Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১২ কার্তিক ১৪২৮, ২০ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া পেছন থেকে ছুরি মেরেছে : ফ্রান্স

ওয়াশিংটন ও ক্যানবেরা থেকে রাষ্ট্রদূত তলব করল প্যারিস

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০২ এএম

আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েনের জের ধরে ওই দুই দেশ থেকে নিজের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠিয়েছে ফ্রান্স। ফ্রান্স ২৪ নিউজ চ্যানেল জানিয়েছে, ‘পরামর্শ করার জন্য’ দুই রাষ্ট্রদূতকে প্যারিসে তলব করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ফ্রান্সের সাবমেরিন বিক্রির চুক্তি বাতিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সর্বসাম্প্রতিক এ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-ইভস লে দ্রিয়ান বলেছেন, আমেরিকা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা চুক্তির ‘ভয়ঙ্কর পরিণতি’ বিবেচনায় নিয়ে ওয়াশিংটন ও ক্যানবেরায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের তলব করা হয়েছে। ওই নিরাপত্তা চুক্তির কারণে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ফ্রান্সের সাবমেরিন বিক্রির চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের ব্যক্তিগত নির্দেশে রাষ্ট্রদূতদের তলব করা হয়েছে। আমেরিকা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়া প্রথমবারের মতো আমিরকার গোপন সামরিক তথ্য ব্যবহার করে পারমাণবিক সাবমেরিক নির্মাণ করতে পারবে। ওই তিন দেশ দাবি করেছে, ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি থেকে সৃষ্ট উদ্বেগের কারণে তারা এ চুক্তি করেছে। চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে ঘোষিত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফ্রান্স বিষয়টি জানতে পেরেছে। এ চুক্তি স্বাক্ষরের তীব্র নিন্দা জানিয়ে শুক্রবারই বিবৃতি দিয়েছে চীন। ফলে আমেরিকা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়া চুক্তিটি সই করে একইসঙ্গে চীন ও ফ্রান্সকেক্ষুব্ধ করেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরকে ‘পেছন থেকে ছুরি মারা’ বলে অভিহিত করে বলেন, মিত্র দেশগুলোর এই অপ্রত্যাশিত আচরণ অনাকাক্সিক্ষত অনেক ঘটনার জন্ম দেবে। তবে হোয়াইট হাউজের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বাইডেন প্রশাসন এ ঘটনার জন্য দুঃখিত এবং এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য শিগগিরই ফ্রান্সের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা বলেছেন, অকাস উদ্যোগ নিয়ে অনুশোচনা প্রকাশ করেছে বাইডেন প্রশাসন। শিগগিরই তাদের মধ্যকার মতবিরোধ মিটিয়ে ফেলা হবে। ওয়াশিংটনে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিজ পাইনে বলেন, তারা ফ্যান্সের হতাশার বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে কাজ করার আশা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু মিত্র দেশগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রদূতকে তলব করা অতি মাত্রায় অস্বাভাবিক বিষয়। মনে করা হচ্ছে প্রথমবারের মতো এই দুটি দেশ থেকে রাষ্ট্রদূতদের তলব করেছে ফ্রান্স। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যে সম্পর্কের একটি সেলিব্রেশন গালা অনুষ্ঠান বাতিল করেছেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। ওই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা শুক্রবার। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরনো মিত্র প্যারিস। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি করার বিষয়ে তাদেরকে অন্ধকারে রাখার কারণে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে ফ্রান্সে। কারণ, এতে বড় অংকের একটি অর্থনৈতিক আঘাত আসবে ফ্রান্সে। ফরাসি কর্মকর্তারা বলেছেন, চুক্তি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে তারা এ বিষয়ে জানতে পেরেছেন। তাদেরকে বলা হয়েছে, এটা হলো নতুন একটি নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি। যা বৃটেনসহ তিনটি দেশের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়টি ফ্রান্সের কাছে পুরোপুরি বিস্ময়। বিবিসি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফ্রান্স


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ