Inqilab Logo

ঢাকা শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০৯ মাঘ ১৪২৭, ০৯ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

১৩ প্রার্থীকে পেছনে ফেলে এগিয়ে পর্তুগালের গুতেরেস

নিয়োগ চূড়ান্ত হলে চলতি বছরের শেষের দিকে জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে বান কি মুনের স্থলাভিষিক্ত হবেন

প্রকাশের সময় : ৭ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও গুতেরেস জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হতে চলেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে। জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভিতালি চুরকিনকে উদ্ধৃত করে গত বুধবার বিবিসি জানায়, পরবর্তী মহাসচিবের দৌড়ে ৬৬ বছর বয়সী গুতেরেস স্পষ্ট এগিয়ে আছেন। ২০০৫ সাল থেকে সাড়ে ১০ বছর জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন করে আসা গুতররেসের নিয়োগ চূড়ান্ত হলে চলতি বছরের শেষে জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে বান কি মুনের স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি। দুই দফা দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমান মহাসচিব বান কি মুন এ বছরের শেষ দিকে বিদায় নেবেন। মহাসচিব নির্বাচনে বিভিন্ন দেশের সমর্থিত প্রার্থীদের তালিকা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে ভোটের মাধ্যমে পছন্দক্রম বাছাই হয়ে থাকে।
পাঁচটি স্থায়ী ও ১০টি অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিষদের মধ্যে সাধারণত স্থায়ী সব সদস্য রাষ্ট্রের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকেই সাধারণ পরিষদে সুপারিশ করা হয়। সাধারণ পরিষদ চূড়ান্তভাবে মহাসচিব নিয়োগ দিলেও তা শুধুই আনুষ্ঠানিকতা; কে মহাসচিব হবেন তা নির্বাচনে এ পরিষদের কিছুই করার থাকে না। মহাসচিব হতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য নিরাপত্তা পরিষদে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পছন্দ ক্রমের গোপন ভোটের ফল ফাঁস হয়ে পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গুতেরেসের এগিয়ে থাকার খবর আগেই প্রকাশ হয়েছিল ইন্টারনেটে। এবার জাতিসংঘে মহাসচিব পদে প্রার্থিতা করেন ১৩ জন। এর মধ্যে সাতজন নারী। অনেকে আশা করছিলেন, হয়তো এবার জাতিসংঘের মহাসচিব হবেন কোনো নারী। সব জল্পনা-কল্পনা শেষে নিরাপত্তা পরিষদের আস্থার পাত্র হয়েছেন রাজনীতি ও কূটনীতিতে দক্ষ অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পাঁচ দশকের স্বৈরশাসনের পর পর্তুগালে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের সময় ১৯৭৬ সালে গুতেরেস (৬৭) রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। অল্প সময়ে রাজনীতিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৯২ সালে সোশ্যালিস্ট পার্টির প্রধান হন। ১৯৯৫ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হন। ২০০৫ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) প্রধান ছিলেন গুতেরেস। বিশ্বের অন্যতম শরণার্থী সংকটের সময় তিনি সাড়ে ১০ বছর এ সংস্থার প্রধানের পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, সুদান এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোর অসংখ্য মানুষ শরণার্থী হয়েছে, যাদের জন্য কাজ করেছেন গুতেরেস। দেশ ছেড়ে পালানো অসহায় আশ্রয়প্রার্থী মানুষের যথাযথ সাহায্যের জন্য পশ্চিমা ও উন্নত দেশগুলোর কাছে বারবার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে মহাসচিব পদে মেয়াদ শেষ হবে বান কি মুনের। দুই মেয়াদে টানা ১০ বছর এ পদে ছিলেন তিনি। এরপর মহাসচিব পদে বসবেন নতুন মহাসচিব- আর তিনি হচ্ছেন গুতেরেস। বিবিসি, রয়টার্স।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ১৩ প্রার্থীকে পেছনে ফেলে এগিয়ে পর্তুগালের গুতেরেস
আরও পড়ুন