Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

পূর্বানুমতি গ্রহণ কেন অবৈধ নয় -হাইকোর্টের রুল

সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২:০০ এএম

পূর্বানুমতি ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের গ্রেফতার করা যাবে- মর্মে প্রণীত বিধান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না- এই মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। রিটের শুনানি শেষে গতকাল রোববার বিচারপতি এম.ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। কুড়িগ্রামের স্থানীয় সাংবাদিক মো. আরিফুল ইসলাম রিগানের দায়েরকৃত রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু এবং অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সচিব ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

রুলের বিষয়ে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু জানান, উপরোক্ত রুল জারির পাশাপাশি হাইকোর্ট আরও কিছু বিষয়ে রুল জারি করেন। ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়া সত্তে¡ও কুড়িগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা. সুলতানা পারভীন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজিম উদ্দিনকে পোস্টিং দেয়া থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া এনডিসি এস এম রাহাতুল ইসলামকে বরিশালে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পোস্টিং দেয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট চার সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলমান। সে মামলায় তারা এখনো জামিন নেননি। ফলে আইনের দৃষ্টিতে তারা এখন ‘পলাতক’। অথচ তারা ফৌজদারি মামলার আসামি। তা সত্তে¡ও তাদের বরখাস্ত না করে একজনকে পোস্টিং দেয়া হয়েছে। অন্য তিনজনকে পোস্টিংয়ের চেষ্টা চলছে। এটি আইনবহির্ভূত। তাই একজনের পোস্টিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং মামলার তিন আসামিকে যেন পোস্টিং দেয়া না হয় সেজন্য রিট করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কুড়িগ্রামের তৎকালিন ডিসি সুলতানা পারভীনের নামে জেলা প্রশাসনের একটি পুকুরের নামকরণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে ২০২০ সালের ১৩ মার্চ মধ্যরাতে (১৪ মার্চ) একটি অনলাইন পোর্টালের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিপুল ইসলাম রিগানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান জেলা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা। এরপর তাকে ক্রসফায়ারে দেয়ার হুমকি দিয়ে জেলা প্রশাসনে নিয়ে বিবস্ত্র করে পাশবিক নির্যাতন করা হয়। পরে তার কাছে আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা পাওয়ার অভিযোগ এনে এক বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়। ওই রাতেই তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় কারাগারে। এ ঘটনার প্রচার হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় পরদিন ঘটনাস্থলে যান রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। তার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এনডিসি এসএম রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা শুরু করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যার ধারাবাহিকতায় সুলতানা পারভীনকে ২ বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) স্থগিত, এনডিসি রাহাতুল ইসলামের তিনটি ইনক্রিমেন্ট কর্তন, আরডিসি নাজিম উদ্দিনকে নিম্নধাপে নামিয়ে দেয়া এবং রিন্টু বিকাশ চাকমাকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। যদিও রিন্টু বিকাশ চাকমার বিষয়ে এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। তবে অন্যদের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। তাদের মধ্যে এনডিসি রাহাতুল ইসলামকে বরিশালে পোস্টিং দেয়া হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হাইকোর্টের রুল


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ