Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

কলাপাড়ায় মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে দুর্নীতি

দুই চিকিৎসক সহ ৬ জনের নামে মামলা

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৬ অক্টোবর, ২০২১, ৬:১৮ পিএম

কলাপাড়ায় হত্যা চেষ্টা মামলার মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই চিকিৎসক ডা: জে এইচ খান লেলিন, ডা: অনুপ কুমার সরকারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শোভন শাহরিয়ার কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে ৪০দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এর আগে ধূলাসার ইউনিয়নের মুসলিম পাড়া গ্রামের মো: হানিফ নেগাবান মঙ্গলবার আদালতে দুই চিকিৎসক সহ ৬ জনের নামে দ: বি: আইনের ৪৬৭/৪৬৮/১৬৭/১৯৮/১০৯ ও ৫০৬ (খ) ধারায় নালিশী মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আদেশের জন্য বুধবার ধার্য করেন।

নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ও মামলার বিবরণে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত বছরের ৩০ এপ্রিল ২০২০ বাদীর পুত্র রাজিব নেগাবানকে ধারালো অস্ত্র দ্বারা কুপিয়ে হত্যা চেষ্টা করে প্রতিপক্ষরা। ঘটনার পর ভিকটিমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: জেএইচ খান লেলিন চিকিৎসা সেবা প্রদান করে ফৌজদারী মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ডা: জেএইচ খান লেলিন ও ডা: অনুপ কুমার সরকারের সমন্বয়ে গঠিত ৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ৮ আগষ্ট ২০২০ স্মারক নং ৮৮৮ মূলে ভিকটিমের মেডিকেল সনদ সরবরাহ করেন। যেখানে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর জখমের উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে মামলার আসামী পক্ষকে একই তারিখ ও একই স্মারক নম্বরে অপর একটি মেডিকেল সনদ সরবরাহ করা হয় সেখানে জখমের ধরন সাধারন বলে উল্লেখ করা হয়। যার ফলে আসামীরা অতি সহজেই কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি লাভ করে এবং উক্ত সনদটি আদালতের বিচার কাজে বিঘ্ন ঘটায়।

এছাড়াও ডা: জেএইচ খান লেলিন ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখ ১৩৮২ নম্বর স্মারক মূলে জখমী মতি হাওলাদার এর মেডিকেল সনদ সরবরাহ করেন। যেখানে জখমের ধরন গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর ১২ আগষ্ট ২০২০ তারিখ ৯০৫ নম্বর স্বারক মূলে একই জখমীকে তিনি আরেকটি মেডিকেল সনদ সরবরাহ করেন। যেখানে জখমের ধরন সাধারন বলে উল্লেখ করা হয়। উল্লিখিত চিকিৎসকরা এভাবে সাধারন জখমকে গুরুতর এবং গুরুতর জখমকে সাধারন জখম বলে মেডিকেল সনদ সরবরাহ করে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার ফলে আদালতে ক্ষতিগ্রস্থদের ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে ব্যাপক সংশয় ঘটে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পটুয়াখালী


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ