Inqilab Logo

শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২১ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

আবহাওয়া তহবিলে অনুদান বাড়াতে অনুরোধ করবে ইইউ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৫ এএম

আবহাওয়া পরিবর্তন-সংক্রান্ত কাজের জন্য নিজেদের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এজন্য আসন্ন কপ২৬ সম্মেলনে অন্য দেশগুলোকেও নিজেদের ভাগের অর্থ পরিশোধে চাপ দেবেন ইইউভুক্ত দেশগুলোর ক‚টনীতিকরা। আগামী মাসে গ্লাসসগোতে হতে যাওয়া এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হবে উন্নয়নশীল বিশ্বকে পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ ডটকম। কপ২৬ সম্মেলনে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে একটি মতৈক্যে পৌঁছেছে ইইউভুক্ত দেশগুলো। এসব দেশের নেতারা বলছেন, ধনী দেশগুলোকে আবহাওয়া খাতে আরো বেশি তহবিল দান করতে আহবান জানানো হবে। বিশেষ করে ইইউভুক্ত দেশগুলোর দেয়া তহবিলকে মানদন্ড ধরে ধনী দেশগুলোকে বিবেচনা করতে বলা হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির জন্য দেয়া ভর্তুকির অর্থ ও কার্বন ট্যাক্স আরোপ করে এ খাতের জন্য তহবিল সৃষ্টি করতে বিভিন্ন দেশের সরকারকে আহবান জানাবে ইইউ। আবহাওয়া পরিবর্তনের বিষয়ে ইইউর শক্ত অবস্থানের পরও এখনো এর সীমানার ভেতরেই কোথাও কোথাও জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি দেয়ার কথা জানা যায়। ফলে তার সমালোচনাও হচ্ছে প্রচুর। প্যারিস চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অর্থাৎ চুক্তি অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখতে সব ধরনের চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি গøাসগোতেও নিজস্ব প্রতিনিধিত্ব বজায় রাখতে হবে। লুক্সেমবার্গে আয়োজিত আলোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের অর্থমন্ত্রীরা কিছু সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন। আলোচনা শেষে ইইউর অর্থনীতিবিষয়ক কমিশনার পাওলো জেন্টিলোনি বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তন থেকে আমাদের সামনে বেশ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ আসতে যাচ্ছে। এগুলো মোকাবেলায় আমাদের যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। ইইউভুক্ত দেশগুলোর মন্ত্রীদের বৈঠক থেকে পাওয়া নথিতে দেখা যায়, আবহাওয়া পরিবর্তনের মোকাবেলায় প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য অর্জনে নিজেদের কর্মপরিধি ঠিক করেছেন তারা। এছাড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানির জন্য ভর্তুকি দেয়া বন্ধ করে আবহাওয়া নিরপেক্ষ ও টেকসই জ্বালানিতে বিনিয়োগের অর্থনীতির দিকে এগোবে ইইউ। ওই নথিতে দেখা যায়, নিজস্ব প্রক্রিয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন ইইউর নেতারা। এসব দেশের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রতি বছর ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার অনুদান দেয়া হয়। তবে একটি প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ করতে পারেনি ইইউ। আর সেটি হলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বার্ষিক ১০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ করা। ২০০৯ সালে এ প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। ইইউ দেশগুলোর মন্ত্রীরা বলছেন, এ ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে পারেন বিশ্বনেতারা, যার মাধ্যমে ২০২৫ সাল নাগাদ নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। তারা বলছেন, বর্তমানে এর আওতা বাড়ানো দরকার। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তাও এতে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। গত মাসে ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন দের লেয়েন জানিয়েছিলেন, আবহাওয়া তহবিলে নিজেদের অনুদানের পরিমাণ বাড়াবেন তারা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উল্লেখ করে বলেন, তাদের উচিত এক ধাপ এগিয়ে আসা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ২০২৪ সাল নাগাদ তাদের অনুদানের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। বিশ্বের মোট ১৯৬টি দেশ প্যারিস চুক্তিতে সই করেছে। এ চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশই কার্বন নিঃসরণ কমাবে। ২০৩০ সাল নাগাদ কার্বন নিঃসরণ ১৯৯০ সালের তুলনায় ৫৫ শতাংশ কমাতে চায় জোটভুক্ত দেশগুলো। সেলক্ষ্যে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। যেমন ২০৩৫ সালের মধ্যে পেট্রল বা ডিজেলচালিত গাড়ি বিক্রি নিষিদ্ধের পরিকল্পনা করছে ইইউ। ন্যাশনাল নিউজ।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইইউ


আরও
আরও পড়ুন