Inqilab Logo

শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ০৮ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

ঐক্যবদ্ধ থেকে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান

বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০১ এএম

আজ ১ সেপ্টেম্বর। বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠার পর বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে দলটি। এরই মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুই বছরের বেশি সময় কারাভোগ করে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে চিকিৎসাধীন। দলের ওপর দেশী-বিদেশী চক্রান্ত, অব্যাহত চাপ, শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের উপর অবর্ণনীয় হামলা, মামলা, গ্রেফতার, জুলুম-নির্যাতনের কারণে সাংগঠনিক দুর্বলতা বেড়েছে মতানৈক্য। সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থতা, নির্বাচনে ভরাডুবি, নতুন-পুরোনো জোটে অসন্তোষ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অপরিপক্কতার কারণে বিএনপি অনেকটাই কোণঠাসা। প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। এই অবস্থায় ৪৩বছর পূর্ণ করে ৪৪-এ পদার্পণ করেছে রাজপথের প্রধান এই বিরোধী দল।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পৃথক পৃথক বাণীতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৪৩ বছর আগে দেশের এক চরম ক্রান্তিকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এদেশের মানুষকে একদলীয় দুঃশাসনের অন্ধকার যুগ থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বারবার দেশ ও গণতন্ত্রের সঙ্কটকালে অসীম সাহসিকতার সাথে জুলুম-নির্যাতনকে সহ্য করেও দুর্বার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন অদম্য সাহসের প্রতীক বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তিনি বলেন, বর্তমান দুঃসময়ে জনগণকে সংগঠিত করার কোন বিকল্প নেই। দেশ আজ দুঃশাসন কবলিত। এর ওপর করোনা মহামারীর আক্রমণে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্যে দিনাতিপাত করছে দেশের মানুষ। গুম-খুনের আতঙ্ক মানুষের নিত্য সঙ্গী। আইন, বিচার, প্রশাসনকে সরকার কব্জার মধ্যে রাখার চেষ্টায় মরিয়া। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে বেআইনী কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে সমাজে দেখা দিয়েছে বিপজ্জনক বিশৃঙ্খলা। খুন-খারাবী, নারী-শিশু নির্যাতন, অপহরণ, গুপ্তহত্যা ইত্যাদি অনাচারের মাত্রা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ সরকার যেখানে জনগণের প্রতিপক্ষ সেখানে মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা থাকতে পারে না। সুতরাং জনগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্যই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। দেশের যে কোন ক্রান্তিলগ্নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন বিএনপি মহাসচিব।
৪ বার ক্ষমতায় ও দুইবার বিরোধী দলে থাকা এই দলটি বিভিন্ন সময় নানা বাধা-বিপত্তির মুখে পড়েছে। তবে সংগঠনের বিস্তৃতি থেমে থাকেনি, বেড়েছে জনসমর্থনও। সরকারের দমন-পীড়নে নেতা-কর্মীদের ওপর মিথ্যা মামলার হিড়িক ও গ্রেফতার, নিখোঁজ বা গুম ঘটনায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে।

বিএনপি প্রতিষ্ঠার আগে ১৯৭৭ সালে জুন মাসে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচি নিয়ে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগো দল) গঠন করেন। ওই দলের আহবায়ক হয়েছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। এরপর জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন করে জিয়াউর রহমান ওই বছরে প্রত্যক্ষ ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। জাগো দল, ন্যাপ (মশিউর রহমান যাদু মিয়া), ইউনাটেড পিপলস পার্টি (ক্যাপ্টেন আব্দুল হালিম-কর্নেল আকরর হোসেন), লেবার পার্টি (মতিন) ও মুসলিম লীগ (শাহ আজিজুর রহমান) নিয়ে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানে নেতৃত্বে ৩১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়, যেখানে বিচারপতি আব্দুস সাত্তার, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, শাহ আজিজুর রহমান, প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, এসএ বারী, ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল হালিম, জামাল উদ্দিন আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) মাজেদ-উল হক, ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হক, ব্যাস্টিার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত, এম সাইফুর রহমান, মাওলানা আব্দুল মতিন, কর্নেল (অব.) আসম মোস্তাফিজুর রহমান, লে. কর্নেল (অব.) আকবর হোসেন, আতাউদ্দিন খান প্রমূখ নেতা ছিলেন।

১৯৭৯ সালের ফেব্রæয়ারিতে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়। দলের ১১ সদস্যের স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়।
তিন বছরেরও কম সময় পরে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে নিহত হন দলটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। এসময় গৃহবধূ ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে পার্টির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তখন থেকে প্রায় ৯ বছর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে গৃহবধূ থেকে দেশনেত্রীতে পরিণত হন বেগম খালেদা জিয়া।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি হন দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। এরপর আরও দুইবার নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। তবে ১/১১-এর সেনা সমর্থিত সরকারের শাসনামল থেকে একটানা প্রায় ১৪ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। তবে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দলটি অংশ নিলেও ভূমিধ্বস পরাজয় হয়। এরপর থেকেই দলপুনর্গঠনের কাজে হাত দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিভিন্ন জেলা কমিটির সাথে সাথে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনেও আনছেন নতুন নেতৃত

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির কর্মসূচি : দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিএনপি। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আজ সকাল ৬টায় বিএনপি’র নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ১১টায় চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সাড়ে ১১টায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ শহীদ জিয়ার মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। দুপুর ১২টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচতলায় ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাব এর সহযোগিতায় হেলথ ক্যাম্প এবং করোনা রোগীদের জন্য ঔষধ ও করোনা সামগ্রী বিতরণ।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা। এছাড়া আজ সারাদেশে জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসহ বিভিন্ন ইউনিটে দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভাসহ অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হবে।



 

Show all comments
  • মোহাম্মদ দলিলুর রহমান ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:১৩ এএম says : 0
    স্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি খুলবে না কি উঃ চাই।
    Total Reply(0) Reply
  • Abumusa ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬:৩২ এএম says : 0
    ইনশাআল্লাহ সত্যের বিজয় অবধারিত। ষড়যন্ত্রকারী ক্ষমতাবান যতই শক্তিশালী হোক না কেন তার ধ্বংস অনিবার্য
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিএনপি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ