Inqilab Logo

শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ০৮ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

হারাম খেলে নামাজ হবে না, আয়নার সামনে দাঁড়ান

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

হারাম কিছু খেলে নামাজ হবে না, ঘুষ খেলে নামাজ হবে না। প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়ান সারা দিন কী করলেন। সব দেশেই সম্পদ সীমিত। সম্পদের সঠিক ব্যবহারের জন্য প্রকল্প পরিচালকদের নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

গতকাল শনিবার আগারগাঁও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ভবনে স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী প্রমুখ। সভায় এলজিইডি’র ৭৬ জন প্রকল্প পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রপরিষদ বিভাগের সচিব বলেন, আমাদের ধর্মে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, হারাম খেলে নামাজ হবে না। শুধু তাই নয় হারাম টাকায় কেনা কোনো পোশাক যদি অন্য পোশাক স্পর্শ করে তবে নাপাক হয়ে যাবে। প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়ান সারা দিন কী কাজ করলেন। নিজেকে প্রশ্ন করুন। আমি যতদূর জানি এলজিইডি প্রকল্পে আইন-কানুন মেনে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। তারপরও আইনের মধ্যে থেকে অনেক কিছু করা হয় আমি খবর রাখি। এখন আরো সঠিকভাবে খোঁজ-খবর রাখব কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে রেহায় নেই। আপনারা প্রকৌশলী আমি বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলাম আমিও হাফ প্রকৌশলী। সরকার আমাদের বেতন অনেক বাড়িয়েছে তারপরও যদি কেউ চুরি করে ধরা পড়লে সরাসরি অ্যাকশন নেওয়া হবে। এলজিইডি’র প্রকল্প পরিচালকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, আপনাদের কারণে স্যারকে (স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম) প্রধানমন্ত্রীর কাছে অপদস্ত হতে হচ্ছে। স্যারতো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে না। প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন আপনারা। এখনো পর্যন্ত এলজিইডি একটা মাস্টার প্ল্যান করতে পারল না। এলজিইডিকে অবশ্যই একটা মাস্টার প্ল্যান করতে হবে। এলজিইডি’র কাজ নিয়ে অনেক আপত্তি আছে। কাজের মধ্যে অবশই স্বচ্ছতা আনতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আমি দীর্ঘ ৭ বছর সেতু বিভাগের সচিব ছিলাম। তখন পদ্মা সেতু প্রকল্প নেওয়া হয়। পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঠিক ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়। পদ্মা সেতু প্রকল্প দেশের জন্য বাস্তবায়নের ল্যান্ডমার্ক। ২০১২ সালে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। মূল সেতুর ব্যয় ১২ হাজার ৭শ’ কোটি টাকা। এর থেকে ব্যয়ের খুব বেশি তারতম্য হয়নি। অনেক প্রকল্প ফিজিবিলিটি স্টাডি না করেই নেওয়া হয়। ফলে প্রকল্পের সময়-ব্যয় বৃদ্ধি পায় এটাও এক ধরনের দুর্নীতি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, সঠিক ফিজিবিলিটি স্টাডি করে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে সময়-ব্যয় বেশি বাড়ছে না। কিন্তু এলজিইডি থেকে অনেক প্রকল্প ফিজিবিলিটি স্টাডি করে নেওয়া হচ্ছে ফলে সময় ও ব্যয় বাড়ছে। ছোট প্রকল্পে কেন বার বার সময় ব্যয় বাড়াতে হবে। বার বার প্রকল্প সংশোধন করলে তাকে ব্যয় বহন করতে হবে। প্রকল্প কেন বার বার সংশোধন করতে হবে? সঠিকভাবে ফিজিবিলিটি স্টাডি করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। এলজিইডির কাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতি করলে আমি এখন থেকে ধরব। এখন অনেক শতর্কভাবে কাজ করা হচ্ছে দুর্নীতি ধরতে পারলে ক্ষমা নেই। মতবিনিময় সভায় ক্ষুব্ধ হয়ে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল (এনআইএস) ও প্রকল্পেরে সংজ্ঞা জানতে চান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তবে অনেক প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) আশানুরূপ উত্তর দিতে পারেননি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: মন্ত্রিপরিষদ সচিব


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ