Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০৬ মাঘ ১৪২৮, ১৬ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

অল্প সময়ের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষকদের সমস্যাগুলো দূর হবে

আলোচনা সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০০ এএম

সরকার খুব অল্প সময়ের মধ্যে বেসরকারি শিক্ষকদের সমস্যাগুলো দূর করবে। সরকারি এবং বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে যে বেতন বৈষম্য তা অনেকটাই সরকারের জানা আছে, এর মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দাবিগুলো পূরণ করা হবে। শুধু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় নয়, এর সাথে অর্থ মন্ত্রণালয়ও জড়িত। সরকারের এখন আর্থিক সক্ষমতা আছে, আমরা (সরকার) শিক্ষকদের বিষয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করবো। গত মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম (বাবেশিকফো)’ আয়োজিত ‘শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা দর্শন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম,এ, মান্নান এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামে’র সভাপতি প্রিন্সিপাল মো. মাইন উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে নানা রকম জগাখিচুড়ি সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকদের কিছু সমস্যার বিষয় আমাকে খুব পীড়া দেয়, যেমন ‘একজন শিক্ষক বললেন বাড়িভাড়া ১০০০ টাকা’। আমাদের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত শক্তিশালী একজন নেতা, এটা বিশ্ব স্বীকৃত। তিনি শিক্ষকদের খুব সম্মান করেন। আপনাদের সমস্যাগুলো উনি কিছুটা জানেন, উনাকে একটু সময় দেন আপনাদের সমস্যার সমাধান হবে, ইন শা আল্লাহ।
ইউনেস্কোর সূত্র ধরে সভাপতি মো. মাইন উদ্দীন বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর শিক্ষা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিশ্ব শিক্ষক দিবস বিশ্বের ১০০টি দেশে পালন করা হয়। দিবসটি পালনে এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল ও তার সহযোগী ৪০১টি সদস্য সংগঠন মূল ভূমিকা রাখে। তিনি বাংলাদেশে সরকারিভাবে দিনটি পালনের জন্য সরকারের নিকট অনুরোধ জানান।
মো. মাইন উদ্দীন আরো বলেন, কোভিড ১৯ এর কারণে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ বিপর্যস্ত। বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা আজ অনেক অর্থনৈতিক অনটনে দিনাতিপাত করছে। বাংলাদেশে প্রাথমিক বাদ দিলে পরবর্তী শিক্ষাস্তরগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি বেসরকারি। সেখানে পাঠরত শিক্ষার্থী ও কর্মরত শিক্ষক উভয়ই বৈষম্য-বঞ্চনার শিকার। তারপরও একথা স্বীকার করতে হবে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যেটুকু ইতিবাচক অর্জন তার সিংহভাগই শেখ হাসিনার হাত দিয়ে হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি নেই, প্রমোশন নেই, নেই অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধাদি। শিক্ষক-কর্মচারীদের উপর ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির অযাচিত অত্যাচার আছে। ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও ক্ষেত্র বিশেষে দুর্নীতির অভিযোগের কথাও বলেন তিনি। তাই কমিটি প্রথা বাতিল করে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ন্যায় এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা উচিত।
‘বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরামে’র মহাসচিব মহাসচিব মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা এখন সময়ের দাবি। সরকারের কাছে প্রস্তাব রেখে তিনি বলেন, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, ভাতা স্কেল ভিত্তিক প্রদানসহ স্থায়ী অবসর ও কল্যাণ তহবিল গঠন করে সরকার যদি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয় সরকারি কোষাগারে জমা নেয় এবং শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন কিছুটা সংস্কার করে আমাদের প্রস্তাব অনুযায়ী নির্ধারণ করেন। তাহলে অনায়াসেই এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করা যায়।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক- কর্মচারী জাতীয়করণ প্রত্যাশী মহাজোটের সদস্য সচিব জসিম উদ্দিন আহমদ বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ হলে এ দেশের ২ কোটি শিক্ষার্থীর লাভ এবং ১৬ কোটি মানুষের উপকার হবে। আমরা আশা করছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই মুজিববর্ষে, বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করে ৫ লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষকের দীর্ঘদিনের চাহিদা পুরণ করবেন।
সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মতিউর রহমান দুলাল ও যুগ্ম সম্পাদক হোসনেয়ারা আহমেদ লতার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রিন্সিপাল মশিউর রহমান মৃধা, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রায়হানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন