Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩ কার্তিক ১৪২৮, ১১ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

ইভ্যালির বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা কমিশনের মামলা, রায় শিগগিরই

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৫:৪২ পিএম

লোভনীয় অফার দিয়ে গ্রাহক প্রতারণার দায়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা কমিশনের পক্ষ থেকে আলাদা তদন্তও করা হচ্ছে। প্রতিবেদন হাতে পেলেই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে করণীয়’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র, বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবি’র শিক্ষক প্রফেসর খালেদ মাহমুদ, কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, নিউজ বাংলা২৪ডট কম এর বিজনেস এডিটর আব্দুর রহিম হারমাছিসহ আরো অনেকে।

লোভনীয় অফারের ফাঁদে ফেলে গ্রাহক প্রতারণা, অর্থ আত্মসাতের মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী শামিমা নাসরীন।

এবার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নতুন মামলার কথা জানাল বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। কমিশন বলছে, ২০২০ সালে ১২ আগস্টে প্রচারিত ঈদ ধামাকা অফার নিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার করে ইভ্যালি। যেখানে পণ্যক্রয়ে ৮০ শতাংশের বেশি মূল্যছাড় দেয়ার কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি। এই বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে তদন্তে নেমে গ্রাহক প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হয় বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ইভ্যালির ঈদ ধামাকা অফার দেখে আমার মনে হলো এটা কী করে সম্ভব? কিভাবে একটা বাইক অর্ধৈক দামে বিক্রি করে তারা। বিষয়টি নিয়ে আমি কমিশনের আলাপ করলাম। গত ১২ আগস্টে তারা বিজ্ঞাপন প্রচার করে। ২৫ আগস্টে আমরা ব্যবসায়িক সব ধরনের তথ্য চেয়ে ইভ্যালি ও ই-ক্যাবকে চিঠি দেই। তারা কিছু তথ্য দিয়েছে। কিছু তথ্য দেয়নি। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই স্বপ্রণোদিত হয় ইভ্যালির বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানান মফিজুল ইসলাম।

এ সময় তিনি মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, শুধু ঈদ ধামাকা অফার নয়; বরং তাদের আরও লোভনীয় অফারের খোঁজ পাই আমরা। যেসব বিষয়ে তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় এখন পর্যন্ত ইভ্যালি নিয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করতে আসেনি।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অফারের আড়ালে গ্রাহকদের সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে এখন থেকে কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে গ্রাহককে তা প্রতিযোগিতা কমিশনকে জানানোর পরামর্শ দেয়া হয়।

বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুভ্রত রায় মৈত্র বলেন, আমরা শুধু নেটওয়ার্ক ট্রান্সমিশন সেবা দিয়ে থাকি মোবাইল ব্যাংকিং খাতে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতি করার সময় ১ জনের আইডি ব্যবহার করে অন্যজন সিম ব্যবহার করার কারণে কিছু অ-নিরাপত্তা এখনও রয়েছে। আমরা দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় সার্ভিস চার্জ আরো কমিয়ে আনা যায় কিভাবে সে ব্যাপারে প্রতিযোগিতা কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সকলকেই ভেবে দেখার আহŸান জানান।

ব্যারিস্টার ড. তুরিন আফরোজ বলেন, ২০০৮ সাল থেকেই কমিশনের আইন প্রণয়নের সাথে আমি যুক্ত ছিলাম। কিন্তু কমিশনগুলি নিজেরা শক্তিশালী না হবার কারণে দাঁত, নখবিহীন কমিশনে পরিণত হয়েছে। এক চেটিয়া বাজার আধিপাত্য রোধ করতে প্রতিযোগিতা কমিশনকে আরো শক্তিশালী ভ‚মিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, ভারতে যদি ২৫ পয়সা থেকে ৫০ পয়সা কোন দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পায় সঙ্গে সঙ্গে ভারতের নাগরিকরা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু বাংলাদেশে গ্রাহকদের ভিতর সমন্বয় না থাকায় বিভিন্ন কোম্পানীগুলি ও বাজারে মনোপলি ও মুনাফাখোররা তাদের নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে থাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর প্রফেসর খালেদ মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ একটি কোম্পানী কিভাবে একক আধিপাত্য বিস্তার করলো এবং উচ্চ মূল্যের সার্ভিস চার্জ আদায় করলো এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভ‚মিকা কি তাও ভেবে দেখা দরকার।

কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজির হোসাইন বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা দ্রæত ফিরিয়ে আনা না গেলে এর পরিণতি হবে ই-কমার্সের মতো। বাজারে দ্রæত আধিপত্ত বিস্তারকারী প্রতিষ্ঠানকে জবাব দিহিতার মধ্যে এনে সার্ভিস চার্জ কমিয়ে কিভাবে বাজারে প্রতিযোগিতা আনা যায় এবং ছোট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা যায় এ ব্যাপারে প্রতিযোগিতা কমিশনকেই ভ‚মিকা পালন করতে হবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দাবি ছিল প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণকে সুবিধা দিতে হলে সার্ভিস চার্জ কমিয়ে বাজার প্রতিযোগিতা সৃষ্টির বিকল্প নাই।

তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা মহোদয়ের ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে পরিকল্পনা তা বাস্তবায়ন করতে হলে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় সার্ভিস চার্জ কমিয়ে আনা ও বাজার প্রতিযোগিতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইভ্যালি

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ