Inqilab Logo

সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

পরীমনি-পিয়াসা-হেলেনাদের ১৫ মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৫ আগস্ট, ২০২১, ১২:০০ এএম

সম্প্রতি মাদকসহ গ্রেপ্তার চিত্রনায়িকা পরীমণি, আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীর, প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজ, মডেল পিয়াসাসহ কয়েকজনের নামে দায়ের করা আলোচিত ১৫টি মামলার তদন্তকাজ শেষ পর্যায়ে। তদন্ত এবং পূর্ণাঙ্গ পুলিশি প্রতিবেদন দাখিলের স্বার্থেই পরীমণিকে তিন দফায় রিমান্ড চেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির প্রধান মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ সব কথা জানান।
তিনি বলেন, চিত্রনায়িকা পরীমনি, রাজ, পিয়াসা, হেলেনা জাহাঙ্গীরসহ বিভিন্নজনের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা সিআইডির তদন্তে আছে। মামলাগুলো এখনো তদন্তাধীন। তবে আমরা মামলার তদন্ত কাজ অনেকাংশে গুছিয়ে এনেছি। কিছু ফরেনসিক প্রতিবেদন এখনো বাকি আছে। সব হাতে এলে আমরা এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া শুরু করতে পারব। আসামিদের অপরাধলব্ধ আয় আছে কি না, সেটিও যাচাইবাছাই করছে সিআইডি। বেশ কয়েকজন আসামির আর্থিক হিসাব জানার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে।
পরীমনিকে তিন দফা রিমান্ডে নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থেই পরীমণিকে রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হয়। পরীমণির দেয়া তথ্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল। এসব তথ্য যাচাইবাছাইয়ের জন্য পুনরায় পরীমণিকে রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়। তার কাছে মাদক কীভাবে এলো, কারা দিলো, কী উপায়ে এলো। এসব তথ্য জানার পর আমরা কিন্তু আর পরীমণিকে রিমান্ডে চাইনি। কিন্তু তদন্ত ও যাচাই করতে গিয়ে দেখি পরীমণির দেওয়া সেসব তথ্যের অনেক কিছুই মিথ্যে বা ভুল।
পরীমণি বা পিয়াসাদের বাসায় মদ বা মাদক রাখার বিষয়ে সিআইডি কী ধরনের তথ্য পেয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মাদক মামলার আলামত তো পজিশনেই পাওয়া গেছে। সেগুলো আদৌ মাদক কি না তা জানতে কেমিক্যাল ও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে।
একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে পরীমণির ছবি স¤প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেছে। এই বিষয়ে সিআইডি তদন্ত করছে কি না, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন কি না? জানতে চাইলে সিআইডি প্রধান বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে যাকে প্রয়োজন তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করি। এখন পর্যন্ত পরীমণির মাদক মামলায় যাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল তাদের ডেকেছি, জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। আপাতত পরীমণিসহ ১৫ মামলায় আর কাউকে ডাকা আর জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। পরে যদি বিষয়টি অন্য কোনোদিকে টার্ন নেয় বা মানি লন্ডারিং মামলার কোনো বিষয় আসে তা ভিন্নভাবে দেখা হবে। প্রয়োজনে ডাকা হবে। তবে আপাতত কাউকে ডাকা বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না।
গত ২৯ জুলাই গুলশানের বাসা থেকে আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীরকে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর ১ আগস্ট বারিধারা ও মোহাম্মদপুরে অভিযান চালিয়ে কথিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে শরফুল হাসান ও মাসুদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গত ৪ আগস্ট পরীমণিকে তার বনানীর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। একই দিন প্রযোজক নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসব আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পরীমনি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ