Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ১২ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

আমন ক্ষেতে মাছ চাষে কৃষকের সাফল্য

প্রকাশের সময় : ১১ অক্টোবর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মো. গোলাম ফারুক, দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) থেকে

দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরের জয়পুরপাড়ার গোলজার হোসেন বাবলু (৬০) তার আমন ধানের জমিতে মাছ চাষ করে নতুন চমক সৃষ্টি করেছে। উপজেলায় অনুকূল পরিবেশের অভাব, নদ-নদী জলাশয়গুলো শুকিয়ে যাওয়া বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ প্রায় হারিয়েই গেছে। এ ছাড়াও উপজেলার অনেক ডোবা-পুকুর ভরাট করে পাকা এমারত নির্মাণ করা হয়েছে। আরো নির্মাণ কাজ চলছে ফলে মৎস্য চাষের প্রজন্ম ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসছে। বিভিন্ন খাল-বিল, নদী-নালা থেকে দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছ প্রায় হারিয়েই যাচ্ছে। এতে প্রতি বছর এ উপজেলায় চাহিদা প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ মাছের ঘাটতি থাকছে। মাছের এই ঘাটতি থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে উপজেলা সদরের জয়পুরপাড়ার মৃত জহির উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে গোলজার হোসেন বাবলু চলতি বছরে তার দেড় বিঘা আমন ধানের জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করেছে। এ ব্যাপারে গোলজার হোসেন বাবলু “দৈনিক ইনকিলাব” কে জানান, তার বাড়িসংলগ্ন মাঠে দেড় বিঘা জমিতে চলতি বাংলা শ্রাবণ মাসে আমন ধানের চারা রোপণ করেন। চারা রোপণের কিছু দিন পরেই ওই জমির চারিদিকের আইল মাটি দিয়ে উঁচু করে বেঁধে দেন। সেই সাথে নেট দিয়ে চারপাশে ঘেরাও করে। পরে ওই ধানের জমিতে ২০ হাজার টাকার বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ক্রয় করে ছেড়ে দেন। এর মধ্যে হাংরি কারফু ৫শ’ পিচ, ব্লাক কার্প ১২৫ পিচ, তেলাপিয়া ১২৫ পিচ, দেশি মাগুর ১ হাজার পিচ, শিং মাছ ১ হাজার পিচ, টেংরা ১ হাজার পিচ, পত্তা ১ হাজার পিচ। জমিতে মাছগুলো স্বাভাবিক বৃদ্ধির লক্ষে ধানের চারা ছোট থাকা অবস্থায় বিভিন্ন খাবারও দিয়েছেন। জমিতে সার্বক্ষণিক পানির ব্যবস্থার জন্য জমির পাশে শ্যালো মেশিনও বসিয়েছেন। গ্রীষ্মের তাপদাহে অনাবৃষ্টির কারণে জমির পানি শুকিয়ে গেলে শ্যালো মেশিন চালিয়ে জমিতে সার্বক্ষণিক পানির ব্যবস্থাও করেছেন। ধানের চারাগুলো বড় হয়ে সতেজ হয়ে উঠেছে। মাছের পোনাগুলোও অনেক বড় হয়েছে। মাঝে মাঝে তিনি জমির আইলে দাঁড়িয়ে জমির সতেজ পানিতে মাছগুলো দৌড় ঝাঁপ করছে দেখে তার মনে হাসির ঝলক সৃষ্টি হয়। আসছে আর ২ মাস পরেই অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম দিকে ধান কাটার সাথে সাথেই জমিতে মাছ ধরাও শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে তিনি আশা করছেন, নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও প্রায় দেড় থেকে ২ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি করবেন। ধানের এ জমিতে মাছের চাষ করে তিনি এক নতুন চমকও সৃষ্টি করেছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান মুঠোফোনে জানান, গোলজার হোসেন বাবলুর মত এভাবেই যদি অনেকেই তাদের জমিতে দেশি মাছ চাষ করেন তবে দেশি মাছ বিলুপ্ত থেকে রক্ষা পাবে। সেই সাথে এলাকায় মাছের ঘাটতিও অনেকটা লাঘব হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।