Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

দক্ষিণাঞ্চলে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে জনদুর্ভোগ

বরিশাল ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০১ এএম

দক্ষিনাঞ্চলজুড়ে চাল, ডাল, ভোজ্য তেল, চিনিসহ বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ খুব কষ্টে আছেন। গত প্রায় দেড় বছরে করোনা মহামারী সঙ্কটে সমাজের নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের মত মধ্যবিত্তের আয় যথেষ্ঠ কমেছে। সাথে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি কষ্টের মাত্রা আরো বাড়িয়ে তুলেছে। তবে এর মধ্যেও রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য সংস্থা টিসিবির সীমিত উদ্যোগ পণ্যমূল্য বৃদ্ধি রোধে কোন ভ‚মিকা রাখতে পারছে না।

দেশি পেঁয়াজের দাম গত এক সপ্তাহে আরো ৩ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৪৮ টাকায়। গ্রামে-গঞ্জের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানি করা কোন পেঁয়াজ বাজারে না আসায় প্রতি সপ্তাহেই দাম বাড়ছে। তবে দেশি রসুনের দাম কিছুটা সহনীয়, ৬৫ টাকায় বিক্রি হলেও আমদানিকৃত রসুনের দাম প্রায় দ্বিগুণ ১২০ টাকা কেজি। দেশি আদা বাজারে নেই। চীনা আদা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজি দরে।

চিনি এতোদিন ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও গত সপ্তাহ থেকে তা ৮০ টাকায় উঠেছে। গ্রামে-গঞ্জে তা ৮৫ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন ও পাম তেলসহ সব ধরনের ভোজ্য তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। গত সপ্তাহেই সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটার প্রতি আরো ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৫৫ ও ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা লিটারে। মসুর ডালের দামও ৫ টাকা বেড়ে ৮৫ টাকায় উঠেছে। মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকা কেজি।

এদিকে চালের বাজার দফায় দফায় বেড়ে জুলাই ও আগস্টে স্থিতিশীল থাকলেও গত কয়েকদিনে কেজি প্রতি ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতোদিন নিম্ন মধ্যম মানের বিআর-২৮ বা আঠাশ বালাম ৪৫-৪৬ টাকা দরে বিক্রি হলেও তা আবার ৪৮ টাকায় উঠেছে। মধ্যম মানের মিনিকেট চালের কেজিও ৬০ থেকে ৬২ টাকায় উঠেছে। তবে ভাদ্র মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে আউশ ধান কাটা শেষ হবার পরে চালের দাম আরো একধাপ বৃদ্ধির প্রবণতা থাকে। আশ্বিনের শেষ ভাগ পর্যন্ত মাঠে কোন ফসল না থাকার পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের বিপুল সংখ্যক কৃষি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ে। সাথে চালের মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষের কষ্ট যথেষ্ট বেড়ে যায়।

এবার আগে থেকেই চালের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার সাথে নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে মানুষের দুর্ভোগের মাত্রা আরো বেড়েছে। মাছ, মুরগি ও গরু-খাসির গোশতের মূল্যও গত একমাসে বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৬০-১৬৫ টাকা। গরুর গোশত ৬শ’ টাকার কাছাকাছি। খাসির গোশত ৮শ’ টাকা কেজি। এদিকে গত একমাসে রান্নার গ্যাসের দাম তিন দফায় বেড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ৬৫ টাকায়। তবে এ অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্যেও টিসিবি বাজার নিয়ন্ত্রণে তেমন কোন ভ‚মিকা রাখছে না। গত সপ্তাহ থেকে দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার মধ্যে পিরোজপুর বাদে অপর ৫টি জেলায় মাত্র ১০টি ট্রাকে ৩টি পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে মাত্র দুটি ট্রাকে পণ্য বিক্রি শুরু হওয়ায় প্রথম দিনেই ব্যাপক কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়। মাত্র ১ হাজার কেজি চিনি, ৬শ’ কেজি ডাল ও ৫শ’ লিটার সয়াবিন তেল দেয়া হচ্ছে ডিলারদের। এ ব্যাপারে টিসিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বরিশাল মহানগরীতে আরো ১টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। সরবরাহ পেলে আগামী সপ্তাহে ৩০ টাকা কেজি দরে বিদেশি পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে বলে জানান তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ