Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

নির্ধারিত সময়ে তালিকা জমা না দেয়ায় চাল পায়নি হতদরিদ্র পরিবারগুলো

তিন ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ

প্রকাশের সময় : ৭ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বানারীপাড়া (বরিশাল) উপজেলা সংবাদদাতা
বানারীপাড়া উপজেলার তিন ইউপি চেয়ারম্যান নির্ধারিত সময়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদেরকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শহীদুল ইসলাম শোকজ করেছেন। শোকজ প্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যানরা হলেন- চাখার ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদার, সৈয়দকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান আঃ মন্নান মৃধা ও বিশারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম শান্ত। সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজিতে ৩ হাজার ৫৮০ জন কার্ডধারীদের চাল বিতরণ করা হয়নি। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শহীদুল ইসলাম ওই তিন ইউপি চেয়ারম্যানকে শোকজ করেন। সেপ্টেম্বর মাসে ওই তিন ইউনিয়নের ডিলাররা খাদ্য গুদাম থেকে চাল  উত্তোলন করতে না পাড়ায় হতদিরদ্র পরিবারের মধ্যে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। এ জন্য কার্ডধারী হতদিরদ্র পরিবার বঞ্চিত ও ডিলারগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণের জন্য ৮ হাজার ১৭০ জন কার্ডধারী হতদরিদ্রদের জন্য ১৬ জন ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। গত ১৮ আগষ্ট তালিকা তৈরী করে তালিকা জমা দেয়ার জন্য ৮ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠি পেয়ে সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে বানারীপাড়া সদর, সলিয়াবাকপুর, বাইশারী, ইলুহার ও উদয়কাঠি এই ৫ ইউনিয়ন ৪ হাজার ৫৯০ জন কার্ডধারীর তালিকা উপজেলা খাদ্য গুদামে জমা দেয়। অপর ৩ ইউনিয়ন চাখার, বিশারকান্দি ও সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের ৩ হাজার ৫৮০ জন কার্ডধারীর তালিকা নির্ধারিত সময়ে জমা দেয়নি। ফলে ওই তিন ইউনিয়নের ডিলাররা খাদ্যগুদাম থেকে চাল তুলতে না পাড়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হতদরিদ্ররা এ কর্মসূচির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এতে তারা চরম ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ ব্যাপারে সৈয়দকাঠি ইউনিয়নের জিরাকাঠি এলাকার ডিলার ও আ.লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিঠু ঘরামী অভিযোগ করে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা সঠিক সময়ে তালিকা জমা দিতে না পাড়ায় তিনি সেপ্টেম্বর মাসে কার্ড প্রতি ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি হারে ৬৮০ জন কার্ডধারীর অনুকূলে ২০ হাজার ৪০০ কেজি চাল বিতরণ করতে পারেননি। একইভাবে চাল বিতরণ করতে পারেননি ওই ইউনিয়নের আউয়ার বাজারের অপর ডিলার মোয়াজ্জেম হোসেন, বিশারকান্দি ইউনিয়নের চৌমোহনা বাজারের ডিলার উজ্জল গড়াই ও নজরুল ইসলাম, চাখার ইউনিয়নের মিরেরহাট বাজারের ডিলার মোশারেফ হোসেন গাজী ও চাখার বাজারের ডিলার মশিউর রহমান। তারা সেপ্টেম্বর মাসের চাল তুলতে ও বিতরণ করতে না পাড়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। অভিযুক্ত তিন ইউপি চেয়ারম্যান খিজির সরদার, সাইফুল ইসলাম শান্ত ও আঃ মন্নান মৃধা সচিবের মাধ্যমে সঠিক সময়ে তালিকা জমা দিয়েছেন বলে দাবী করলেও উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা তা অস্বীকার করেন।  



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নির্ধারিত সময়ে তালিকা জমা না দেয়ায় চাল পায়নি হতদরিদ্র পরিবারগুলো
আরও পড়ুন