Inqilab Logo

শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২১ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে পদ্মার একীভূত হওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে

অর্থনৈতিক ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৬:৫৪ পিএম

নানা কারণে আলোচিত পদ্মা ব্যাংক টাকার অভাবে পড়ে সরকারি কোনো ব্যাংকের সঙ্গে একীভ‚ত হওয়ার প্রস্তাব সরকারকে দিয়েছে, তা মন্ত্রণালয়ের হাত ঘুরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে রয়েছে। আর তাই ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের পর ডুবতে থাকা পদ্মা ব্যাংককে রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো ব্যাংকের সঙ্গে একীভ‚ত করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল। বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে একথা জানান তিনি।

সরকার কী ভাবছে- এ প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ব্যাংক যেগুলো মার্জার করা দরকার, সেগুলো মার্জার হবে। সেটার আইন ড্রাফট হয়ে গেছে। আমরা এগুলোকে সংসদে নিয়ে আসব। সেখান থেকে অনুমোদিত হয়ে যাওয়ার পর মার্জার কার্যক্রম শুরু হবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৭৭ ধারায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মার্জার বা একীভূত হওয়ার বিধান থাকলেও দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভ‚ত করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে তাই বাধ্যতামূলকভাবে একীভ‚ত করতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পদ্মা ব্যাংকের আগে নাম ছিল ফারমার্স ব্যাংক। অনিয়ম আর ঋণ কেলেঙ্কারিতে ব্যাংকটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে তার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন ঘটে ২০১৭ সালে।

পরের বছর ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন চৌধুরী নাফিজ সরাফাত, যিনি রেইস অ্যাসেট ম্যানেজেমেন্ট পিএলসি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডেরও চেয়ারম্যান। মালিকানায় পরিবর্তনের পর ব্যাংকের নামও পরিবর্তন হয়। সে সময় পদ্মা ব্যাংককে উদ্ধার করতে ৭১৫ কোটি টাকার মূলধন জোগায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি ব্যাংক, যা ব্যাংকটির মোট মূলধনের ৬৬ শতাংশ। কিন্তু টাকার অভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হিমশিম খাওয়া এ ব্যাংক এখন আবার সরকারের কাছে নতুন আবেদন করেছে।

পদ্মা ব্যাংকের আবেদনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে মুস্তফা কামাল বলেন, আমি এখনও পদ্মা ব্যাংকের মার্জার আবেদন হাতে পাইনি। (তবে) বিষয়টি আমাদের জানা আছে। সেটা হচ্ছে, পদ্মা ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোতে আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো সবগুলো জড়িত আছে। সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংকের শেয়ারই পদ্মা ব্যাংকে আছে এবং সেভাবেই ব্যাংকটি পরিচালিত হচ্ছে। পদ্মা ব্যাংকের বোর্ডে জনতা, সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক রয়েছে। সুতরাং তাদের প্রস্তাব অবশ্যই বিবেচনা করতে পারি। তার আগে আইনটি হতে হবে। আইন হওয়ার পর আমরা বিবেচনা করব।

সরকারের টাকা নিয়েও দুরবস্থা কাটাতে না পারা পদ্মা ব্যাংককে উদ্ধারের চেষ্টা নিয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, শুরুর দিকে যারা পদ্মা ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা ব্যাংকটি চালাতে পারে নাই। অনেক দুর্নীতি হয়েছে সেখানে। কোথায় দুর্নীতি হয়েছে, সেটা এখনও আমরা জানতে পারি নাই। কারণ হল প্রাইমারিলি আমাদের কাছে যে স্টেটমেন্ট ছিল এবং আমরা যেটুকু বুঝতে পেরেছি, সেই বোঝার ভিত্তিতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং তারা এখন জেলে আছে। এছাড়া সরকারের আর কী করার আছে। এখন ওই ব্যাংকটিতে যারা শেয়ারহোল্ডার আছেন, যারা ঋণ গ্রহিতা বা ব্যাংকে টাকা জমা রেখেছেন, তাদের সুরক্ষার বিষয়টি আমাদের দেখতে হবে। সেজন্যই যাতে ব্যাংকটি বন্ধ না হয়ে যায়, এটাকে চলমান রাখা যায়, সেজন্যই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো এগিয়ে এসেছে।

পানামায় নিবন্ধিত বিনিয়োগ কোম্পানি বিজনেস রিসার্চ ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন (ব্রিক) ও সিঙ্গাপুরের হিরো ফিউচার এনার্জি এশিয়ার যৌথ উদ্যোগকে খুলনায় ৫০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা। দেশটির আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠার বিষয়টি তুলে ধরলে অর্থমন্ত্রী বলেন, পানামা একটা দেশের নাম। পানামার যে প্রতিষ্ঠান নিয়ে কন্ট্রোভার্সি, দুটো ভিন্ন জিনিস। পানামা দেশটি পৃথিবীর মানচিত্রে এক্সিস্ট করে। আমার মনে হয়, পানামার সেই যে কোম্পানিটি সেটি বিতর্কিত, সেটা আমাদের জানা আছে এবং আমরা সেটা জানি। সেজন্য সাবধানতা অবলম্বন করেই আমরা সেই কাজটি করব। পানামা পেপার্স আর পানামা এক নয়। আমরা যেটা বলতে পারি, সেটা হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে সরকারি কোনো বিনিয়োগ নাই। চুক্তি যেটা হয়েছে সেটা হচ্ছে তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, তারপর সরকার সেটা কিনে নেবে। বিনিয়োগটা সম্প‚র্ণ ওই জয়েন ভেঞ্চার কোম্পানির।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অর্থমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ