Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩ কার্তিক ১৪২৮, ১১ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

শতভাগ কাজ শেষ না হলেও চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পের সমাপ্তি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : | প্রকাশের সময় : ১৭ আগস্ট, ২০২১, ১২:০১ এএম

চামড়া শিল্পের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে সাভারে গড়ে উঠেছে আধুনিক চামড়া শিল্পনগরী। প্রত্যাশা ছিল সাভারে কারখানাগুলো উৎপাদনে গেলে রফতানি আয় বাড়বে। কিন্তু শতভাগ কাজ শেষ না হলেও ১৯ বছর পর চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পের সমাপ্তি টানল সরকার। সিইটিপিসহ টেকনিক্যাল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কোম্পানিকে। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে, সংস্কার ও বাকি কাজগুলোর জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ লাগবে। তবে অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ, অন্যতম রফতানি খাত হওয়ায় সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এ খাতকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে আনতে হবে। তারা বলছেন, চামড়াশিল্পের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেজা ও বেপজার মতো চামড়া খাতকেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্পৃক্ত করতে পারলে রফতানি আয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
জানা গেছে, পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরী গড়ে তুলতে সাভারের হেমায়েতপুরে ধলেশ্বরীর পাড়ে ২০০৩ সালে একটি প্রকল্প নেয় সরকার। সম্পূর্ণ কাজ তিন বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সংশোধনী আনা হয় চারবার। অবশেষে প্রায় ১৯ বছর পর প্রকল্পের সমাপ্তি টানা হয় চলতি বছরের জুনে। যদিও এখনো শতভাগ কাজ শেষ করতে পারেনি বিসিক। তবে এরই মধ্যে জুলাই থেকে সিইটিপি, ট্যানারিগুলোতে পানি সরবরাহ ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়া হয়েছে কোম্পানির কাছে। ট্যানারি মালিকদের অর্থায়নে কোম্পানিটি পরিচালনার জন্য গঠন করা হয়েছে চামড়া শিল্পনগরী সংশ্লিষ্ট সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও ট্যানারি ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে ১৩ সদস্যের বোর্ড।
শিল্পনগরীর দায়িত্বভার কোম্পানির হাতে ন্যস্ত হলেও সিইটিপিসহ অনেক স্থাপনাই বিএমআরইর মাধ্যমে শতভাগ কার্যকর করতে হবে মনে করে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট নির্মাণে পুনরায় টাকা কোম্পানিকে ফিরে দেওয়ার দাবি জানান সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাখায়াত উল্লাহ। তিনি বলেন, কোম্পানির জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এ কারণে কোম্পানি এটা নিয়ে খুব হতাশ। এখানে এক সময় কিছু টাকাও বরাদ্দ ছিল। কিন্তু এ কাজটা শেষ না করে বিসিক টাকাটা ফেরত দিয়ে দেয়।
এদিকে, পরিবেশবান্ধব না হওয়া ও কমপ্লায়েন্স সুবিধা না থাকায় বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ, এলডবিøউজির সার্টিফিকেট পাচ্ছে না চামড়া শিল্পসংশ্লিষ্টরা। অবস্থার উত্তরণে অস্থায়ী কোনো কোম্পানি নয়, স্থায়ী সমাধানে একটি রোডম্যাপ করতে হবে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, সাসটেনঅ্যাবল ডেভেলপমেন্ট গোলসের ক্ষেত্রে আমরা কিন্তু একটা অ্যাকশন প্ল্যান ডেভেলপ করেছি। ঠিক আমি মনে করি, চামড়া খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে একটা স্থায়ী সমাধান দরকার।
সূত্রে জানা গেছে, এখনো নানা জটিলতায় জর্জরিত সাভার শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার। পুরোপুরি চালু হয়নি সেট। ট্যানারিগুলো বর্জ্য খোলা আকাশের নিচে ফেলছে। সেটা গিয়ে মিশছে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর পানিতে।
এ প্রসঙ্গে বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্টের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী ফেরদাউস আরা বেগম জানিয়েছেন, চামড়া শিল্পের খবরে যে ছবিগুলো আমরা দেখি সেগুলো বেশ করুণ। অপরিচ্ছন্ন, জীর্ণ দিনমজুররা অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে হাঁটাচলা করছেন লালবাগ-পোস্তা এবং অন্যান্য জায়গায়। তারা যে খুব শিগগিরই অসুস্থ হয়ে পড়বেন, এতে সন্দেহ নেই। সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের অনুরোধ করতে চাই- অন্তত খালি পায়ে এদের কাজ করতে যেন না দেওয়া হয়। হাতে যেন অন্তত একজোড়া গ্লাভস থাকে।
চামড়া খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, সাভার চামড়াশিল্প পার্কের জন্য লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডাবিøউজি) সনদ ছাড়া বিশ্ববাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারবেন না তারা। ‘ইন দ্য শেডো অব দ্য পেনডেমিক : ইমপ্লিকেশন অ্যান্ড রিকয়ার্ড অ্যাকশন’ শিরোনামে ইআরডির গবেষণায় বলা হয়, শীর্ষ দশ রফতানি গন্তব্যের সম্ভাবনা ধরতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। এমনকি কিছু কিছু বাজারের অর্ধেক সুযোগ এখনো কাজে লাগানো যায়নি। এ কারনে চামড়া রফতানি আয় কমছে।
জানা গেছে, মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) চামড়ার অবদান এখন মাত্র শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রম জরিপের তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালে এ খাতে শ্রমিক ছিল এক লাখ ২৯ হাজার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যে দেথা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি আয় ছিল ১১২ কোটি ডলার। ২০১৬-১৭ তে এসে তা বেড়ে ১২৩ কোটি ডলার হয়। পরের দুই অর্থবছরে চামড়া শিল্পের রফতানি আয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১০৮ কোটি ডলার ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে হয় ১০২ কোটি ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে আরো কমে ৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ডলারে নেমে আসে। অবশ্য সদ্য সমাপ্ত ২০২০-২১ অর্থবছরের এ খাত থেকে আয় হয়েছে ৯৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৮ দশমিক ছয় শতাংশ বেশি। জানা গেছে, বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের প্রধান বাজার ইউরোপ। সেখানকার করোনার প্রাদুর্ভাব কমলে ফিরে আসতে পারে চামড়ার সুদিন। তখন আবার বাড়বে চামড়ার দাম।#



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চামড়া শিল্প


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ