Inqilab Logo

বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১১ কার্তিক ১৪২৮, ১৯ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

শুকিয়ে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বহু এলাকা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ আগস্ট, ২০২১, ১২:০৩ এএম

একসময় পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত ছিল ইরানের উর্মিয়া হ্রদের ছোট দ্বীপগুলো। মাত্র দুই দশক আগেও উর্মিয়া ছিল মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম পর্যটক মুখরিত হ্রদ। অথচ আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে হ্রদটি শুকিয়ে লবণাক্ত সমতলভূমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে এবং ফেরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন। ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান অঞ্চলের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, উর্মিয়া হ্রদটি পাঁচ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার (দুই হাজার ৮৫ বর্গমাইল) থেকে শুকিয়ে মাত্র দুই হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটার (৯৬৫ বর্গ মাইল) হয়ে গেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, হ্রদটি পুরোপুরি শুকিয়ে যেতে পারে। ইরানের মতো মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও একই সমস্যা দেখা দিয়েছে। বস্তুত দেশগুলোতে পানির সরবরাহ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই অঞ্চলটি বেশ কিছুদিন ধরে বিরামহীন খরা ও উচ্চ পর্যায়ের তাপমাত্রার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের বৈরী পরিবেশে জীবনধারণ করা প্রায় অসম্ভব। আবহাওয়া পরিবর্তন, পানির অব্যবস্থাপনা ও অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ভবিষ্যতে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। ওয়াটার রিসোর্সেস ইন্সটিটিউটের (ডব্লিউআরআই) পরিচালক চার্লস আইসল্যান্ড জানান, খাদ্য উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তোলার উদ্দেশে ইরান, ইরাক ও জর্ডানসহ কিছু মধ্যপ্রাচ্যের দেশ প্রচুর পরিমাণে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে জমিতে সেচ দিচ্ছে। একইসঙ্গে অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও কমে গেছে। চার্লস বলেন, বৃষ্টিপাতের মাধ্যমে যে পরিমাণ পানি ভূগর্ভে প্রবেশ করছে, তার চেয়েও অনেক বেশি পানি তারা ব্যবহার করছেন। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে, কারণ সেখানে যে গতিতে পানি জমা হয়, তার চেয়েও অনেক দ্রুত পানি তুলে ফেলা হচ্ছে। ইরানের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, উর্মিয়া হ্রদ ছোট হয়ে যাওয়ার পেছনে আবহাওয়া পরিবর্তনের অবদান ৩০ শতাংশেরও বেশি। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হচ্ছে, এ পরিবর্তনের কারণে পানির প্রাপ্যতার পাশাপাশি এর গুণগত মানও প্রভাবিত হয়। উর্মিয়া হ্রদের পানিকে এখন বলা হচ্ছে হাইপারস্যালাইন অর্থাৎ এটি অনেক বেশি লবণাক্ত। একদিকে হ্রদটি ছোট হয়ে আসছে আর অপরদিকে এতে লবণের পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। লবণাক্ত পানি দিয়ে জমিতে সেচ দেওয়ায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কৃষকরা। মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বেশি পানি সংকটে ভুগতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে জর্ডান অন্যতম। সে দেশের মানুষ কম পানি ব্যবহার করে জীবন ধারণ করায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে। জর্ডানের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমির এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ জর্ডানের নাগরিকদের জনপ্রতি পানি ব্যবহারের পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমাতে হবে। অর্থাৎ দরিদ্রদের দিনে ৪০ লিটার পানি দিয়ে চলতে হবে। এই পরিমাণ পানি দিয়ে তাদেরকে গোসল, ধোয়ামোছা ও পান করার কাজ চালাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিক দৈনিক গড়ে ৪০০ লিটার বা তার চেয়েও বেশি পানি ব্যবহার করেন। জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞানের অধ্যাপক ড্যানিয়েল রোজেনফেল্ড বলেন, জর্ডান এখন পানির মারাত্মক সংকটে ভুগছে। জর্ডানের বাড়িগুলোতে সপ্তাহে এক বা দুইদিন পানি পাওয়া যায়, এমনকি রাজধানী আম্মানও এর ব্যতিক্রম নয়। জর্ডানের পানিসম্পদ বিভাগের মহাসচিব বাশার বাতায়নেহ সিএনএনকে জানান, দেশটিতে পানির চাহিদা মেটানোর জন্য বহির্বিশ্বের সহায়তা ও তহবিল প্রয়োজন। দেশটিতে ২০২০ সালে এর আগের বছরের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টি হয়েছে এবং এ কারণে পানীয় জলের উৎস অর্ধেকে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সিএনএন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইরান


আরও
আরও পড়ুন