Inqilab Logo

বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৪ কার্তিক ১৪২৮, ১২ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

কলাপাড়ায় সার সঙ্কটে দিশেহারা কৃষক

ডিলারদের দাবি তারা সঠিক সময় পাচ্ছেন না সার

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬:০৪ পিএম | আপডেট : ৭:১১ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চলতি আমন মৌসুমে সার সরবরাহ না থাকায় কৃষকরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তবে স্থানীয় সার ডিলারদের দাবি সরবরাহে রয়েছে প্রতিবন্ধকতা। দিনের পর দিন সারের গুদাম ঘাটে ট্রাক কিংবা ট্রলার রেখেও মিলছেনা তাদের কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ সার। এর ফলে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। আর সার না পেয়ে প্রান্তিক কৃষকরা পরেছে দুশ্চিন্তায়।

কলাপাড়া কৃষি অফিস ও সার ডিলার মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এ উপজেলায় সরকারীভাবে ১২’শ ২৪ মেট্রিক টন সার পাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু বুধবার ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৪০ টন সার বরাদ্দ পেয়েছেন ডিলাররা।

এদিকে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সার পৌছাতে বস্তা প্রতি গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া ৩৫ টাকা। আগে পটুয়াখালীতে সারের গুদাম ছিল। এখন সেই গুদাম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিলারদের বরিশাল থেকে সার আনতে হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে বরাদ্দ পেতে টাকা জমা দেয়ার পরেও সঠিক সময়ে সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন অনেক বিসিআইসি ডিলাররা।

কৃষক মাসুম বিল্লাহ জানান, তিনি প্রায় নয় একর জমিতে আমনের চাষ করেছেন। কিন্তু গত একমাস ধরে সারে ডিলারদের কাছে ধর্না দিয়েও তিনি সার পায়নি। আপর এক কৃষক আব্দুল হক বলেন, দোকানে গিয়েও সার পাচ্ছিনা, ফসলে অবস্থাও তেমন ভাল না। আর ক্ষেতে সার দেওয়ারও সময় চলে যাচ্ছে।

লতাচাপলী ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার রুহুল আমিন জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর টাকা জমা দিলেও বরিশাল থেকে আমরা এখনও সার পাইনি। কারণ হিসেবে তিনি জানান পটুয়াখালী থেকে সার গোডাউন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলেই আমরা এমন বিপদে পরেছি।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসেসিয়োশন কলাপাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও পৌর শহরের বিসিআইসি ডিলার খাঁন ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী মো.জাকির হোসেন জানান, সঠিক সময় সার পাচ্ছিনা। এমনকি দিনের পর দিন বরিশাল ঘাটে এসে থাকতে হচ্ছে আমাদের। এর ফলে প্রতিদিন অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। সার সরবরাহ প্রতিবন্ধকতায় প্রান্তিক চাষিসহ সাব ডিলারদের মাঝেও এর প্রভাব পরেছে।

পটুয়াখালী শাখার বাফার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মশিউর ইসলাম জানান, লাউকাঠি গুদাম ঘরটির ছাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গুদাম ক্লোজ করা হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন মহলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে নতুন করে গুদাম ঘর স্থাপন করা হবে। সেই লক্ষে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ আর এম সাইফুল্লাহ বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে এ উপজেলায় ১২’শ ২৪ মেট্রিকটন সার পাওয়ার কথা থাকলেও আমরা এখনও তা পাইনি। এ বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।

বরিশাল বাফার গুদাম ইনচার্জ আবদুর রহিম খন্দকার বলেন,পটুয়াখালী গুদাম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বরিশাল থেকে সার সরবরাহ করা হচ্ছে। বৈরি আবহাওয়ায় লেবার ম্যানেজে আমাদের একটু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিলো। তার পরেও সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা প্রতিদিন ৫’শ মেট্রিকটন সার সরবরাহ করছি। আশা করছি কলাপাড়া উপজেলায় প্রতি মাসের সার পৌঁছে দিতে পারবো। আমরা সেই লক্ষে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পটুয়াখালী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ