Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে হুয়াওয়ের অবস্থান লক্ষনীয়

প্রকাশের সময় : ৪ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

শওকত আলম পলাশ

চীনের তৈরি বিভিন্ন জিনিস নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষের সীমা নেই। ছোট্ট সুই থেকে শুরু করে সবধরনের পণ্য তৈরি করে চীন। বিশ্বের প্রায় সবকটি দেশ কোনো না কোনোভাবে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত। এমনকি এমন অনেক দেশ আছে বিশেষ করে অনেক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান আছে যারা চীনের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবহৃত পণ্য মোবাইল ফোনের কথাই ধরা যাক। অ্যাপলের আইফোন থেকে শুরু করে ভারতের মাইক্রোম্যাক্স পর্যন্ত চীনে তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ব্রাজিল, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশে জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য চীনে তৈরি হয়ে থাকে। চীন একমাত্র দেশ যেখানে প্রতিষ্ঠানের চাহিদা ও বাজেট অনুযায়ী পণ্য তৈরি করে দিতে সক্ষম চীন। কম বাজেটের পণ্যের মান খুব একটা ভালো হবে না এটাই সাধারন। আর এ কারণেই চীনের পণ্য খারাপ বলে অনেকে অভিযোগ করে। কিন্তু চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্যের দিকে যদি যাচাই করে দেখা হয় তখন কিন্তু ঘটনা উল্টো। এমনই এক চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরো বিশ্বে এখন হুয়াওয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। পণ্যের মান যদি ভালো না হতো তবে এ অবস্থানে উঠে আসা কখনই সম্ভব হতো না। এখন আসা যাক সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি অভিনব ঘটনায়। চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের তৈরি মোবাইল ৯এমএম বুলেট আটকে দিয়েছে! সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবে হলেও সত্যি যে, দক্ষিণ আফ্রিকার এক ব্যবসায়ীর প্রাণ বাঁচিয়েছে হুয়াওয়ের তৈরি একটি মোবাইল। ঘটনাটি ঘটেছে দেশটির কেপ টাউন শহরে। জানা যায়, একটি মিটিং শেষ করে ফিরছিলেন ঐ ব্যবসায়ী। শহরের বাইরে রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়েছিলেন তিনি। সে সময় হঠাৎ এক বন্দুকধারী ডাকাত তাঁর সামনে এসে সরাসরি গুলি চালিয়ে দেন। ব্যবসায়ির পড়নে থাকা স্যুটের পকেটে সে সময় রাখা ছিল হুয়াওয়ের পি এইট লাইট মডেলের স্মার্টফোন। আশ্চর্যজনকভাবে খুব কাছ থেকে চালানো ৯এমএম পিস্তলের গুলি আটকে দেয় মোবাইলটি। ফলে প্রাণে বেঁচে যান ঐ ব্যবসায়ী। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে মোবাইলটি সম্পূর্ণ প্লাস্টিক বডির তৈরি। কিন্তু তারপরও কীভাবে ঐ বুলেট আটকে দিল সেটা ভেবেই অবাক সকলে। ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর সংস্থার পক্ষ থেকে ওই ব্যক্তিকে নতুন একটি পি নাইন লাইট ফোন উপহার হিসাবে দেয়া হয়। এর ফলে আর কিছু না হোক, দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে চীনের তৈরি দ্রব্যের চাহিদা বেশ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পণ্য নিয়ে গবেষণা, গ্রাহকের চাহিদা ও বাজেট এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে হুয়াওয়ে তৈরি করে থাকে তাদের প্রতিটি পণ্য। যদিও ৯এমএম বুলেট আটকিয়ে দেয়ার মতো ক্ষমতাশীল পণ্য নিয়ে হুয়াওয়ে কাজ করেনি। কিন্তু পণ্যের মান এই ঘটনার মাধ্যমে সহজেই যাচাই করা যায়। হুয়াওয়ে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একটি ডিভাইস বাজারে ছাড়ে। যন্ত্র-প্রকৌশল বিভাগে প্রতিটি ডিভাইসের হাজারবারের উপর ড্রাম টেস্ট, ৫০০ রাউন্ড টুইস্ট টেস্ট, ৭০ কেজি ওজনের হার্ডওয়্যার ক্ষমতা এবং ২০০০ রাউন্ড সফটওয়্যার পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া পরিবেশের কারণে যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সে উদ্দেশ্যে ৭২ ঘন্টা সৌর বিকিরণ পরীক্ষা, ৪৮ ঘন্টা ঠান্ডা ও গরম পরিবেশে রেখে পরীক্ষা, আট ঘন্টা লবণাক্ত তরল স্প্রে পরীক্ষা, ডাম্প হিট টেস্ট, কম্পন পরীক্ষা এবং পানিরোধক পরীক্ষা করে থাকে হুয়াওয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে সক্ষমতার সঙ্গে ডিভাইস ব্যবহার করতে পারার জন্য ৮০০,০০০ টাচ স্ক্রীণ টেপ, ২০০,০০০ কী টাচ, ৫০০০ হেডফোন প্লাগ-ইন এবং ১০,০০০ বার ইউএসবি প্লাগ-ইন করা হয়ে থাকে। বিশ্বজুড়ে ডিভাইস পরীক্ষায় উক্ত পরীক্ষাগুলো উন্নতমান বজায় রাখার ক্ষেত্রে একক উচ্চতায় নিয়ে গেছে হুয়াওয়েকে। হেডফোন জ্যাক পরীক্ষার পাশাপাশি চার্জিং পোর্ট, সিমকার্ড স্লট, নেটওয়ার্ক এবং এসএআর ল্যাবরেটরি টেস্ট (ফোরজি নেটওয়ার্ক টেস্ট) করে হুয়াওয়ে। হিউম্যান রেডিয়েশনের কারণে মানবদেহে যাতে কোনো ক্ষতি না হয় তাই সফল পরীক্ষার পর প্রতিটি ডিভাইসের জন্য ইউএস এফসিসি সনদ গ্রহণ করে থাকে চীনা প্রতিষ্ঠানটি।



 

Show all comments
  • Himu ৪ অক্টোবর, ২০১৬, ১১:০৭ এএম says : 2
    Baje phone. Amarta nosto hoye geche
    Total Reply(0) Reply
  • MC Omar Faruk ১৫ অক্টোবর, ২০১৬, ১১:৩০ পিএম says : 0
    Amar bondhu akta kince..........motamuti valoi.....kharap na
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।