Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৬ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

দুই-তৃতীয়াংশ জাতিগত বৈষম্যের শিকার যুক্তরাজ্যে

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৩ এএম

যুক্তরাজ্যের আর্থিক পরিষেবা খাতে কর্মরত কৃষ্ণাঙ্গ কিংবা জাতিগত সংখ্যালঘু কর্মীদের প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজন কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন। স¤প্রতি জ্যেষ্ঠ পেশাদারদের সংস্থা রিবুটের করা এক শিল্প সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়, লন্ডন শহর তার জাতিগত বৈচিত্র্য এবং এ বিষষে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান। লন্ডনের ৪৪০টি প্রতিষ্ঠানের ৮০০ কর্মীর ওপর জরিপ চালিয়ে রিবুট একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। জাতিগুলোর মধ্যে সমতা শীর্ষক এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জরিপ চালানো হয়েছে, তাদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৬৬ শতাংশ কর্মী তাদের জাতিগত পরিচয়ের জন্য বৈষম্যের শিকার হন। জরিপে অংশ নেয়া ২৮ শতাংশ কর্মী বলেছেন, বৈষম্যের কারণে তাদের পেশাজীবন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় অর্ধেক বা ৪৮ শতাংশ কর্মী বলেছেন, অন্যান্য শ্বেতাঙ্গ সহকর্মীর তুলনায় তাদের পেশাগত অগ্রগতি ধীর। অর্থাৎ কাজ অনুযায়ী তাদের যথাযথ উন্নতি হয় না। প্রতি ১০ জনের চারজন বলেছেন, তারা মনে করেন তাদের নিয়োগকর্তারা কর্মক্ষেত্রে একটি নিরপেক্ষ পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এদের মধ্যে কিছু অংশ মনে করছেন, যাদের অধীনে তারা কাজ করেন তারা বিশ্বাস করেন যে, কর্মীদের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকা ব্যবসার ভবিষ্যৎ সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রে বৈচিত্র্য যে গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়টি নিয়ে অনেক বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে নিহত জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর যুক্তরাজ্যে বø্যাক লাইভ ম্যাটার আন্দোলন শুরু হয়। এর পরই জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে শুরু করেন বড় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান স্টেট স্ট্রিটের ইউরোপ অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী জর্গ অ্যাম্ব্রোসিয়াস বলেন, সামনের দিনগুলোতে আমাদের সবার জন্যই কাজের পরিমাণ বাড়বে। এ কাজের বোঝা কমাতে যে চ্যালেঞ্জ ও সমস্যার মুখোমুখি আমাদের হতে হবে তার সমাধান হতে পারে সবাই মিলেমিশে একযোগে কাজ করলে। সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে, কর্মীদের মধ্যে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। তাহলেই সুষ্ঠুভাবে সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কয়েক বছর ধরে গোটা যুক্তরাজ্যেই জাতিগত বৈষম্য আগের চেয়ে অনেক কমেছে। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের মধ্যে জাতিগত বৈচিত্র্য রক্ষার চেষ্টা করে। তবে জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতি ১০টি প্রতিষ্ঠানের একটিতে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে কৃষ্ণাঙ্গ, এশিয়ান কিংবা অন্যান্য সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের মানুষ কর্মরত। তাছাড়া কোথাও কোথাও জাতিগত কারণে বেতনবৈষম্যেরও শিকার হন অনেকে। এর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক কম হলেও এখনো যুক্তরাজ্যের তালিকাভুক্ত ১০০ বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৩টির কর্মীরা জাতিগত কারণে বেতনবৈষম্যের শিকার হন বলে দাবি করেছেন। অবশ্য কেবল আর্থিক পরিষেবা খাতেই নয়, সব খাতের কর্মীদের দিকেই নজর দিতে হবে। যাতে করে যুক্তরাজ্যের কোনো খাতেই কাউকে নিজের জাতিগত পরিচয়ের কারণে মাথানত করতে না হয় তেমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে। গার্ডিয়ান।

 

 



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: যুক্তরাজ্য


আরও
আরও পড়ুন