Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার ফাঁদে ৫৫ লাখ টাকা খোয়ালেন আইনজীবী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরি কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রলোভনে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়তই। এবার খোদ এক আইনজীবীও এ ফাঁদে পা দিয়েছেন। পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার প্রলোভনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলাম প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা। একপর্যায়ে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে গত ১ জুলাই রাজধানীর খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এ আইনজীবী। গত শনিবার বনশ্রী ও শাজাহানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে সিআইডি। তারা হলো-মো.সাইমুন ইসলাম (২৬) ও মো. আশফাকুজ্জামান খন্দকার (২৬)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি কম্পিউটার, জাল ভিসা ও জাল টিকিটসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। গতকাল রোববার রাজধানীর মালবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।

তিনি বলেন, তবে এ চক্রের মূলহোতা অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী (৩৫)। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকেও দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বসবাসের কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে জাল ভিসা প্রস্তুত করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে প্রবাসী উম্মে ফাতেমা রোজী। তিনি মাঝেমধ্যে দেশে এসে উচ্চবিত্তদের টার্গেট করে আত্মীয়ের ভিসায় অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যাবে বলে প্রলোভন দেখান। সপরিবারে গেলে (স্বামী-স্ত্রী) ২৩ লাখ আর একা গেলে ১৮ লাখ, সে হিসেবে চুক্তি করতেন তিনি।
রোজী নিজেকে অস্ট্রেলিয়া ইমিগ্রেশন কনস্যুলার জেনারেল হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিতেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এছাড়া রোজী অস্ট্রেলিয়া প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছ থেকে পুরস্কৃত হন ও পুরস্কারের ছবি ভুক্তভোগীদের দেখান। এতে করে ভুক্তভোগীরা বিশ্বাস করতে থাকেন। এরপর অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশনমন্ত্রী এলেক্স হাউকির সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও জানান। এরপর ধাপে ধাপে কাগজপত্র ও ভিসার কথা বলে টাকা নিতে থাকেন। রোজী দেশে থাকাকালীন তার সঙ্গে পরিচয় হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম এ বি এম খায়রুল ইসলামের। এরপর রোজীর ফাঁদে পড়ে স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের আট সদস্যসহ অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চেয়েছিলেন তিনি। এজন্য রোজীর দেয়া দু’টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা দেন এ আইনজীবী। টাকা দেয়ার পর কাগজপত্র ও ভিসা হাতে পেয়ে সেগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখতে পান সবগুলোই ভুয়া এবং জাল।

তিনি আরো বলেন, গ্রেফতার সাইমুন ও আশফাকুজ্জামান বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাম্বাসির নিযুক্ত VFS Global Bangladesh Pvt. Ltd এর প্রতিনিধি বলে মিথ্যা পরিচয় দিতেন। তারা অস্ট্রেলিয়া অ্যাম্বাসির লোগোসহ ভিসা সংক্রান্ত সবধরনের কাগজপত্র তৈরি করে রোজীকে ই-মেইলে পাঠাতেন। পরে সেসব ভুয়া কাগজপত্র ভুক্তভোগীদের পাঠিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানেই জমা দিতে বলতেন রোজী। মিথ্যা পরিচয় দিয়ে ভুয়া কাজপত্র ব্যবহার করে চক্রটি অনেকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। রোজীকে দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবো এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অস্ট্রেলিয়া


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ