Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫, ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ উক্তি ইসলামবিরোধী -আল্লামা শফী

বর্তমান অবস্থা মুসলিম জাতিসত্তার জন্য ভয়াবহ

প্রকাশের সময় : ৯ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

চট্টগ্রাম ব্যুরো : হেফাজতে ইসলামের আমির দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার অনুষ্ঠানে কতিপয় মুসলমানের শরিক হওয়াকে সমর্থন ও উৎসাহিত করে ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এহেন উক্তি বা বক্তব্য দেয়া সম্পূর্ণ ইসলাম ও যুক্তিবিরোধী। তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মানুসারীরাও এ ধরনের বক্তব্য স্বীকার করে না। গতকাল (শনিবার) এক বিবৃতিতে তিনি একথা বলেন। তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে মুসলিম জাতিসত্তার জন্য ভয়াবহ উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহ জাতিকে এমন অবস্থা থেকে হেফাজত করুন।
আল্লামা শফী বলেন, এটা সকলেরই স্মরণ রাখা দরকারÑ ঈদ অথবা পূজা জাতীয় কিংবা সামাজিক কোনো রীতি-অনুষ্ঠান নয়, এটা একেবারেই ধর্মীয় উৎসব। ধর্মীয় যে কোনো আয়োজন-উৎসবে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীরই স্বাতন্ত্র্যবোধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, একটি বিষয় মুসলমানদের জেনে রাখা জরুরি, অমুসলিমদের প্রতি ইনসাফভিত্তিক নাগরিক আচরণ ও সম্প্রীতিপূর্ণ মনোভাব রাখা ইসলামের শিক্ষা। অমুসলিমদেরকে সব ধরনের সামাজিক ও মানবিক সহযোগিতা করা যাবে। এতে ইসলাম কোনোরূপ বাধা দেয় না। কিন্তু তাদের ধর্মীয় উপাসনা, পূজা বা আরাধনায় যে কোনোরূপে অংশ নেয়া মুসলমানের জন্য অবশ্যই হারাম। নিজে পূজা করা যাবে না, প্রতিমা তৈরিতে ব্যক্তিগত অর্থ সাহায্য করা যাবে না, উপাসনায় দৈহিক, মানসিক, আর্থিক কোনো ধরনের সহায়তা দেয়া যাবে না। যদি কোনো মুসলমান ব্যক্তিগত পর্যায়ে অমুসলিমদের পূজা-অর্চনায় শরিক হয়, পূজা অনুষ্ঠান উপভোগ করে, দেবীর কাছে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে, দেবীর গুণকীর্তন করে, তাহলে সে কোনোভাবেই আর মুসলমান থাকে না।
প্রবীণ এই আলেমে দ্বীন বলেন, মুসলমানগণ পরস্পরের প্রতি ভাইয়ের মতো আচরণ করবে। ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে, মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগি ও ধর্মীয় আচার-আয়োজনের ক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় স্বাতন্ত্র্যবোধ বজায় রেখে ইসলামের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক আচরণের প্রশ্নে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ না করে বরং সহনশীল ও সহিষ্ণু আচরণ করবে। মুসলিম দেশে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগণ অবশ্যই নাগরিক ও সামাজিক সকল সুবিধা ভোগ করবেন।
আল্লামা শফী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ইদানীং সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়সহ কিছু কিছু মহল থেকে এমন স্লোগান তোলা হচ্ছে যেÑ ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। এটা কুফরী উক্তি। তিনি বলেন, মূলত এমন স্লোগান তোলাটা মুসলমানদের ঈমানী চেতনাবোধ ধ্বংস করার নানামুখী ষড়যন্ত্রেরই একটা অংশ। তিনি বলেন, সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা-বিশ্বাস বাদ, ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠাসহ বিজাতীয় ভোগবাদী, নগ্নপনা ও বেহায়াপনার সংস্কৃতিকে অবাধ করে দেয়ার পাশাপাশি নানাভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে এদেশের মুসলমানদেরকে এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যেতে, যেখানে মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনাবোধ বলে কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। দেখা যাবে, মুসলমান একদিকে নামাজ পড়ছেন, দাড়ি-টুপি ও হিজাব পরছেন। আবার দাড়ি-টুপি ও হিজাব নিয়েই নাচ-গান ও পূজায় শরিক হওয়াসহ নানা অনৈসলামিক কাজেও সংকোচ ছাড়াই শামিল হচ্ছেন। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের কুফল মনের অজান্তেই মুসলমানদের ঈমানী চেতনাবোধকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।