Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ২১ আষাঢ় ১৪২৯, ০৫ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

ওবায়দুল কাদের কথায় কথায় কসম খায়, আর মিথ্যা কথা বলে- কাদের মির্জা

নোয়াখালী ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬:৫৫ পিএম | আপডেট : ৭:২৯ পিএম, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

বাংলাদেশ আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তার সহধর্মিণী ইশরাতুনন্নেছা কাদের এবং নোয়াখালীর এসপি মো.শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিষেদগার করে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা বলেন, এসপি তুমি বেশি বাড়াবাড়ি করছ। কার হুকুমে কালকে আমার এবং আমার দুইজন কর্মির ছবি তুমি প্রদর্শন করেছ। এখানে ওসির কাছে পাঠিয়েছো আমাদেরকে গ্রেফতার করার জন্য। এ সাহস তোমাদেরকে কে দিয়েছে ওবায়দুল কাদের? সে তো কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলে এবং কসম খায়। তার স্ত্রী নষ্ট মহিলা। সিঙ্গাপুরে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা টাকা দিয়েছে। সে বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে আরম্ভ করে এমন কোন ব্যবসায়ী নেই, যারা তখন সিঙ্গাপুর গিয়েছে ওবায়দুল কাদেরকে দেখার জন্য, যে এমপিরা গিয়েছে, জনপ্রতিনিধিরা গিয়েছে, অনেকে গিয়েছে। তাদের থেকে কত কোটি নিয়েছেন। এটার খতিয়ান আমরা দিচ্ছি, তোমাকে জবাব দিতে হবে। মন্ত্রীর বউকে টাকা দিলে, তার বাসায় গোল্ড দিলে, তার বাসায় মাছ পাঠায়লে, তার বাসায় ভেড়া পাঠাইলে, তার বাসায় দধি পাঠাইলে, সে হলো কোম্পানীগঞ্জের নেতা।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের মির্জা বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনি যে মহিলাকে নিয়ে আজকে ঘর করেন। সে আপনার নাম বিক্রি করে সড়ক পরিবহনও সেতু মন্ত্রণালয়কে আজকে নিয়ন্ত্রণ করে। সব লুটপাট করে খাচ্ছে। আপনার এডিশনাল ইঞ্জিনিয়ার সবুজকে দিয়ে। আপনার সচিব নজরুল-ছিদ্দিক সবাই দুর্নীতিবাজ। আপনার পিডি সাহাব উদ্দিন দুর্নীতিবাজ, আপনার আফতাব তালুকদার দুর্নীতিবাজ,আপনার মেট্রোরেলের ছিদ্দিক দুর্নীতিবাজ। মন্ত্রীর কর্মকর্তা,কর্মচারীদের কাছে চাকরির জন্য এসে সর্বস্ব হারিয়েছে কত মেয়ে। যদি প্রমাণ না করতে পারি তাহলে হিজরত করব। যে যেখানে আছে সবাই লুটপাটে ব্যস্ত। সারা দেশ লুটপাটের একটা আড্ডা খানায় পরিণত হয়েছে। মনে হয় বলার কেউ নেই।

কাদের মির্জা ওবাদুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সবাই বলে আমার প্রতিপক্ষদের আপনি লাগাই রাখছেন। এখনও তাদের উৎসাহ জোগান। আমারে কন আল্লার কসম তাদের সাথে আমার দেখা হয়না। হায়রে মিথ্যুক। একটা মন্ত্রী, একটা দলের দুই বারের সেক্রেটারী। এভাবে মিথ্যাচার করেন আপনি। আপনি মনে করছেন আপনাকে ভয় পাই। আপনি জেলে দিবেন, মেরে ফেলবেন, মারিতো ফালাইছেন। চার বার আমার বাড়িতে ভাংচুর করে আমাকে মারার চেষ্টা করছে। আপনি বিচার করেননি। পুলিশকে দিয়ে ভিন্ন খাতে নিছেন। ওবায়দুল কাদের সাহেব আল্লার আদালতে আপনার বিচার হবে। এ আদালতে না হলে আল্লার আদালত আছে। আপনার বিচার হবে। আপনার স্ত্রী, একরাম, নিজামের বিচার আল্লার আদালতে হবে। সে দিন বেশি দূরে নয়। আরো কথা আছে। সামনে নিয়ে আসব। আপনার মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির ইতিহাস গুলো তুলে ধরব। আপনার স্ত্রীর দুর্নীতি তুলে ধরা হবে। একটা জায়গায় দেওয়া হবে। আপনি মনে করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। সেখানে আমাদের দিয়ে লাভ কি। আমরা আমাদের জায়গায় দিব,জায়গা আছে। কতক্ষণ আটকে রাখবেন। ক্ষমতা কি চিরস্থায়ী নাকি, জবাব দিতে হবে। যখন হোক আমি আপনার বিরুদ্ধে স্বাক্ষী হিসেবে দাঁড়াবো। মেরে ফেললে মেরে ফেলবেন। স্বাক্ষী হিসেবে যাদের নাম বলেছি তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবো। রাষ্ট্রীয় আদালতে একদিন আপনাদের বিচার হবে। আমি হব স্বাক্ষী। আমি মামলা করব,সুযোগ ফেলে আপনাদের বিরুদ্ধে।

এ সময় কাদের মির্জা এসপিকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, তুমি এসপি। তোমাকে সাবধান করিয়ের। আমি ডিএস সমমর্যাদার একজন প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মেয়র। কাকে ভয় দেখাও। তোমাকে সাবধান করে দিচ্ছি। নোয়াখালীতে এসব অপকর্ম করলে নোয়াখালীর মানুষ কিল কয়, কিল মানে মানুষ আছে। মানুষসহ নেমে তোমার এ গদি ভেঙ্গে দেব। তুমি নোয়াখালী থেকে যাতে সম্মান নিয়ে না যেতে পার আমরা সে ব্যবস্থা করব। কাকে ভয় দেখাস, তোর এত বড় সাহস। তুই কত বড় মিথ্যুক। এই এসপি, যেই এসপি, যার কোনো জেলাতে চাকরি ছিল না। আজকে ষড়যন্ত্র করে তাকে এখানে পাঠিয়েছে, আমার কর্মিদের নির্মূল করার জন্য।

এ বিষয়ে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম এক গণমাধ্যম কর্মিকে জানিয়েছেন, ফেসবুক লাইভে দেওয়া কাদের মির্জার বক্তব্য তিনি শুনেছেন। তবে পুরো বক্তব্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: কাদের মির্জা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ