Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০২ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

দেশের সব পর্যটন কেন্দ্র খুললেও আপাতত খুলছে না সুন্দরবন

খুলনা ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০২১, ৬:২৮ পিএম

করোনা ভয়াবহ বিস্তারের সময় দেশের সব পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে সব উন্মুক্ত করা হয়েছে। তবে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন পর্যটকদের জন্য খোলা হয়নি। বন বিভাগ বলছে, আপাতত সুন্দরবনে পর্যটকেরা প্রবেশ করতে পারবেন না কারণ পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা এখনো বনবিভাগ পায়নি।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ থেকে ৩১ অক্টোবর সুন্দরবনে লকডাউন জারি করা হয়। নভেম্বরে তা সাময়িক প্রত্যাহারের পর গত ৩ এপ্রিল আবার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যা এখনো কার্যকর রয়েছে। এছাড়া গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মৎস্য, কাঁকড়া আহরণ নিষিদ্ধ রয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পর্যটকরাও রয়েছেন।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন বলেন, দেশের সকল পর্যটন কেন্দ্র খুললেও সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র আপাতত খুলছে না। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সকল প্রকার মৎস্য ও কাঁকড়া শিকার বন্ধ রাখার ঘোষণা রয়েছে আগে থেকেই। ফলে ১ সেপ্টেম্বরের আগে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র খোলার সম্ভাবনা নেই।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাছের প্রজনন মৌসুম। তবে এবার জুন মাস থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মৎস্য শিকার ও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর থেকে মৎস্য শিকারের জন্য পাশ পারমিট দেয়া হবে। তবে পর্যটন কেন্দ্র খোলার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত আসেনি।

খুলনা আঞ্চলিক বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে সুন্দরবন খোলার ব্যাপারে কোন নির্দেশনা আমরা এখনও পাইনি। সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ হয়েছিল পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায়। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আসলে পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেয়া হবে।

এদিকে ট্যুর অপারেটর এ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আযম ডেভিড বলেন, সংগঠনের তালিকাভুক্ত ৬৩টি ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পর্যটন বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলেই দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। আর্থিক সংকটে সবাই মানবেতর জীবন যাপন করছে।

প্রসঙ্গত, সুন্দরবনে উল্লেখযোগ্য সাতটি পর্যটন কেন্দ্র বা স্পট রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলার চর, নীল কমল (হিরণ পয়েন্ট) ও কলাগাছিয়া। নতুন চারটি পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে সুন্দরবনের এই সাতটি পর্যটন স্পটে দুই লাখ ৫১ হাজার পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন। ওই অর্থ বছরে সরকার সুন্দরবনের পর্যটন খাত থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সুন্দরবন


আরও
আরও পড়ুন