Inqilab Logo

ঢাকা সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯ চৈত্র ১৪২৭, ২৮ শাবান ১৪৪২ হিজরী

চীনা প্রেসিডেন্টের সফরকালে ঋণচুক্তি

এগিয়ে চলছে ১৩২০ মে.ও. ক্ষমতাসম্পন্ন পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ

প্রকাশের সময় : ৯ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা : এগিয়ে চলছে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ। যদিও এই বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে আগামী ১৪ অক্টোবর ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। আর এই চুক্তি স্বক্ষর হবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময়। তাই বলে কাজ থেমে নেই। আর চুক্তির আগে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে ২৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন এমন শর্তের কথা দরপত্রেই উল্লেখ রয়েছে। সে মোতাবেকই কাজ হচ্ছে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে এমন আভাস দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।
চীনের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে এই ঋণচুক্তি ছাড়াও বেশকিছু চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। চীনের এক্সিম ব্যাংক এ কেন্দ্র স্থাপনে ১৫ হাজার ২শ’ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সুদের হার হবে দুই শতাংশের কিছু বেশি।
নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি এবং চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) যৌথ মূলধনীতে এ কেন্দ্রটি স্থাপন করবে। এজন্য বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি গঠন করা হয়।
গত মার্চে কোম্পানির সঙ্গে চীনের নর্থ ইস্প ইলেকট্রিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানির মধ্যে ক্রয়, প্রকৌশল ও নির্মাণ (ইপিসি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
কোম্পানির ৩০ শতাংশ অর্থ সমানভাবে বিনিয়োগ করবে চীন ও বাংলাদেশ। বাকি ৭০ শতাংশ ঋণ নেয়া হচ্ছে চীনের এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে। প্রথমবারের মতো কোনো কোম্পানি ঋণচুক্তির আগেই কেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ শুরু করেছে।
কারণ দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী ঠিকাদার কোম্পানি নিজেদের অর্থায়নে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ঋণচুক্তির পর সে টাকা সমন্বয় করা হবে। এই টাকা দিয়ে ঋণ চুক্তির আগেই কেন্দ্র স্থাপনের ২৫ ভাগ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি অর্থমন্ত্রণালয়ের অ-রেয়াতি ঋণের স্থায়ী কমিটি (স্ট্যাডিং কমিটি অন নন কনসেশনাল লোন) এই ঋণচুক্তির শর্ত অনুমোদন দিয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এই কমিটির প্রধান।
এ বিষয়ে নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে প্রায় এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপনের জন্য জমি ভরাটের কাজ চলছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে পাইলিং-এর কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য যে যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হবে তা তৈরির কার্যাদেশও দেয়া হয়েছে।
পায়রায় তৈরি করা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আমদানি করা কয়লা দিয়ে চালানো হবে। আমদানির জন্য এরইমধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও চীনের সঙ্গেও এ ধরনের চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান।
এই কর্মকর্তার মতে, চীনের কাছ থেকে শুধু জরুরী প্রয়োজনে কয়লা আমদানি করা হবে। চীন বর্তমানে কয়লা রপ্তানি করে না। তবে বাংলাদেশকে জরুরী প্রয়োজনে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে কয়লা দিতে মৌখিকভাবে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।
আন্ধারমানিক ও রামনাবাদ নদীর মোহনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করা হবে। নদীতে নাব্য থাকায় গভীর সমুদ্র থেকে ছোট জাহাজে করে কয়লা আনতে সমস্যা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
এ দুই নদীতে গ্রীষ্ম মৌসুমে ৬ মিটার এবং বর্ষায় ১৩ মিটার পানির গভীরতা থাকে। গভীর সমুদ্রের ৭৫ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে ছোট ছোট জাহাজে করে কয়লা পরিবহন করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চীনা প্রেসিডেন্টের সফরকালে ঋণচুক্তি
আরও পড়ুন