Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার , ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

ফুটপাথ ও ফুটওভারব্রীজ নিরাপদ করতে হবে

প্রকাশের সময় : ৭ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ঢাকার যানজট, বাসযোগ্যতার ঘাটতি এবং  নাগরিক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই বহুল আলোচিত ইস্যু। বিশেষত, প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য ঢাকায় অপ্রতুল রাস্তা, ফুটপাত এবং অপরিকল্পিতও বিশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গৃহীত না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমে জটিল আকার ধারণ করছে। শহরের অধিকাংশ রাস্তায়ই ফুটপাথ নেই। যেটুকু আছে তা’ও হকার এবং অবৈধ দখলদারদের কবলে। গণপরিবহন চালকরা যেমন ট্রাফিক আইন মানেনা, একইভাবে নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ যত্রতত্র ট্রাফিক আইন অমান্য করে রাস্তা পারাপার হয়। যে কেউ যেখানে ইচ্ছা গাড়ি পার্কিং করছে এবং রাস্তায় ময়লা ডাম্পিং করছে। নিরাপদে রাস্তা পারাপারের সুবিধার্থে শহরের ব্যস্ততম এলাকার বিভিন্ন স্থানে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ফুটওভারব্রীজ ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হলেও এগুলোরও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ। ফুটপাথগুলো যেভাবে হকার ও চাঁদাবাজ মাস্তানদের দখলে তেমনি ফুটওভারব্রীজগুলোও কোথাও হকার, কোথাও কোথাও মাদকাসক্ত, পকেটমার, ছিনতাইকারী, পতিতা বা পেশাদার অপরাধীদের দখলে চলে গেছে। ঢাকা নগরীকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সমস্যা-সঙ্কটমুক্ত করতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের  নগরকর্তারা সর্বদাই আশার বাণী শোনাচ্ছেন। কোন কোন ক্ষেত্রে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদসহ তাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং চোখে পড়ার মতও বটে।
জেব্রা ক্রসিং ছাড়া যত্রতত্র রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। শহরের এমন কিছু বিপজ্জনক পয়েন্টে এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে মানুষ। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করা হলেও এসব ওভারব্রীজের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার প্রতি কোন নজরদারি না থাকায় অল্পদিনের মধ্যেই ময়লার স্তূপ জমে এবং অসামাজিক লোকদের দখলে চলে যাওয়ার কারণে এসব ওভারব্রীজ এড়িয়ে বেআইনীভাবে রাস্তা পারাপারের অভ্যস্ত পথেই হাঁটছে অধিকাংশ নগরবাসী। কোথাও কোথাও রাস্তার মাঝখানে বসানো ডিভাইডার অথবা লোহার ব্যারিকেড ভেঙেও রাস্তা পারাপারের জায়গা করে নিচ্ছে পথচারীরা। ফুটপাথ থাকলেও ফুটপাথকে যেমন পথচারীদের জন্য নির্বিঘœ রাখতে পারছেনা সিটি কর্পোরেশন, একইভাবে ফুটওভার ব্রীজগুলোকেও পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে কোন নজরদারি নেই বললেই চলে। পাশাপাশি সাধারণ নগরবাসীকে রাস্তা পারাপার ও ওভারব্রীজ ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে বা জনশৃঙ্খলা ও আইনগত বাধ্যবাধকতা রক্ষায় ট্রাফিক ও সিটি কর্পোরেশনের কোন কার্যকর উদ্যোগ নেই। সিভিক আইন ভঙের শাস্তি না হওয়ায় সাধারণ মানুষ রাস্তায় যত্রতত্র আইন ভঙ্গ করে নাগরিক শৃঙ্খলার ব্যত্যয় ঘটাচ্ছে।
গতকাল একটি পত্রিকায় মতিঝিলের কাছে একটি ফুটওভারব্রীজের উপর মাদকাসক্ত ও অসামাজিক কর্মকা-ের সচিত্র ক্যাপশন ও ছবি প্রকাশিত হয়েছে। একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, দিনের বেলায় পথচারীদের পদচারণায় মুখর থাকলেও সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে পতিতা, ছিনতাইকারীসহ পেশাদার অপরাধীদের দখলে চলে যায় রাজধানীর মিরপুরের কয়েকটি ফুট ওভারব্রীজ। মূলত বেশীরভাগ ফুটওভারব্রীজেই এ ধরনের বাস্তবতা বিদ্যমান। ওভারব্রীজের উপর ওঁৎ পেতে থাকা ছিনতাইকারীদের কাছে মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা খোয়ানোর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে কেউ কেউ সন্ধ্যার পর ওভারব্রীজ এড়িয়ে চলার কথা বলেছেন। এমনকি রাজধানীতে নির্মিত সীমিত সংখ্যক আন্ডারপাসও নানাভাবে বাণিজ্যিক দখলবাজির শিকার হয়ে সেগুলো নির্মাণের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ফুটওভারব্রীজ ও আন্ডারপাসের পাশাপাশি শহরের অভিজাত এলাকার কোথাও কোথাও চলন্ত সিঁড়িযুক্ত ফুটওভারব্রীজও নির্মিত হয়েছে। বিশেষত, ঢাকা উত্তরের বনানী এবং বিমানবন্দর এলাকায় এ ধরনের যান্ত্রিক ফুটওভারব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রচলিত ফুটওভারব্রীজ ব্যবহারে পথচারীদের অনীহার কারণে অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে যান্ত্রিক সিঁড়িযুক্ত ব্রীজ নির্মাণ করা হলেও এসব যান্ত্রিক ওভারব্রীজ কতদিন সচল থাকে তা’ই দেখার বিষয়। অথচ সিটি কর্পোরেশন ও আইন-শঙ্খলা বাহিনী ফুটওভার ব্রীজগুলোকে পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে মুক্ত রাখার কার্যকর উদ্যোগ নিলে পথচারীরা সহজেই ফুটওভারব্রীজ ব্যবহারে অভ্যস্ত হতো। ফুটপাথ ও ফুটওভার ব্রীজগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও পথচারীদের জন্য নিরাপদ করার উদ্যোগ নিতে হবে। ফুট ওভারব্রীজ নির্মাণে ভুল ডিজাইন ও প্রকৌশলগত ভুলের অভিযোগও রয়েছে। ভুল ডিজাইনে নির্মিত ওভারব্রীজগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। ফুটওভারব্রীজগুলোকে নিয়মিত পরিচ্ছন্ন, হকার, ভিক্ষুক ও অসামাজিক কার্যকলাপমুক্ত রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারী বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনে সিসি ক্যামেরাযুক্ত করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতনতা ও সক্রিয়তার পরিচয় দিতে হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ