Inqilab Logo

শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২১ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

দুই মাসে ১০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০০ এএম

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওয়া লেগেছে আমদানির পালে। এতে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে পড়েছে টান। আমদানি বাড়াকে দেশের অর্থনীতির জন্য মঙ্গল বলছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা। বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি বিদেশি লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, গত আগস্টে ৬০৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। জুলাইয়ে এ খাতে খরচ হয়েছিল ৪৭৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) এক হাজার ৮৪ কোটি ৪০ লাখ (১০ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন) ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হয়েছে। এই অংক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৬ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরের ওই দুই মাসে ৭৪৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছিল।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে বিভিন্ন ধরণের পণ্য রফতানি করে ৬৭৩ কোটি ২০ লাখ (৬ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে চেয়ে দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ কম। এ হিসাবে ওই দুই মাসে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪১১ কোটি ৬০ লাখ (৪ দশমিক ১৫ বিলিয়ন) ডলার; যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ গুণ বেশি। তবে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গত সোমবার রফতানি আয়ের হালনাগাদের যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৮ শতাংশ।
শেষ পর্যন্ত অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে পণ্য বাণিজ্যে প্রায় ২৩ বিলিয়ন (২ হাজার ৩০০ কোটি) ডলারের ঘাটতি নিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছর শেষ হয়। ওই অর্থবছরের শেষের কয়েক মাসে আমদানিতে উল্লম্ফনের কারণে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান দুই সূচক আমদানি-রফতানির ব্যবধান চূড়ায় ওঠে। ‘পদ্মা সেতু, বঙ্গবন্ধু টানেল, মেট্রোরেলসহ বড় বড় প্রকল্পের কাজ মহামারির মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছে। এ সব প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে মোটা অংকের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়েছে।
রফতানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, আমাদের রফতানির প্রধান বাজার ইউরোপ-আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। মানুষ আগের মতো পোশাক কিনছে। সে কারণে প্রচুর চাহিদা পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের এখানেও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে রফতানিসহ অন্যান্য খাতের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, ক্যাপিটাল মেশিনারিসহ অন্যান্য পণ্যের আমদানি বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক আমদানিতে।
জুলাই-আগস্ট সময়ে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার। মূলত বিমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়।
এদিকে আমদানি বাড়ায় বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। জুলাই-আগস্ট সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ হয়েছে ১২৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অথচ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত নিয়ে অর্থবছর শুরু হয়েছিল। গত বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ৩২২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বড় ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছিল ২০২০-২১ অর্থবছর। নয় মাস পর্যন্ত (জুলাই-মার্চ) এই সূচক উদ্বৃত্ত ছিল। কিন্তু এপ্রিল থেকে ঘাটতি (ঋণাত্মক) দেখা দেয়। নিয়মিত আমদানি-রফতানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাব উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে রাষ্ট্রকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না।
জুলাই-আগস্ট সময়ে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই উদ্বৃত্ত ছিল অনেক বেশি; ২৪৭ কোটি ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছর শেষে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ৯২৭ কোটি ৪০ লাখ (৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন) ডলার। তার আগের বছরে (২০১৯-২০) ছিল ৩১৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে আর্থিক হিসাবে ৩২২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের উদ্বৃত্ত নিয়ে অর্থবছর শুরু হয়েছিল। শেষ হয়েছিল ১ হাজার ৩০৮ কোটি ডলারের বিশাল উদ্বৃত্ত নিয়ে। এবার অবশ্য সেই ইতিবাচক ধারা নেই। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) আর্থিক হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: পণ্য আমদানি
আরও পড়ুন