Inqilab Logo

বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

অপরিকল্পিত প্রকল্প উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে

মতবিনিময় সভায় এলজিআরডি মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই করে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে এলজিইডিসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন সব প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীদের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।
গতকাল শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। মন্ত্রী বলেন, অপরিকল্পিতভাবে প্রকল্প নিয়ে অবকাঠামোসহ যেকোনো উন্নয়ন কাজ করলে যেমন তা টেকসই হয় না, তেমনি উন্নয়নের সুফল মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় না। সব উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার আগে তার ফিজিবিলিটি স্টাডি করতে হবে। প্রকল্প গ্রহণের আগে ফিজিবিলিটি স্টাডির গুরুত্বপূর্ণ। ইনভায়রনমেন্টাল, জিওলজিক্যাল, হাইড্রোলোজিক্যাল, সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট, ডেমোগ্রাফিক সাইজ এবং ইকোনমিক আউটপুট বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প নিতে হবে। এসব বিষয়ে স্টাডি না করে প্রকল্প নেওয়া যাবে না। নিলে সুফল মিলবে না। তাজুল ইসলাম বলেন, গৃহীত প্রকল্পগুলো যদি উৎপাদনশীল, ইনকাম জেনারেটিং, টেকসই এবং সময়মতো শেষ না হয় তাহলে কাক্সিক্ষত লক্ষে পৌঁছানো অসম্ভব হবে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়, বাস্তবায়ন করার পর দেখা যায় তার সুফল মিলছে না। প্রকল্পের ডিজাইনে কোনো ত্রæটি রাখা যাবে না।

তিনি বলেন, গ্রামীণ, ইউনিয়ন ও উপজেলা রাস্তার ডিজাইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নেভিগেশন সুযোগ রেখে ব্রিজ নির্মাণ করে নৌ পথগুলো চালু করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান নিম্নমানের কাজের সঙ্গে জড়িত থাকলে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। বিভিন্ন ইট ভাটায় ইট তৈরি করা হচ্ছে কিন্তু সেগুলোর গুণগত মান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে না। যার ফলে এ ইট দিয়ে রাস্তার কাজ টেকসই হচ্ছে না। তাই বিষয়টি আমলে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। এলজিইডির সমস্ত রাস্তা আইডিভুক্ত করার পর নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের রাস্তা আইডিভুক্ত করা নেই। এজন্য এসব প্রতিষ্ঠানের সব রাস্তা আইডিভুক্ত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইডি নম্বর অনুযায়ী যদি রাস্তা বরাদ্দ করা হয় তাহলে সুষ্ঠুভাবে রাস্তা নির্মাণ এবং সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে। এ ক্ষেত্রে এক রাস্তায় দুই প্রতিষ্ঠান অথবা দুইবার তিনবার কাজ করার কোনো সুযোগ থাকবে না।

তাজুল ইসলাম বলেন, শহরের সব সুযোগ-সুবিধা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে দিতে সরকার আমার গ্রাম আমার শহর’ দর্শন বাস্তবায়ন করছে। এই দর্শন বাস্তবায়নে জনপ্রতিনিধিসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। আর এ কাজ করলে ২০৪১ সালের আগেই উন্নত-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে উঠবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত হয় এবং দীর্ঘকাল দেশের মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে। প্রকল্প প্রণয়নের পূর্বে অবশ্যই প্রকল্পের সম্ভাবতা যাচাই করতে হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের নৈতিকতা ও উন্নত মানষিকতার পরিচয় দিতে হবে। এলজিইডিকে উপজেলা পর্যায়ে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরামর্শ প্রদান করেন। পরিকল্পনা সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন, রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে নির্ধারিত সময় এবং নির্ধারিত অর্থের মধ্যেই প্রকল্প শেষ করতে হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতায় সকল অধিদপ্তরের সংস্থা প্রধানগণ, পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিবগণ, এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীরা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীরা ও বিভিন্ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: এলজিআরডি মন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ