Inqilab Logo

বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

ই-কমার্স প্রতারণায় আইনি ব্যবস্থা

সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

ই-কমার্সে বিনিয়োগ করার পর যদি কোন প্রতিষ্ঠান প্রতারণা করে তাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের কাছে খবর আসছে, সে অনুযায়ী তদন্ত কমিটি কাজ করছে। আমার অনুরোধ এই খাতে বিনিয়োগের আগে আপনারা বুঝে নেবেন ঝুঁকি কতখানি এবং আপনারা কীভাবে পাবেন। সেটা না জেনে বিনিয়োগ করা থেকে বিরত থাকবেন।

গতকাল রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ইভ্যালি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ই-বিজনেস বলুন আর যেটাই বলুন। কতগুলো প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে ইভ্যালি, ধামাকা, ই-অরেঞ্জ। এর মধ্যে কীভাবে যেন আমাদের কয়েকজন জড়িয়ে গেছে। একজনের নাম বলতেই হয়, তিনি একজন প্রখ্যাত সার্জন। তিনি তো আমার কাছে এসে কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন কিছুই জানতেন না। উনি শুধু ধামাকার সঙ্গে টেলিমেডিসিন কীভাবে প্রসার করা যায় সেটা নিয়ে আলাপ হয়েছিল। তার নামটি ধামাকায় দেয়, সেই বেচার এখন বিপদেই পড়েছেন। ইভ্যালির মতো আরও কয়েকটি ই-বিজনেস গ্রাহকের কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছে।

তিনি বলেন, কীভাবে তারা তাদের কমিটমেন্ট পূরণ করবে এটা আমার এখনও জানা নেই। তারা যে কমিটমেন্ট গ্রাহকদের দিয়েছে তা যদি পূরণ না করে তবে, আমরা আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবো। সাংবাদিকদের মাধ্যমে আবেদন করছি এ ব্যাপরে লগ্নি ও বিনিয়োগ করার আগে বুঝেশুনে করবেন। আপনারা যাতে প্রতারিত না হন। আপনারা নিজে চিন্তা করবেন এই যে প্রলোভন আপনাদের দেখাচ্ছে এটা বাস্তব সম্মত কিনা। সেটা নিজেরা চিন্তা করে বিনিয়োগ করবেন।

তিনি আরো বলেন, যারা অ্যাটাকটিভ মুনাফার কথা বলছেন যে গাড়ির দাম ১০০ টাকা বলছে ৫০ টাকায় দেবে এগুলো বাস্তব সম্মত কিনা? সেগুলো দেখেশুনে বিনিয়োগ করার জন্য অনুরোধ করছি যেন কেউ প্রতারিত না হয়। প্রতারিত হওয়ায় আশঙ্কা কি রকম আছে সেটাও তারা যেন যাচাই করে বিনিয়োগ করেন।
নেপালে পালাতে গিয়ে ভারতে আটক ই-অরেঞ্জের সঙ্গে জড়িত পুলিশের এক কর্মকর্তাকে কবে ফেরত আনা হবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। সিস্টেম অনুযায়ী চলে আসবেই। ই-কমার্স নিয়ে কোন দুর্বলতা রয়েছে কিনা, তা না হলে তারা কেন বার বার ছাড় পেয়ে যাচ্ছে বা তদারকি সংস্থার কোন দুর্বলতা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদারকি সংস্থার কোনো ধরনের গাফিলতি নেই।

যারা ই-কমার্সের অনুমতি দিচ্ছে তাদের কোন দুর্বলতা আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমার কথা হলো যদি কেউ প্রতারণা করে আইনানুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেবো। যারা প্রতারিত হচ্ছেন প্রতারণার শিকার হওয়ার আগেই বার বার চিন্তা করে বিনিয়োগ করবেন, এটা হলো আমাদের অনুরোধ।

দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে সেটা সিআইডি তদন্ত করে। এ বিষয়টা কীভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই সেগুলো আমরা তদন্ত করছি। যেখানে আশঙ্কাজনক মনে হচ্ছে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করছে এবং দেখছে। আমরা শুধু দেখছি কেউ প্রতারিত হচ্ছে কিনা, কেউ প্রতারণা করছে কিনা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ