতই তৎপর থাকে যে, তাদের এবাদত বন্দেগিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিতে তার সর্বশক্তি নিয়োগ করে থাকে। তাদের নিদ্রা-শয়ন, ওযু-গোসল, নামাজ এবং নামাজের বাইরে এমন কী জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সর্বাবস্থায় তাদের পেছনে লেগে থাকার বিষয় কোরআন ও হাদীস হতে জানা যায়।

‘হায়াতুল হায়ওয়ান’ গ্রন্থের বর্ণনা হতে জানা যায়, শয়তানের স্ত্রী (তর্তবা) প্রতিদিন দশটি করে ডিম দেয় এবং প্রত্যেকটি ডিম হতে সত্তরটি শয়তান (পুরুষ ও নারী) বাচ্চা জন্ম নেয়। হজরত মোজাহেদের বর্ণনা হতে জানা যায়, শয়তানের সাত ছেলের মধ্যে ‘লাকীস’ ও ‘ওয়ালহান’ নামাজীর ওযু ও নামাজে গোলমাল সৃষ্টির জন্য নিয়োজিত। অপর বর্ণনা অনুযায়ী, নামাজে সন্দেহের সৃষ্টির জন্য নিয়োজিত শয়তানের নাম ‘খিনজিব’।
ক্বারীদের সর্দার হজরত ওবাই ইবনে কাব (রহ.) বলেন, হুজুর (সা.) বলেছেন, ‘ওযুর এক বিশেষ শয়তান আছে, তার নাম ওয়ালহান। তোমরা পানির প্ররোচণা (ওজুর সময়কার ওয়াসওয়াসা) হতে বেঁচে থাকো।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজা প্রভৃতি)

নামাজের শয়তান ‘খিনজিব’ সম্পর্কে হজরত উসমান ইবনে আবিল আছ (রা.) বলেন, ‘আমি রসূলুল্লাহ (সা.) এর নিকট অভিযোগ করি যে, শয়তান আমার ও আমার নামাজের মধ্যে কেরাতে সন্দেহের সৃষ্টি করে। তার থেকে আমি কীভাবে রক্ষা পেতে পারি?’ হুজুর (সা.) বললেন, ‘এ একটি বিশেষ শয়তান, যার নাম খিনজিব। যখন তুমি তাকে অনুভব কর তখন আল্লাহর কাছে তার থেকে পানাহ চাও এবং পাঠ কর আউজুবিল্লাহি মিনাশশাইত্বনির রাজিম এবং তোমার বাম দিকে তিনবার থুতু কর।’ (মুসলিম, নাসায়ী, আহমদ প্রভৃতি)



 

Show all comments
  • আবদুল মান্নান ১১ আগস্ট, ২০২১, ১:০৭ এএম says : 1
    মুয়াজ্জিনের আজান ধ্বনি এতটাই মধুর, মুসলমানের সঙ্গে সঙ্গে অমুসলিমদের হৃদয়কেও স্পর্শ করে। আজানের মধুর কলতান বারবার শুনতে মন চায়। প্রতিবারই নতুন ভাব ও আবেগের সৃষ্টি করে। মুসলিম সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় আজানের গুরুত্ব ও অবদান অনস্বীকার্য।
    Total Reply(0) Reply
  • এনায়েতুল্লাহ ১১ আগস্ট, ২০২১, ১:০৫ এএম says : 1
    আজান আল্লাহতায়ালার একত্ববাদ ও তাওহিদের মহা আওয়াজ। আজান এক বিরল জিকির। দৈনিক পাঁচবার শান্তি প্রতিষ্ঠার আহবান জানায় আজান। উচ্চৈঃস্বরে প্রচারিত আল্লাহর একত্ববাদের এই ঘোষণার মাধ্যমে সারা বিশ্বের অগণিত মসজিদের মিনার থেকে দৈনিক পাঁচবার কার্যত বান্দা মহান প্রভু আল্লাহতায়ালার বশ্যতার ঘোষণা দেয়া হয়। স্বীকার করা হয় আল্লাহর বড়ত্বের। মনে গভীর থেকে পরম বিশ্বাসের সঙ্গে স্বাক্ষ্য দেয়া নবী করিম (সা.)-এর নবুওয়তের।
    Total Reply(0) Reply
  • মনিরুজ্জামান ১১ আগস্ট, ২০২১, ১:০৪ এএম says : 1
    মসজিদের মিনার থেকে দৈনিক পাঁচবার সুললিত কণ্ঠে ভেসে আসে আজানের সুমধুর ধ্বনি। মনোমুগ্ধকর সেই সুরলহরি মানুষকে সুরভিত করে এক নির্মোহ আনন্দে। আহ্বান করে শাশ্বত সুন্দর, কল্যাণ ও চিরন্তন সফলতার দিকে। এ ডাক ধনী-গরিব, সাদা-কালো, উঁচু-নিচু, কৃষক-শ্রমিক সবাইকে একাকার করে দেয় মাবুদের কুদরতি চরণে।
    Total Reply(0) Reply
  • নাবিল আব্দুল্লাহ ১১ আগস্ট, ২০২১, ১:০৬ এএম says : 1
    আজানের মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদের আওয়াজ মানুষের কর্ণকূহরে পৌঁছানোর মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর অনুগতশীলদের মিছিলে যোগ দেয়ার আহবান জানানো হয়। যে আহবানের পরতে পরতে রয়েছে শান্তি প্রতিষ্ঠা প্রত্যয় ও ঘোষণা।
    Total Reply(0) Reply
  • বুলবুল আহমেদ ১১ আগস্ট, ২০২১, ১:০৬ এএম says : 1
    আজান মূলতঃ নির্ভেজাল তাওহিদের ঘোষণা। আজানের মধ্যে আল্লাহর পরিচয় নিহিত। আসলে আল্লাহ মানুষের প্রভু, আল্লাহ আমাদের আইনদাতা, বিধান দাতা। এটা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়া হয় বারবার আজানের মাধ্যমে। আর এভাবেই সারা বিশ্বে যুগ যুগ ধরে উচ্চ আওয়াজে প্রচারিত ইসলামের নির্যাস ও বার্তা বিঘোষিত হয়ে আসছে আজানের মাধ্যমে।
    Total Reply(0) Reply
  • জান্নাতুল ফেরদাউস নূরী ১১ আগস্ট, ২০২১, ১:০৮ এএম says : 1
    আজান ইসলামের অন্যতম নিদর্শন বা প্রতীক।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইসলাম

২৪ অক্টোবর, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন