Inqilab Logo

রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০১ কার্তিক ১৪২৮, ০৯ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী

নান্দাইলে বৃদ্ধ খুনের রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১১:২৯ পিএম

ময়মনসিংহের নান্দাইলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে অজ্ঞাতনামা প্রায় ৭৩ বছরের বৃদ্ধের গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়। সেই অজ্ঞাতনামা ব্যাক্তির পরিচয় ও হত্যাকান্ডের রহস্য মাত্র ছয় দিনের মধ্যে উদঘাটন করল পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা।

ডিআইজি পিবিআই বনজ কুমার মজুমদারের তত্ত্বাবধান ও দিক নির্দেশনায় পিবিআই ময়মনসিংহ ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস এর সার্বিক সহযোগিতায় একটি টিম উক্ত হত্যাকান্ডের ছায়া তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তে পিবিআই এর ডিজিটাল ফিঙ্গার প্রিন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রথমে অজ্ঞাত মৃত ব্যক্তির পরিচয় সনাক্ত পূর্বক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তার মঙ্গলবার সকালে হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী আবুল হাসানাতকে নরসিংদী জেলার মাধবদী থানাধীন ফুলতলা গ্রামের চাঁন মিয়ার ভাড়া বাসা হতে গ্রেফতার করা হয়। সেই সাথে আসামীর নিকট হতে নিহতের সাথে থাকা ৩০হাজার টাকার মধ্যে নগদ ৮হাজার টাকা ও ২টি মোবাইল ফোন, আইডি কার্ড ও মৃতের কাপড় সহ ব্যবহৃত অন্যান্য জিনিস উদ্ধার হয়।

আটকের পর আসামী আবুল হাসনাতের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নান্দাইলে ঘটনাস্থলের পাশের ধান ক্ষেত হতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার হয়।

হত্যার ঘটনাটি নিয়ে উপজেলার কালেঙ্গা গ্রামের গ্রাম পুলিশ মজিবুর রহমান বাদী হয়ে আবুল হাসনাতসহ অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে নান্দাইল থানার মামলা দায়ের করেন। নিহত ব্যাক্তি নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার তেলিয়া গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তারের ছেলে ফজলু মিয়া (৭৩)

হত্যার বিবরণ: নিহত ফজলুল হক তার স্ত্রী সন্তানসহ শ্বশুর বাড়ীতে থাকতেন। প্রায় সাত বছর পূর্বে স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য হলে একাই তার নিজ বাড়ী নরসিংদী সদর উপজেলার খাটেহারা পূর্বপাড়ায় বসবাস করতে থাকেন। এসময় নান্দাইর উপজেলার কালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে হত্যাকারী আবুল হাসান (৩৫) স্ত্রী নাজমিন আক্তারকে নিয়ে দেড় বছর যাবত ভাড়া থাকতো। সেই সুবাদে নিহত ফজলুল হকের সাথে আবুল হাসানের সুসম্পর্ক হয়। এ অবস্থায় হত্যাকারী আবুল হাসানের স্ত্রীর সিজারের জন্য টাকার প্রয়োজন হওয়ায় সে ফজলুল হকের নিকট হতে ৭হাজার টাকা ধার নেয়। এ অবস্থায় আবুল হাসানের ধারণা ফজলুল হকের নিকট প্রচুর নগদ টাকা-পয়সা থাকে। আর সেই ধারণা থেকেই আবুল হাসান পুনরায় তার নিকট টাকা ধার চাইলে তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এতে আবুল হাসান ফজলুল হকের প্রতি ক্ষুব্ধ হয় এবং আরো টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকে। পরবর্তীতে কৌশলে ফজলুল হককে হত্যাকারীর নিজ বাড়ী নান্দাইলে বেড়াতে নিয়ে আসার পথে রাত অনুমান সাড়ে সাতটার দিকে বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে ধান ক্ষেতের আইলে ফজলুল হককে ধারালো দা দিয়ে জবাই করে হত্যা করে। এবং ঘটনাস্থলেই হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা ঢিল দিয়ে ধান ক্ষেতে ফেলে দেয় এবং ফজলুল হককে হত্যার পর হত্যাকারী আবুল হাসান নিহতের সাথে থাকা নগদ ৩০হাজার টাকা ও ২টি মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। তারপর ময়মনসিংহ পিবিআই মঙ্গলবার তাকে নরসিংদী থেকে আটক করে নান্দাইল থানায় হস্তান্তর করে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে বুধবার আদালতে প্রেরণ করা হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ময়মনসিংহ


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ