Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১০ কার্তিক ১৪২৮, ১৮ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

ইউনিয়ন ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা উধাও: সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ও উদ্বেগ

শাহেদ নুর | প্রকাশের সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:৪২ এএম

সম্প্রতি ইউনিয়ন ব্যাংকের ভল্ট থেকে ১৯ কোটি টাকা উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ভেদ করে ব্যাংকের গুলশান শাখার ভল্ট থেকে টাকা উধাওয়ের এ ঘটনায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নেটিজেনরা। তারা অচিরেই এই টাকা উদ্ধার ও এই ঘটনার সাথে জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গত সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল এমন তথ্য উদঘাটন করে। জানা গেছে, কাগজে-কলমে শাখার ভল্টে ৩১ কোটি টাকা দেখানো হলেও প্রকৃত পক্ষে ছিল ১২ কোটি টাকা। বাকি ১৯ কোটি টাকার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এরপর বিষয়টি ধামা চাপা দিতে নানা তৎপরতা শুরু হয়। এ নিয়ে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

এ প্রসঙ্গে কামাল উদ্দিন ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘দারুন খবর! এর চেয়ে ভালো খবর আর কি হতে পারে? যে যেভাবে পারছে সেভাবে লুটেপুটে খাচ্ছে! কারও দেখার ভ্রুক্ষেপ নেই! খেয়ে যাও যে যেভাবে পারো। অথচ সামান্য টাকার একটা রেপিড পিসিআর ল্যাব স্থাপন করতে সরকারের এতো গড়িমসি, এতো ঠেলাঠেলি, এতো টাল্টিফাল্টি! ডেসটিনি, যুবক, ইউনি পে টু, হলমার্ক, শেয়ার বাজার, ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ই-রিং, এহসান গ্রুপ হাজার কোটি টাকা মেরে/খেয়ে/পালিয়ে/পাচার করে যাচ্ছে, তার কোন খবর নাই! এরকম আরও যে কতো প্রতিষ্ঠান আছে তার হিসেব নেই। প্রতিদিন এরকম খবর আসবে আরও! এখানে হা-হোতাশের কিছুই নেই। এটা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ এবং এগুলো নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকতে হবে।’

মাহফুজুল করিম লিখেছেন, ‘শুধু ব্যাংক না, বর্তমানে প্রতিটি সেক্টর কাগজে কলমে ১০০% ঠিক, কিন্তু বাস্তবে ১০%ও ঠিক নাই। সাধারণ মানুষকে নিয়ে তারা পুতুল খেলা খেলছে। দায়ভার কেউ নেবে না, একটা তদন্ত কমিটি হবে, তদন্ত চলতে থাকবে, কাজ শেষ! মাঝখানে জনগন সম্পদ হারাবে, কার কি এসে যায়? আমরা শুধু ইতিহাস শুনবো, আজকের লেখা কাগজের ইতিহাস আগামী প্রজন্ম মুখস্ত করবে যে, দেশ ছিল উন্নয়নে ভরপুর, কিন্তু বাস্তবে ছিলো লুট-পাট আর চুরি।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে মুর্তজা খান লিখেছেন, ‘ব্যাংকের ভোল্ট থেকে ১৯ কোটি টাকা উধাও। সেখানে কর্তা ব্যাক্তিরা কিছুই করতে পারে না। সঞ্চয়পত্রের সামান্য কিছু মুনাফা দিয়ে যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠি কোন রকমে জীবন ধারণ করতো, সেখানে মুনাফা কমানোর ঠিকই নজরদারি করতে পারে অর্থনীতি গেলো, গেলো বলে। বিচিত্র এ দেশ!’

শাস্তির দাবি জানিয়ে আমিনুল ইসলাম লিখেছেন, ‘এই ঘটনার সাথে জড়িত সকলের এমন দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দেয়া হোক যাতে আর কেউ কোন দিন এমন কাজ করার সাহস না পায়।’

হতাশা প্রকাশ করে রাশেদ বড়ুয়া লিখেছেন, ‘দেশে দুর্নীতি-লুটপাট চলছে, মানুষ এখন টাকা কোথায় রাখলে নিরাপত্তা পাবে? পাতিল ভরে মাটিতে পূঁতে রাখা ছাড়া কোন পাথ নাই!’

উদ্বেগ জানিয়ে সাইয়েদ আবদুল আওয়াল লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যাবস্হার প্রতি মানুষ আস্হা হারিয়ে ফেলছে। আর এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকিং খাতের ধস অনিবার্য।’

রাশেদ হারুনুরের পরামর্শ, ‘অন্য সব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকেও আকস্মিক অভিযান চালানো হোক।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সোশ্যাল মিডিয়া


আরও
আরও পড়ুন