Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

পাকিস্তান-ভারতের ভিসা চালু ২৮ মাস পর

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৪ আগস্ট, ২০২১, ১২:০১ এএম

ইসলামাবাদ এবং নয়াদিল্লি প্রায় ২৮ মাস পর একে অপরের কূটনীতিকদের অ্যাসাইনমেন্ট ভিসা দিয়েছে। উভয় পক্ষই ২০১৯ সাল থেকে শীতল থাকা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। ২০১৯ সালে আত্মঘাতী হামলাকারী অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (আইআইওজেকে) একটি সামরিক কনভয়ে হামলা করলে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে ও সম্পর্ক শীতল হয়ে যায়। সেই বছরের শেষের দিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত মর্যাদা প্রত্যাহার করে নিয়ে দখলকৃত ভূখন্ডের ওপর তার কর্তৃত্ব জোরদার করে। এর ফলে পাকিস্তান ক্ষুব্ধ হয় এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক অবনতি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য স্থগিত করা হয়।
সা¤প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তান এবং ভারত পরস্পরের কূটনৈতিক কর্মীদের বিপুল সংখ্যক অ্যাসাইনমেন্ট ভিসা দিয়েছে। উভয় দেশই চলতি বছরের ১৫ মার্চের মধ্যে জমা দেওয়া সমস্ত আবেদনে ভিসা দিয়েছে।
পাকিস্তান ৩৩ জন ভারতীয় কর্মকর্তাকে ভিসা দিয়েছে, আর সাতজন পাকিস্তানি কূটনীতিক ভারত থেকে অ্যাসাইনমেন্ট ভিসা পেয়েছেন।

সূত্র জানায়, ১৫ জুনের মধ্যে অ্যাসাইনমেন্ট আবেদনে ভিসা দেওয়ার ব্যাপারে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশ পরস্পরের কূটনীতিকদের আরো ভিসা দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এটি লক্ষ্য করা উচিত যে, বিশ্বের দেশগুলো ক‚টনীতিক এবং দূতাবাস কর্মীদের অন্যান্য দেশ থেকে অ্যাসাইনমেন্ট ভিসা প্রদান করে।
এ বছরের জানুয়ারিতে, দু’দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দুবাইয়ে গোপন আলোচনা করে অন্তরালে ক‚টনীতির চ্যানেলটি পুনরায় চালু করেন। যার লক্ষ্য ছিল পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য একটি পরিমিত রোডম্যাপ।

অধিকৃত কাশ্মীর হামলায় ৪৪ জন নিরাপত্তা কর্মীকে হত্যার পর পাকিস্তান ভারতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে। পরে ফেব্রুয়ারিতে, দুই দেশের সামরিক বাহিনী একটি অপ্রত্যাশিত যৌথ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে।
ওয়াশিংটনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত এপ্রিল মাসে নিশ্চিত করেছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিদ্ব›দ্বী উপসাগরীয় রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি ‘সুস্থ ও কার্যকরী’ সম্পর্ক স্থাপনে সাহায্য করার জন্য মধ্যস্থতা করছে।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির হুভার ইনস্টিটিউশনের সাথে ভার্চুয়াল আলোচনায় রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আল ওতাইবা বলেছিলেন যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ‘কাশ্মীরের উত্তেজনা কমিয়ে আনা এবং যুদ্ধবিরতি তৈরিতে ভ‚মিকা রেখেছে, আশা করি শেষ পর্যন্ত ক‚টনীতিকদের পুনরুদ্ধার করতে এবং সম্পর্ককে সুস্থ পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে হবে’।

‘তারা হয়তো সেরা বন্ধু হয়ে উঠবে না, কিন্তু কমপক্ষে আমরা এটিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই যেখানে এটি কার্যকর, যেখানে তারা একে অপরের সাথে কথা বলছে’, তিনি যোগ করেন।
চলতি বছরের মার্চ মাসে, চিফ অফ অ্যামি স্টাফ জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া ভারত ও পাকিস্তানকে ‘অতীতকে কবর দিতে’ এবং সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহŸান জানান। তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ভারতের একটি ‘অনুক‚ল পরিবেশ’ তৈরির ভার রয়েছে এবং তিনি বলেন, আঞ্চলিক দ্ব›েদ্বর অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের ভ‚মিকা রয়েছে।

জুন মাসে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছিলেন যে, একবার কাশ্মীর সমস্যা সমাধান হয়ে গেলে পরমাণু প্রতিরোধের আর প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেন, ‘কাশ্মীর নিয়ে একটি সমঝোতা হওয়ার মুহ‚র্তে, আমি বিশ্বাস করি পাকিস্তান এবং ভারত পারমাণবিক প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই সভ্য প্রতিবেশী হিসেবে বসবাস করবে’।
প্রধানমন্ত্রী ইমরান বলেন, কাশ্মীর বিরোধ, যা দক্ষিণ এশিয়ার ১শ’ ৪০ কোটি মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে, যদি আমেরিকা ‘সংকল্প ও ইচ্ছা’ দেখায় তাহলে তা নিষ্পত্তি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংকল্প ও ইচ্ছা থাকলে এই উত্তেজনাপূর্ণ [বিবাদ] সহজ হতে পারে। এটি সমাধান করা যেতে পারে’। সূত্র : এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পাকিস্তান-ভারত


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ