Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

শিমুলিয়া নৌ-রুট: ৩৯ দিন ধরে ফেরি সার্ভিস বন্ধ, দুর্ভোগে ২১ জেলার মানুষ

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৩:৩৬ পিএম

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম প্রবেশপথ শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌ-রুটে দীর্ঘ ৩৯ দিন ধরে ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগে দুর্ভোগে পড়ছে।অনেকে প্রচন্ড স্রোতের মধ্য লঞ্চ ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে পদ্মা পাড়ি দিচ্ছে। এই নৌরুটে ফেরি বন্ধ থাকায় বিকল্প রুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া দিয়ে যাতায়াত করছে অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন। ওই পথে দীর্ঘ সময় লেগেছে,একই সঙ্গে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।

এর আগে পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতে দুর্ঘটনা এড়ানোর কথা বলে গত ১৮ আগস্ট অনির্দিষ্ট কালের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ।
এ রুটে পদ্মা পাড়ি দিতে গিয়ে চারবার পদ্মা সেতুতে ফেরির ধাক্কার ঘটনা ঘটে।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কর্তৃপক্ষ বলছে, স্রোতের তীব্রতা না কমলে ফেরি চালু হবে না। তাই এই নৌ-রুটে কবে নাগাদ ফেরি সার্ভিস চালু হবে, তা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছেন না।
এদিকে এই নৌপথে ফেরি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া হয়ে রাজধানী ঢাকায় যেতে হচ্ছে। এতে দ্বিগুণের বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে ফেরি পারাপারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
বর্তমানে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে যাত্রী পারাপারে একমাত্র ভরসা লঞ্চ। তাও সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত চলাচল করছে। নৌপথে রাতের অন্ধকারে দুর্ঘটনা এড়াতে রাতের বেলায় লঞ্চ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি ঘাট সূত্র জানায়,শিমুলিয়া নৌপথে ১৮ টি ফেরি রয়েছে। গত জুলাই ও আগস্ট মাসে পদ্মায় তীব্র স্রোত অব্যাহত থাকায় ২৪ দিনে পদ্মা সেতুর তিনটি পিলারে চারবার ফেরির ধাক্কা লাগে। এতে আহত হন বেশ কয়েকজন যাত্রী। ফেরির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতুর পাইল ক্যাপ। এই পরিস্থিতিতে নৌপথে সব ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে গত মাসের ১৮ আগস্ট দুপুরের পর থেকে এই নৌপথে ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফেরি বন্ধের এক মাসের বেশি সময়ে পদ্মায় স্রোতের গতি না কমলেও পানির উচ্চতা অনেকটা কমেছে। শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার পর বিকল্প রুট হিসেবে বাংলাবাজার ঘাটের পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি নৌরুট ভাবা হয়েছিল। ওই রুটে ফেরি চালুর জন্য মাঝিকান্দিতে ফেরির পন্টুন বসানো হলেও তা চালু হয়নি। এই রুটে নৌ-চ্যানেলে একাধিক ডুবোচর থাকায় ফেরি চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিসি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি) শিমুলিয়া ঘাটের উপ-মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) শফিকুল ইসলাম ইনকিলাবকে বলেন, এখনো ফেরি চালুর বিষয় কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। পদ্মায় পানির উচ্চতা আগের তুলনায় কমেছে, কিন্তু স্রোত আগের মতই আছে। স্রোতের তীব্রতা না কমলে ফেরি চালু হবে না। ফেরি চালু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে কবে নাগাদ ফেরি চালু হবে, তা বলা যাচ্ছে না। চালু হলে অবশ্যই জানানো হবে।

বিআইডব্লিউটিসি শিমুলিয়া ঘাট সূত্র জানায়,পদ্মায় এখনো ঘণ্টায় ৪ দশমিক ৭৮ নটিক্যাল মাইল বেগে স্রোত চলছে। পদ্মার পানির গতি নিয়ে আমরা নিয়মিত মনিটর করছি। স্রোতের বেগ ঘণ্টায় দুই বা আড়াই নটিক্যাল মাইলে এলে তখন ফেরি চলতে পারবে। এখন যে অবস্থায় স্রোত আছে, তাতে ফেরি চলাতে গেলে আবার দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকটাই সুনসান শিমুলিয়া ফেরিঘাট। ঘাটের পন্টুনের পাশে কয়েকটি ডাম্ব ফেরি নোঙর করে রাখা রয়েছে। ঘাটে দায়িত্বশীল নেই কোনো কর্মকর্তা। ফেরি না চলায় কোনো গাড়িও এখন আর পারাপারের জন্য এই ঘাটে ভিড়ছে না। যাত্রীরা যারা ঘাটে আসছেন, তারা ফেরিঘাটে না এসে লঞ্চঘাটের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। ফেরির যাত্রীরা লঞ্চে পদ্মা পারাপার হচ্ছেন। এ কারণে লঞ্চগুলোয় অতিরিক্ত চাপও দেখা গেছে।

খুলনাগামী লঞ্চের যাত্রী জয়নাল ফকির বলেন, পরিবার নিয়ে ঢাকায় বিয়ের দাওতে গিয়েছিলাম ফেরি বন্ধ থাকায় প্রচন্ড স্রোত ও ঢেউয়ের মধ্য লঞ্চ দিয়ে নদী পাড় হতে হচ্ছে। শিবচরগামী যাত্রী মোজাম্মেল জানান গত সপ্তাহে আমার মা অসুস্থ ছিলেন। তাকে ঢাকা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এই নৌরুটে ফেরি বন্ধ থাকায় বিকল্প রুট দিয়ে যেতে হয়েছে। ওই পথে দীর্ঘ সময় লেগেছে, একই সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াও দ্বিগুণ দিতে হয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এক যাত্রী বলেন, স্রোতের অজুহাত দেখিয়ে ফেরি বন্ধ রেখেছে, আর কর্মকর্তাদের এখন কোনো কাজ করতে হচ্ছে না। প্রতিবছরই এই সময়ে স্রোত বাড়ে। হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে জরুরী সেবার জন্য অন্তত অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীবাহী গাড়ি পার করার জন্য দু-একটি ফেরি কি চালু রাখা যেত না। আসলে আমাদের মত সাধারন মানুষের জীবন মূল্যহীন।

বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত স্রোত বেশি। স্রোত না কমলে ফেরি ছাড়া যাবে না। তাই আমরা বিকল্প পথ হিসেবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় সব যানবাহন পারাপার করছি। এই পথে কিছুটা দুর্ভোগ হলেও এ অবস্থায় কিছুই করার নেই। শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে কবে নাগাদ ফেরি চালু হতে পারে এ প্রশ্নের জবাবে তাজুল ইসলাম বলেন, স্রোত-বর্ষার ওপর নির্ভর করে। এখন কবে স্রোত কমবে, তা বোঝা যাচ্ছে না। আমরা দেখি, খুব শিগগির পরীক্ষামূলকভাবে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরি চালু করা যায় কি না। বিকল্প রুট হিসেবে শরীয়তপুরের মাঝিকান্দিতে ফেরি চালুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে স্রোত কম থাকলেও চর বেশি। সেখানেও ফেরি চালানো যাচ্ছে না।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ফেরি চলাচল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ