Inqilab Logo

শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

বড় অঙ্কের মূলধন ঘাটতিতে ১১ ব্যাংক

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০১ এএম

গ্রাহক থেকে আমানত নিয়ে ঋণ দেয় ব্যাংক। ঋণ খারাপ হয়ে পড়লে সেই ঋণ অনুপাতে নিরাপত্তা সঞ্চিত সংরক্ষণ করতে হয়। একইভাবে খারাপ ঋণের ওপর অতিরিক্ত মূলধনও রাখতে হয়। তবে চলতি অর্থবছের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জুন মাস শেষে সেই অনুপাতে মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে দেশের ১১টি ব্যাংক। ফলে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে ব্যাংকগুলো।

এসব ব্যাংকের মধ্যে সরকারি ব্যাংক রয়েছে পাঁচটি, বিশেষায়িত দুটি এবং বেসরকারি খাতের রয়েছে চারটি। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এই ১১ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ছিল ২৪ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। তবে তিন মাসের ব্যবধানে জুনে ১১ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৯০৫ কোটি টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকায়। অর্থাৎ গত প্রান্তিকের (মার্চ প্রান্তিক) চেয়ে জুনে ঘাটতি ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমেছে। আন্তর্জাতিক ব্যাসেল-৩ নীতিমালার আলোকে ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়মিত মূলধন সংরক্ষণ করতে হয় ব্যাংকগুলোকে। একটি ব্যাংকের মোট ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশ বা ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেটির ন্যূনতম পরিমাণ হিসাবে মূলধন রাখতে হয়। যদি কোনো একটি ব্যাংক এ পরিমাণ অর্থ সংরক্ষণে ব্যর্থ হয় তবে তা মূলধন ঘাটতি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঋণের গুণগত মান বাড়ানো ছাড়া মূলধন পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। ঋণের গুণগত মান বাড়াতে খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি নতুন ঋণ বিতরণের আগে যাচাই-বাছাই করতে হবে। ঋণ সঠিক খাতে ব্যবহার হচ্ছে কি-না, সেটিও দেখতে হবে। অপচয়রোধ করে আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে মূলধন পরিস্থিতি সমন্বয় করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের জুন মাস শেষে মূলধন সংরক্ষণ করতে পারেনি ১১ ব্যাংক। তবে আলোচিত সময়ে বেশিরভাগ ব্যাংকের মূলধন উদ্বৃত্ত থাকায় সার্বিক ব্যাংক খাতে মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে ১৬ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। এ সময়ে মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকায়।

সরকারি পাঁচটি ব্যাংকের প্রায় ৮ হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি রয়েছে। এরমধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংকের ১ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকের ৩৪৫ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংকের ৬৬৪ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংকের ৩ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা।

বেসরকারি চারটি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি তিন হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। এরমধ্যে এবি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ৩২৯ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ১ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা ও পদ্মা ব্যাংকের ৪৬১ কোটি টাকা।
বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে ১৩ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। এরমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি রয়েছে ১১ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ১ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।

চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৭৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। বিতরণকৃত এসব ঋণের মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৯৮ হাজার ১৬৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা। যা মোট ঋণ বিতরণের ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।



 

Show all comments
  • Zahir Islam ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৫:৪৭ এএম says : 0
    কোন সমস্যা নেই, কারন খেটে খাওয়া জনগনের ট্যাক্সের টাকা আছেনা? কারন এরা সরকারি পৃষ্ঠপোষক।
    Total Reply(0) Reply
  • Shafiq Haider ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৫:৪৭ এএম says : 0
    সোনালী ব্যাংকের কর্মচারীদের সেবার মান মোটেও সন্তোষজনক নয়। এরা সবাই নিজেদেরকে ম্যানেজার মনে করে। তাই অনেক গ্রাহক এই ব্যাংক avoid করে।
    Total Reply(0) Reply
  • Adv Helal Uddin ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৫:৪৭ এএম says : 0
    কাউকে কিচ্ছু বলার নেই। যে যেভাবে পারো খেয়ে নাও। দেশেতো বড় বড় ফ্লাইওভার, ব্রিজ হচ্ছে। আর চালের কেজি ৮০ তার পরেও আমরা খুব সুখে আছি। কারণ আসুখে আছি এই কথা বলার সাহস নেই, এই কথা বল্লেই মামলা-হামলা। ধন্যবাদ এই জাতিকে।
    Total Reply(0) Reply
  • Desh Desh ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৫:৪৮ এএম says : 0
    সঞ্চয় অফিস গুলি বন্ধ করে মানুষ কে বিপদ এ ফেলেছে এই অবৈধ প্রশাসন
    Total Reply(0) Reply
  • Nasim HQ ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৫:৪৮ এএম says : 0
    এই সকল ব্যাংক বন্ধ করে কিছু গরু এনে পালন করলে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো। জনগণের টাকায় এই ব্যাংক গুলার চব্রী ওয়ালা কর্মচারী, কর্মকর্তা তো পালতে হবেনা।
    Total Reply(0) Reply
  • Mamunur Rashid ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৫:৪৮ এএম says : 0
    ব্যংকের ডিপোজিট ভেঙ্গে সবাই সঞ্চয়পত্র কিনছে। তাই ব্যংকগুলো ডিপোজিট ঘাটতিতে পড়বে এটাই স্বাভাবিক।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Karim Uddin ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৫:৪৯ এএম says : 0
    আস্থা ও সেবার ঘাটতি যেখানে থাকবে সেখানে শুধু মূলধন ঘাটতি নয়_দেউলিয়া হওয়ার ও সম্ভাবনা আছে। এই সব ব্যাংক গুলো থেকে সরকারি সেবা ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করে দিলে এদের খুজেও পাওয়া যাবে না
    Total Reply(0) Reply
  • Saddam Hossain ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৫:৪৯ এএম says : 0
    একটা কোম্পানি ৮/১০ টা ব্যাংকের মালিক হয়ে ও তারা.... হাজার কোটি টাকা ট্যাক্স মাপ পায় এমন কি অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় তাহলে তো এমন হবেই...
    Total Reply(0) Reply
  • Kishor Roy ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৫:৪৯ এএম says : 0
    এইগুলা পাব্লিক জানে। সরকাররে শুনান। তাদের জানার দরকার আছে। আমরা জনগন তো আছি বাজেট ঘাটতি মিটানোর জন্য। সরকারের টেনশন নাই।
    Total Reply(0) Reply
  • ফখরুল ইসলাম ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:৫৫ পিএম says : 0
    সরকার নিয়নন্ত্রিত কোন ব্যাংকের আচার আচরন সন্তোষ জনক নহে।সেবার মানও নিম্ন পর্য্যায়ের।
    Total Reply(0) Reply
  • মোঃ আকতার হোসেন মীর ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:১৬ পিএম says : 0
    মূল থাকলেতো মূলধন থাকবে । এই সব প্রতিষ্ঠান যাহারা পরিচালনা করে তাহারা শুধু খায় আর খায় । যা পায় সবই খায় ।পারলে আস্তা প্রতিষ্ঠান গিলা খায় । আর কয়টা দিন অপেক্ষা করলে দেখবেন এইসব প্রতিষ্ঠান ঋনে জজ'জর্জরিতত ।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মূলধন ঘাটতি
আরও পড়ুন