Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

বরিশালে পুলিশ-আলীগ সংঘর্ষের উত্তাপ ছড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যমেও

ইউএনও’র বাসভবনে হামলার ভিডিও ভাইরাল

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ আগস্ট, ২০২১, ১০:২১ পিএম

বরিশালে পুলিশের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের উত্তাপ ছড়িয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে জাতীয় শোক দিবসের ব্যানার খোলাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই সংঘর্ষ নিয়ে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের এমন মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা। প্রশাসন-সরকারি দল দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়েও ক্ষোভ জানাতে দেখা যায় অনেককে।

বরিশাল সদরের ইউএনও মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে গতকাল বুধবার রাতে হামলার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি ছোঁড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহসহ অন্তত ৩০ জন।

ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে হামলার সিসি টিভি ক্যামেরার একটি ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় মুনিবুর রহমানের বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে তারা গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। চার আনসার সদস্য তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এই পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে এক আনসার সদস্যকে অস্ত্র তাক করে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। এই ঘটনায় দুটি মামলায় আওয়ামী লীগের ৩০ জন নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফেসবুকে আইয়ুব সরকার লিখেছেন, ‘‘ইউএনও বলেন আর পুলিশ বলেন তাদের সকলের উচিত পদবী ও মর্যাদা চিন্তা করে সরকার দলীয় লোকদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত না হয়ে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করা.. সরকার দলীয় লোক জন সুবিধা নিবে এবং চাইবে এটা স্বাভাবিক ব্যাপার বাট তাদের বেশী মিশে গেলেন ত ফেঁসে গেলেন...।এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোর জন্য অবশ্যই প্রশাসন এর লোকদেরকে নিজেদের মর্যাদার কথা ভেবে সব সময় কিছু গ্যাপ রেখে কাজ করতে হবে...।’’

মশির আহমেদের মন্তব্য, ‘‘#এবার_ঠেলা_সামলাও। গত ১৭ ই আগষ্টে শহীদ জিয়ার মাঝারে ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ শান্তি পূর্ণ ভাবে মাঝার জিয়ারত করা অবস্থায় যে ভাবে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের পেটুয়া বাহিনী শান্তি প্রিয় নেতাকর্মীদের উপর বর্বরোচিত নগ্ন হামলা করেছে তখন জুলুমশাসকের যে আনন্দ লেগেছে, আজ আল্লাহ পাক তার বিচার করে বুঝিয়ে দিয়েছে।’’

মিন্টু মহন লিখেছেন, ‘‘সমস্যা হচ্ছে ইউএনও অফিসের পিয়ন , ড্রাইভার ও নিজেকে ইউএনও মনে করে ডিসি অফিসের পিয়ন নাইটগার্ড ও নিজেকে ডিসি মনে করে । এজন্য হয়তো এই সমস্যাগুলো হয়েছে । এরা যদি ভালোভাবে বলতো কিংবা বুঝাতো তাহলে এ ধরনের ঘটনার সৃষ্টি হতো না।’’

এম এ নওয়াজ লিখেছেন, ‘‘শোকের মাসে আরেক ১৫ ই আগষ্ট সৃষ্টি করতে চাওয়া এগুলো কিসের আলামত...? মাননীয় মেয়র যুবরত্ন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ভাই ও দলীয় নেতাকর্মীদের উপর অমানবিক নিষ্ঠুর নির্যাতন ও গুলিবর্ষণের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’’

মোঃ ফখুরল লিখেছেন, ‘‘বিএনপি হলে এতক্ষণে ১০০০ নেতা কর্মী এবং অজ্ঞাত আরো ২০০০ এর নামে মামলা হতো এবং পুলিশ এর মার খেয়ে মিনিমাম ৫০-১০০ জন হসপিটাল যাওয়া লাগতো।’’

রাবেয়া তাবাচ্ছুম লিখেছেন, ‘‘আইন সবার জন্য সমান। কেউ যদি অপরাধ করে তাহলে তাকে তার উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করতে হবে এটাই স্বাভাবিক। এখন সে ছাত্রলীগ করুক আর যাই করুক তা দেখা হবে বলে আমার মনে হয় না।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ