Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৬, ১৮ শাবান ১৪৪০ হিজরী।

নরসিংদীতে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা

প্রকাশের সময় : ১০ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

সরকার আদম আলী, নরসিংদী থেকে ঃ লম্বা বেগুন উৎপাদনে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে পরিচিত নরসিংদীতে এখন লম্বা বেগুনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। নরসিংদী জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকার বাজারগুলোতে বেগুনের আমদানী একেবারেই কমে গেছে। বেগুনের মূল্য বেড়ে অস্বাভাবিক দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি মান সম্পন্ন লম্বা বেগুন বর্তমানে ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যেসব বেগুন একেবারেই পোকাক্রান্ত, কুকড়া ও বাঁকা-তেড়া সেসব বেগুনও বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। ময়মনসিংহ এলাকার যেসব ছোট ছোট আঙ্গুল সাইজের বেগুনের বাজার মূল্য ছিল কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা, সেসব বেগুনও এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো বাজারে এখন ভর্তা খাবার বেগুনও পাওয়া যাচ্ছে না। বেগুন চাষীরা জানিয়েছে, নরসিংদী জেলার বিস্তীর্ণ পাহাড়ী অঞ্চলসহ পাহাড়ী সমভূমি সুদূর অতীত কাল থেকেই বেগুন উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। রাজধানী ঢাকাসহ এর আশেপাশের শহরাঞ্চলগুলোতে যেসব বেগুন বিক্রি হয় তার ৪০ ভাগই নরসিংদীতে উৎপাদিত লম্বা বেগুন। অর্থাৎ রাজধানী ঢাকার ৪০ ভাগ বেগুনের চাহিদা পূরণ করে নরসিংদী। দেশে বন্যা দেখা দিলে বিস্তীর্ণ সমভূমি যখন পানির নিচে তলিয়ে যায় তখনও নরসিংদী জেলার পাহাড়ী ও পাহাড়ী সমভূমিতে ব্যাপকভাবে বেগুন উৎপাদিত হয়। শীতের শেষে গ্রীষ্মের প্রারম্ভে এবং শীতের শুরুতে নরসিংদীতে এত বেশী লম্বা বেগুন উৎপাদিত হয় যে, বেগুনের দাম মাঝে মধ্যে ২ টাকা কেজিতে নেমে আসত। বেগুনের দাম কমে যাওয়ায় নরসিংদীর বেগুন চাষীদের অনেকে আত্মহত্যাও করেছেন বলে রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া চাষীরা উৎপাদিত বেগুন রাস্তায় ফেলে দাম হ্রাসের প্রতিবাদও জানিয়েছে বহুবার। সেই নরসিংদী এখন লম্বা বেগুন শূন্য হয়ে পড়েছে। নরসিংদীর ব্রাহ্মন্দী নয়া বাজারে লম্বা বেগুনের আকালের সময়ও পলাশের খোরশেদ আলম নামে এক বেগুন ব্যবসায়ী লম্বা বেগুন আমদানী করে মানুষের রসনা তৃপ্ত করে থাকেন। লম্বা বেগুনের মূল গ্রাহক হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা। বিভিন্ন তরকারীর আকালের সময় তারা এক কেজি আধা কেজি লম্বা বেগুন নিয়ে পিঁয়াজ কুচি করে পোড়া মরিচ দিয়ে ভর্তা বানিয়ে খেয়ে থাকে। খোরশেদ আলম বেগুন নিয়ে আসবে এ আশায় নিম্ন আয়ের মানুষেরা বাজারে আগাম সময়ে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তিনি বেগুন নিয়ে আসলে তারা বেগুনের পাতির উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। সেই খোরশেদ আলম অর্থাৎ সকলের ‘খোরশেদ কাহা’ এখন কোথাও বেগুন খুঁজে পাচ্ছে না। বেগুন ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের দৃষ্টিতে এবছর হচ্ছে বেগুনের সবচেয়ে বড় আকালের মৌসুম। তিনি ২৫ বছর যাবত বেগুনের ব্যবসা করেন। এর আগে বেগুনের এতবড় আকাল তিনি দেখেননি। তিনি জানান, নরসিংদীর পাহাড় অঞ্চলে ভাল মানের যে বেগুন উৎপাদিত হচ্ছে তা ফড়িয়ারা জমি থেকেই ক্রয় করে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে। নরসিংদীর বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে পোকরা-কুকড়া বেগুন। যা এক পাতিতেও এক তরকারী হয়না। লম্বা বেগুনের এত আকালের কারণ হিসেবে চাষীরা জানিয়েছে, এবছর উল্টা পাল্টা ঘন ঘন বৃষ্টিপাতের কারণে বেগুন ক্ষেত মরে গেছে। বেগুন সাধারণত বৃষ্টির চাপ সইতে পারে না। তাছাড়া বৃষ্টিসহনশীল জাতের বেগুন চাষের সময় পেরিয়ে গেছে। এখন ক্ষেতে যেসব বেগুন রয়েছে তা গাছঝাড়া শেষ পর্যায়ের বেগুন। এরপর বর্তমান সময়ে চাষীরা শীত মৌসুমের শুরুতে উন্নত জাতের বেগুনের চারা রোপণ করছে ও করবে। সেই সব নতুন গাছে বেগুন ফলন পর্যন্ত স্বল্পমূল্যে বেগুনের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন