Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭ আশ্বিন ১৪২৭, ০৪ সফর ১৪৪২ হিজরী
শিরোনাম

খুলনায় ভারতের গ্যাসে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে

প্রকাশের সময় : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

আবু হেনা মুক্তি : ভারত থেকে তরলকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এনে খুলনায় ৮শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র করার প্রকল্প গ্রহন করেছে সরকার। কারণ খুলনা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১১০ ও ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্র দু’টি বন্ধ। ভাসমান বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও নেই। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সত্ত্বেও ৪ বছরে খুলনায় নতুন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হয়নি। আর রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে চলছে আন্দোলন সংগ্রাম। ফলে বর্তমানে ন্যাশনাল গ্রীড থেকে বিদ্যুৎ এনে এ অঞ্চলে সাপ্লাই দিতে হয়। যে কারণে পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুৎকে বিভিন্ন সময়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সূত্রমতে, ২০২১ সালকে উৎপাদনের বছর হিসেবে টার্গেট করে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের এইচ এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেড পাইপ লাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে খুলনায় এই গ্যাস সরবরাহ করবে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় গ্যাস আমদানির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং নওপাজেকো’র পরিচালনা বোর্ডে গত ১৫ নভেম্বর অনুমোদন পেয়েছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ৭ টাকা ৫০ পয়সা। যদিও দেশে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাসে ১ ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ হয় ১ থেকে দেড় টাকা। যেহেতু এ অঞ্চলে পর্যাপ্ত গ্যাস নেই তাই ভারত থেকে বেশি দামে গ্যাস আনছে কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০১১ সালের ৫ মার্চ খালিশপুরের জনসভায় বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনায় একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন যা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। অপরদিকে দীর্ঘদিন ধরে খুবিকের ১১০ ও ৬০ মেগাওয়াট ইউনিট দু’টি বন্ধ থাকলেও তা’ চালুর ব্যাপারে তেমন কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। এ সংক্রান্ত বিউবো গঠিত সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটির প্রতিবেদনে কেন্দ্র দু’টি ওভারহোলিং/পুনর্বাসন কাজের মাধ্যমে চালুর সুপারিশ করা হয়। ১৯৮৪ সালে স্থাপনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১১০ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি ৮০৩ কোটি ৫৯ লাখ ৮৩ হাজার ৯৫২ কিঃওঃ ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে। ১৯৮৯, ৯৫, ৯৯ ও ২০০০ সালে চারবার ওভারহোলিং হলেও সর্বশেষ ওভারহোলিংয়ের পর এ কেন্দ্রটি ৪৯ হাজার ৮৩৬ ঘণ্টা চালু থাকার পর বন্ধ হলেও ২৫ হাজার থেকে ২৭ হাজার ঘণ্টা চালানোর পর ওভারহোলিং করার পরমর্শ রয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত ম্যানুয়ালে।
সূত্রমতে, খুলনাঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে ভারতের গ্যাসে খুলনায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের রোডম্যাপে অগ্রসর হচ্ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় এলএনজি টার্মিনালটা হওয়ার কথা রয়েছে। তাই যদি হয় তাহলে ডিজাইন অনুসারে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যশোর হয়ে খুলনা পাইপ লাইনে এই এলএনজি আসবে। প্রতিদিন খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ১২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হবে। বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ১১০ ও ৬০ মেগাওয়াট ইউনিট দু’টি ওভারহোলিং করে চালু করার পাশাপাশি প্রস্তাবিত ২১০ মে:ও: তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ১৫০ মে:ও: পিকিং পাওয়ার প্লান্ট স্থাপন জরুরী।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব আলহাজ শেখ মোশাররফ হোসেন বলেন, খুলনায় নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরী। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত শ্রমিক নেতা আলহাজ লোকমান হাকিম বলেন, দেশের বিদ্যুৎ বিভাগকে ধ্বংসের জন্য আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। যার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বসানো হয়েছে। অথচ গ্যাস, কয়লা ও পানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেত। অপরদিকে, প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিতব্য ব্যাপক আলোচিত রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণচুক্তি সই চলতি মাসেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে অবরোধ, হরতাল, মানববন্ধন, লংমার্চ প্রভৃতি কর্মকা- অব্যাহত থাকলেও ভারতের নির্বাচিত ঠিকাদারকেই কার্যাদেশ দিয়ে প্রকল্পটি যথাস্থানে বাস্তবায়ন করতে সরকার অনড় রয়েছে। ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই কেন্দ্রটিতে ২০১৯ সালে উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনা প্রবল। বিশ্ব ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন ও পরিবেশকে বিপন্ন করে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুাকেন্দ্র স্থাপন এখন আমজনতার গলার কাটা। আর সরকারের কাছেও যেন বিষফোঁড়া।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবন থেকে সরকারি হিসাবে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দুরত্বে অবস্থিত রামপাল বিদ্যুাকেন্দ্রে যে লাখ লাখ টন কয়লা পোড়ানো হবে তা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোয়া, ছাই, রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি আশপাশের বায়ু, পানি, মাটিকে দূষিত করবে। এই দূষণ পানি ও বাতাসের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে বিশ্বের সর্ববৃহা ম্যানগ্রোপ বনাঞ্চল সুন্দরবনকে বিপন্ন করবে। রামপাল বিদ্যুাকেন্দ্রের জন্য প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ কয়লা বহনকারী জাহাজ আসা-যাওয়া করবে বনের ভিতর দিয়ে। বহুল সমালোচিত এই প্রকল্প নিয়ে ইতিমধ্যে শুধু দেশে নয়, ইউনেস্কো-রামসারসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও প্রশ্ন তুলেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: খুলনায় ভারতের গ্যাসে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ