Inqilab Logo

সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৯ কার্তিক ১৪২৮, ১৭ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

যিনি ‘পবিত্র জলে’ করোনা শেষ করতে চান, করোনাতেই টেন্ডুলকারের সেই ওঝার মৃত্যু

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৭:২৮ পিএম

শ্রীলঙ্কান রাজনীতিতে এলিয়ান্থা হোয়াইট প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা ছাড়াই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক বনে গিয়েছিলেন, যা আসলে যেনতেন কথা নয়! শুধু শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষেই নন, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক রাজনীতিবিদই শারীরিক নানা সমস্যা দূর করতে ওঝা এলিয়ান্থার শরণাপন্ন হতেন।

এই ওঝা রাজনীতিবিদদের সেবাতেই নিজেকে আটকে রাখতেন না। বিখ্যাত তারকা, বিশেষ করে ক্রিকেটারদের প্রতিও সদয় দৃষ্টি ছিল তাঁর। শচীন টেন্ডুলকারকেও ‘সারানো’র দাবি তোলা এই ওঝা শ্রীলঙ্কা ও ভারতকে করোনামুক্ত করার পন্থা বাতলে দিয়েছিলেন। নিজের ‘পবিত্র জল’ দিয়ে করোনা দূর করতে চাওয়া সেই ওঝা করোনাতেই গতকাল মারা গেছেন। ২০১০ সালে ৪৮ বছর বয়সী হোয়াইট প্রথম আলোচনায় আসেন । যখন শচীন টেন্ডুলকার প্রকাশ্যেই তাঁকে ধন্যবাদ দিয়েছিলেন। টেন্ডুলকার দাবি করেছিলেন, তাঁর হাঁটুর সমস্যা সারাতে ভূমিকা রেখেছেন শ্রীলঙ্কান এই ওঝা। আর সেটাই নাকি ওয়ানডে ইতিহাসের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি পেতে সাহায্য করেছিল তাঁকে। শুধু টেন্ডুলকার নন, ভারতের গৌতম গম্ভীর ও আশিস নেহরাও নাকি তাঁর কাছে সেবা নিয়েছিলেন।

শ্রীলঙ্কান অনেক ক্রিকেটারই তার কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পেসার লাসিথ মালিঙ্গাও আছেন। ২০১১ সালে তাঁর চিকিৎসা নেওয়ার পর উপুল থারাঙ্গা আইসিসির ডোপ টেস্টে ধরা পড়েন। এ ব্যাপারে থারাঙ্গা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু স্বীকার করেননি। কিন্তু সেটা ফাঁস হয়ে যায় তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রীর সুবাদে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী রাজাপক্ষে যখন দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন, সে সময়ে বেশ দাপট ছিল হোয়াইটের। রাজাপক্ষের অনুরোধে নাকি ইয়ান বোথামের হাড়ের ব্যথাও সারিয়ে দিয়েছিলেন হোয়াইট। এমনকি ফুটবলার ডেভিড বেকহামের চোটও সারিয়ে তোলার দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু ২০১০ সালের সে দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।

যদিও দেশটির মূলধারার চিকিৎসকেরা হোয়াইটকে ‘ভণ্ড’ বলতেন। তিন হাজার বছরের পুরোনো আয়ুর্বেদশাস্ত্র ব্যবহার করেই সেবা দিচ্ছেন, এটা বলার পরও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকেরা তাঁর চিকিৎসার কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন। বহুদিন পর গত নভেম্বরে আবার আলোচনায় আসেন হোয়াইট। তিনি দাবি করেছিলেন, ভারত ও শ্রীলঙ্কা থেকে করোনা দূর করতে পারবেন তিনি। আর সেটা করবেন দেশ দুটির নদীতে তাঁর কাছে থাকা ‘পবিত্র জল’ ঢেলে! শ্রীলঙ্কার সে সময়কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী পবিত্র বান্নিয়ারাচ্চির এ প্রস্তাব বেশ পছন্দ হয়েছিল। কিন্তু দুই মাস পর নিজে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আইসিইউ ঘুরে আসার পর পদাবনতি হয়েছে বান্নিয়ারাচ্চির।

এদিকে বান্নিয়ারাচ্চির এ ঘটনার পর আর ‘পবিত্র জল’ প্রকল্প এগোয়নি। হোয়াইট করোনায় আক্রান্ত হয়ে বেসরকারি এক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গতকাল সেখানেই মৃত্যুবরণ করেছেন ১২ বছর বয়সে ‘বিশেষ ক্ষমতা’ পাওয়ার দাবি তোলা এই ওঝা। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, কোভিড-১৯–এর টিকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন তিনি। হোয়াইটের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন দীর্ঘদিন তাঁর চিকিৎসা নেওয়া দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষেও।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: শ্রীলঙ্কা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ