Inqilab Logo

শনিবার, ২১ মে ২০২২, ০৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

২০২২ সালে তুরস্কে ৩ লাখ কম্প্রেসর রফতানিতে ওয়ালটন-কার্গি চুক্তি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ অক্টোবর, ২০২১, ৫:৩৮ পিএম

 

২০২২ সালে তুরস্কে ৩ লাখ কম্প্রেসর রফতানি করবে বাংলাদেশি ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য জায়ান্ট ওয়ালটন। এজন্য দেশটির অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কার্গি সগুতমা ইসিতমা স্যান. ভি টিক. লিমিটেড এসটিআই.-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে ওয়ালটন। ইতোমধ্যেই কার্গির মাধ্যমে তুরস্কে ২ লাখ ওয়ালটন কম্প্রেসর রফতানি হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশটিতে ১ মিলিয়ন বা ১০ লাখ কম্প্রেসর রফতানির টার্গেট নিয়েছে ওয়ালটন।

গত বৃহস্পতিবার তুরস্কের বৃহত্তম শহর ও প্রধান সমুদ্রবন্দর ইস্তাম্বুলের আইএসকে সোডেক্স আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ওয়ালটন ও কার্গির মধ্যে ওই চুক্তিটি সই হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ওই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাটি চলে। মেলায় প্রথমবারের মতো অংশ নেয় ওয়ালটন। এতে বাংলাদেশে তৈরি ওয়ালটন পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া মেলে। সউদী আরব, গ্রিস, ইরাক, ইরান, লেবানন ইত্যাদি দেশের ব্যবসায়ীরা ওয়ালটন কম্প্রেসরসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির ব্যাপারে আগ্রহ দেখান।

ওয়ালটনের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ইউনিটের (আইবিইউ) প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড কিম এবং কার্গি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমিন কার্গি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

সে সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম, সিনিয়র নির্বাহী পরিচালক তানভীর রহমান ও মাহফুজুর রহমান, কম্প্রেসর প্রোডাক্টের ডেপুটি চিফ বিজনেস অফিসার নাসির উদ্দিন মন্ডল প্রমুখ।

জানা গেছে, আইএসকে সোডেক্স ফেয়ার ইউরোশিয়া অঞ্চলে ভেন্টিলেশন, রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী। আন্তর্জাতিক এ বাণিজ্য মেলার কেন্দ্রে স্থাপন করা হয় ওয়ালটন ও কার্গির দৃষ্টিনন্দন স্টল। বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে বিশ্বের ‘মোস্ট সাইলেন্ট অ্যান্ড ডিউরেবল’ ওয়ালটন কম্প্রেসরসহ বিভিন্ন পণ্য উপস্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে তৈরি ওয়ালটন পণ্যের উচ্চমানে সন্তুষ্ট হন বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা।

এস এম মাহবুবুল আলম জানান, মেলায় বৈশ্বিক ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম হয় ওয়ালটন। সউদী আরব, গ্রিস, ইরাক, ইরান, লেবানন ইত্যাদি দেশের ব্যবসায়ীরা ওয়ালটন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা কম্প্রেসরসহ বাংলাদেশে তৈরি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য আমদানিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ব্র্যান্ডে পরিণত হওয়ার টার্গেট নিয়েছে ওয়ালটন। এজন্য ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাপক জোরদার করেছে বাংলাদেশি এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান। করোনার মধ্যেও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত ওয়ালটন পণ্যের রফতানি ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার থেকে ১৪ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। ওয়ালটন কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য বাংলাদেশকে ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্যের হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এশিয়ার ৮ম ও বিশ্বের ১৫তম কম্প্রেসর উৎপাদনকারি দেশ। দেশের একমাত্র কম্প্রেসর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। যার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৪ মিলিয়ন। ২০২৫ সালের মধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা ১০ মিলিয়নে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়ালটনের। জার্মানি, ইরাক, তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন েেদশ কম্প্রেসর ও এর যন্ত্রাংশ রফতানি করছে ওয়ালটন। পাশাপাশি বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশে রফতানি হচ্ছে ওয়ালটন পণ্য।

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন