Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮, ২০ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:১৬ পিএম

বিশ্বে ও আমাদের দেশে আত্মহত্যা ও আত্মহত্যা প্রবণতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে এক জন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে আত্মহত্যায়। ১৪ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ আত্মহত্যা। কিন্তু প্রতিরোধে তেমন কোনো সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি।

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ব্রাইটার টুমরো ফাউন্ডেশন (বিটিএফ)-আগস্ট মাসব্যাপী আত্মহত্যা প্রতিরোধমূলক ছোটোগল্প, প্রবন্ধ ও পোস্টার ডিজাইনিং প্রতিযোগিতা-২০২১-এর আয়োজন করে। শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) হলে বিটিএফ এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণকারী ৪৩০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ১৩৪ জন ছোট গল্প ৯৭ জন প্রবন্ধ ও ১৯৯ জন পোস্টার ডিজাইনিং-এ অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রফেসর ড. অরূপ রতন চৌধূরী।

ডা. আরেফিন সিদ্দিক বলেন, কোভিড-১৯-চলাকালীন সময়ে আত্মহত্যা অনেক বেড়ে গেছে। তিনি আত্মহত্যা প্রতিরোধে শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিক অসুস্থতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমরা শারীরিক অসূস্থতাকে যতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখি মানসিক অসুস্থতাকে সেভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখিনা। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। ডা. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধের বিষয়টিকে প্রত্যেককে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তিনি বিষয়টিকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দেয়ার কথা ব্যক্ত করেন।

সাংবাদিক শাহানাজ মুন্নি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সকলকে কাজ করতে হবে। আত্মহত্যায় প্রিয়জন হারানোর দু:খ কতখানি তা বলে শেষ করার নয়।

ডা. ফারজানা রহমান দীনা, বিশেষজ্ঞ আলোচনায় বিষন্নতাকে গুরুত্ব দেয়ার উল্লেখ করে বলেন, কেউ যদি টানা দুই সপ্তাহ সব কিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখে তবে তাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন করা আবশ্যক।

ব্রাইটার টুমরো ফাউন্ডেশনের সভাপতি জয়শ্রী জামান ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসকে জাতীয় পর্যায়ে পালনের স্বপক্ষে যুক্তি দেখান। তিনি বলেন, দিবসটি জাতীয় পর্যায়ে পালন করা হলে আত্মহত্যা প্রতিরোধ নিয়ে মানুষের সচেতনতা অনেক বেড়ে যেতো। আত্মহত্যাকে অপরাধের আওতাভুক্ত না কওে মানসিক স্বাস্থ্যেও আওতায় আনার কথা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মানসিক চিকিৎসকের স্বল্পতা, হেল্প লাইন ও কাউন্সেলিং সেন্টার না থাকার কথা উল্লেখ কওে বলেন আত্মহত্যা প্রতিরোধে হেল্প লাইন ও মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং সেন্টার গড়ে তোলা প্রয়োজন। বিটিএফ জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ পরিচালিত হেল্প লাইন ও কাউন্সেলিং সেন্টার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখে বলে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মুগ্ধকে অর্গানাইজার অব দ্যা ইয়ার ও সাংবাদিক মাইনুল হাসান সোহেলকে কোলাবরেটর হিসেবে পদক তুলে দেয়া হয় এবং পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

আত্মঘাতী আচরণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জীবনের মূল স্রোতধারার সঙ্গে মানুষকে যুক্ত করার লক্ষে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশন (আইএএসপি) এর উদ্যোগে প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র (ডলিউএইচও) অনুমোদনের মাধ্যমে ২০০৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর প্রথম বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালন করা হয়। এবারের দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে-কাজের মাঝে জাগাই আশা (ক্রিয়েটিং হোপ থ্রু অ্যাকশন)। অর্থাৎ কর্মে মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করে মানুষকে আশাবাদী করে তোলাই এর মূল লক্ষ্য।



 

Show all comments
  • Dadhack ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:৫৯ পিএম says : 0
    আল্লাহর আইনে দেশ চললে মানুষ কখনো আত্মহত্যা করত না মানুষ বুঝতে পারত কেন আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টি করেছে
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আত্মহত্যা প্রতিরোধ
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ