Inqilab Logo

বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৪ কার্তিক ১৪২৮, ১২ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

বিরোধ নিরসনে সচেষ্ট তুরস্ক ও আমিরাত

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০২ এএম

দুই আঞ্চলিক প্রতিদ্ব›দ্বী তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে লিবিয়ার যুদ্ধ সহ বিভিন্ন দ্ব›েদ্ব সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে। কর্মকর্তা এবং ক‚টনীতিকরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে শত্রæতার পর দুই দেশ অবশেষে সম্পর্কের উন্নয়ন করছে।

কিন্তু রাজনৈতিক মতভেদ এখনও গভীরভাবে চলমান থাকায়, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে মনোনিবেশ করবে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডি ফ্যাক্টো নেতা ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান গত সপ্তাহে গোয়েন্দা ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগের পর ফোনে কথা বলেছেন। এরদোগান, যিনি এক বছর আগে বলেছিলেন, তুরস্ক ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পর আবুধাবির সঙ্গে ক‚টনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে, তিনি আবু ধাবির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে তুরস্কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা করেছেন।
‘সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্ক জোরদার করার সম্ভাবনাগুলি অন্বেষণ করতে আগ্রহী,’ পরিবহন, স্বাস্থ্য ও জ্বালানির ক্ষেত্রে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের সুযোগের দিকে ইঙ্গিত করে একজন আমিরাতি কর্মকর্তা বলেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিত্র সউদী আরব ও মিশরের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর জন্য তুরস্কের পূর্বের প্রচেষ্টার পর মঙ্গলবার কায়রো থেকে একটি প্রতিনিধিদল আঙ্কারায় আসে। উপসাগরের একজন ক‚টনীতিক বলেন, ‘এটি খুব দ্রæত চলছে। দুই দেশ তাদের সম্পর্কের পাতা উল্টে দিয়েছে।’ তুরস্কের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত সপ্তাহে শেখ মোহাম্মদের সাথে এরদোগানের আলাপকে বিতর্ক কাটিয়ে ওঠার দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে যে, দুটি দেশ মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। ‘তবে প্রথমে অর্থনীতির দিক থেকে পদক্ষেপ নেয়া হবে,’ কর্মকর্তা বলেছিলেন। অন্যান্য সমস্যাগুলোর বিষয়ে একমত না হলেও, তার একটি বড় অংশ সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে।’
দুই দেশের সম্পর্কে আরব বিদ্রোহ থেকেই ফাটল দেখা দিয়েছিল। যখন তুরস্ক মুসলিম ব্রাদারহুড এবং তাদের ইসলামী মিত্রদের সমর্থন করেছিল তিউনিসিয়া থেকে সিরিয়ায় প্রবেশ করা স্বৈরশাসকদের চ্যালেঞ্জ করে - সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজবংশীয় শাসকদের আশঙ্কা, যারা ব্রাদারহুডকে রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তার হুমকি হিসাবে দেখে। উপসাগরীয় বিরোধেও সংযুক্ত আরব আমিরাত, সউদী আরব এবং মিশরের সাথে মতবিরোধ করে তুরস্ক কাতারের পাশে ছিল। গত বছর তুরস্কের সমর্থন লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত বাহিনীকে রাজধানী দখলের চেষ্টা করে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছিল। সোমালিয়ায় তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রতিযোগিতা করেছে। সিরিয়ায়, তুরস্ক এখনও প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধী যোদ্ধাদের সমর্থন করে, যখন সংযুক্ত আরব আমিরাত, যা একসময় তার সাথে যুদ্ধরত বিদ্রোহীদের সমর্থন করেছিল, এখানে দামেস্কে একটি দূতাবাস খুলেছে। তুর্কি কর্মকর্তা এবং উপসাগরীয় ক‚টনীতিকরা বলছেন, উভয় দেশই স্বীকার করে যে তাদের ভ‚-রাজনৈতিক উত্তেজনায় অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, যা কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে আরও বেড়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন তুর্কি কর্মকর্তা বলেন, ‘তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সউদী আরবের ক্ষেত্রে এই সম্পর্কের টানাপোড়েন এই অঞ্চলে টেকসই নয়।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্থান এমন একজন নেতাকে সরিয়ে দিয়েছে যারা তাদের প্রতিদ্ব›দ্বী আঞ্চলিক হস্তক্ষেপকে উৎসাহিত করেছে। যদিও বিনিয়োগের বিষয়ে কোন চুক্তি ঘোষণা করা হয়নি, দুই দেশের ইতিমধ্যেই একটি অর্থনৈতিক প্লাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। সউদী আরবের বিপরীতে, যারা তুর্কি রপ্তানির অনানুষ্ঠানিক বয়কট বজায় রেখেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে যে, তারা তুরস্কের বৃহত্তম আঞ্চলিক বাণিজ্য অংশীদার। আবু ধাবির সার্বভৌম সম্পদ তহবিল তুরস্কের অনলাইন গ্রোসার গেটির এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ট্রেন্ডিওলে সাম্প্রতিকালে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। সূত্র : রয়টার্স।

 



 

Show all comments
  • জাফর ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২:২৩ এএম says : 0
    সকল মুসলীম দেশগুলোর মধ্যকার বিরোধ নিরসন হোক
    Total Reply(0) Reply
  • ইউসুফ বিন ইকবাল ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:৩৭ এএম says : 0
    আশা করি এবার মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসা শুরু করবে
    Total Reply(0) Reply
  • নাবিল আব্দুল্লাহ ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:৩৫ এএম says : 0
    বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলী রাষ্ট্র হচ্ছে তুরস্ক
    Total Reply(0) Reply
  • শাফায়েত ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:৩৫ এএম says : 0
    এভাবে মুসলীম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনদের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • রকিবুল ইসলাম ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:৩৪ এএম says : 0
    মুসলীম দেশ গুলো যদি নিজেদের মধ্যে দ্বন্ধ অবসান করে ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে সবাই লাভবান হবে।
    Total Reply(0) Reply
  • এনায়েতুল্লাহ ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:৩৬ এএম says : 0
    মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হলে কেউ তাদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: তুরস্ক ও আমিরাত
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ