Inqilab Logo

সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

অজেয় ইতালিকে থামিয়ে ফাইনালে স্পেন

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৮ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৪ এএম

হাতছানি ছিল নিজেদের অপরাজেয় যাত্রা আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার, বছরে ডাবল জয়ের সম্ভাবনা জোরালো করার। কিন্তু উয়েফা নেশন্স লিগের সেমি-ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হেরে সে লক্ষ্য ভেস্তে গেছে ইতালির। তিন মাস পরেই পাওয়া প্রতিশোধের সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগাল স্পেন। আজ্জুরিদের মাঠেই তাদের অজেয় যাত্রা থামিয়ে লুইস এনরিকের দল পৌঁছাল নেশন্স লিগের ফাইনালে।
গতপরশু রাতে সান সিরোয় সেমি-ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে স্পেন। প্রথমার্ধে জোড়া গোলে সফরকারীদের চালকের আসনে বসান ফেররান তরেস। আর তাতে আর্লিং হলান্ডের পাশে বসলেন তিনি। নেশন্স লিগে দুই জনেরই গোল ছয়টি করে। সব মিলিয়ে জাতীয় দলের হয়ে ২১ ম্যাচে এটি তরেসের ১২তম গোল। শেষ দিকে একটি গোল শোধ করেন লরেন্সো পেল্লেগ্রিনি। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা অবশ্য ১০ জন নিয়ে খেলে স্বাগতিকরা।
মিলানের এই মাঠে এবারই প্রথম হারল ইতালি। আর সব মিলিয়ে বিশ্ব রেকর্ড ৩৭ ম্যাচ পর হারের তেতো স্বাদ পেল রবের্তো মানচিনির দল। যার শুরুটা হয়েছিল ২০১৮ সালে। গত জুলাইয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনালে টাইব্রেকারে স্পেনকে হারায় ইতালি। পরে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপাও জিতে নেয় তারা। ডাবল জেতা হলো না মানচিনির দলের। নেশন্স লিগে তাদের যাত্রা থেমে গেল শেষ চারেই।
চোটের জন্য দুই দলই শক্তি হারিয়েছে আক্রমণে। গোলের সংখ্যাতেই আছে এর ছাপ। এই ম্যাচে নামার আগে দুই দলেরই কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোল স্রেফ ১০টি করে! মাঠে অবশ্য এর প্রভাব পড়েনি খুব একটা। আক্রমণের পসরা মেলে প্রাণবন্ত ফুটবলই উপহার দিয়েছে দুই দল। ম্যাচে ৭৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে স্পেন গোলের জন্য শট নেয় ১৩টি, যার চারটি ছিল লক্ষ্যে, দুটি গোল। আর স্বাগতিকদের আট শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল, একটি গোল।
তবে জয় পরাজয় ছাপিয়ে এই ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল ব্যক্তি আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি আর কেউ নন জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। এদিন ঘরের আঙিনাই হয়ে উঠল যেন শত্রুর ডেরা! স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচজুড়েই দুয়ো শুনতে হলো ইতালির গোলরক্ষককে। ম্যাচের শুরু থেকে যতবারই বল ধরেন, সান সিরোর গ্যালারি থেকে ধেয়ে আসে দুয়ো। এসবের প্রভাবও পড়ে ২২ বছর বয়সী গোলকিপারের পারফরম্যান্সে। ১৯ মিনিটের সময়ের সেরা গোলকিপারদের একজন বলে বিবেচিত দোন্নারুম্মার হাত থেকে বল ফসকে প্রায় গোলই হয়ে যাচ্ছিল। পরে দুটি গোলও হজম করতে হয়েছে ভাগ্যের নির্মমতায়। অথচ দেশের হয়ে ৩৭ ম্যাচ খেলে এই প্রথমবার ২ গোল হজম করেন দোন্নারুম্মা।
তাকে দুয়ো দেওয়ার উৎস বুঝে নিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এসি মিলানে প্রায় ছয় বছরের ক্যারিয়ার শেষে নতুন চুক্তিতে সই না করে এবার তিনি যোগ দেন ফরাসি ক্লাব পিএসজিতে। এতেই মিলানের সমর্থকদের অনেকের কাছে তিনি নায়ক থেকে হয়ে ওঠেন খলনায়ক। কিন্তু জাতীয় দলের ম্যাচে দর্শকদের এই আচরণে বিরক্ত কোচ মানচিনি, ‘ইতালি খেলছিল এখানে, কোনো ক্লাব ম্যাচ এটি ছিল না। তারা (দর্শক) এক রাতের জন্য সবকিছু পাশে সরিয়ে রাখতে পারত এবং পিএসজি-মিলান ম্যাচ হলে সেখানে এসব করতে পারত। ইতালি তো ইতালি, দেশ তো সবকিছুর ওপরে!’
শিরোপা স্বপ্ন ভাঙার হতাশা থাকলেও দলটির কোচ মানচিনি খুঁজে নিচ্ছেন ইতিবাচক দিক। তার বিশ্বাস, এই হার তার দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে, ‘ইউরো বা বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়ে (এই হার) আজ (বুধবার) রাতে আসাটা ভালো হয়েছে। এখানে হারলেও ম্যাচটি আমাদের আরও শক্তিশালী করবে এবং এখান থেকে (ঘুরে দাঁড়ানোর মাধ্যমে) বুঝতে পারব যে আমরা সত্যিই একটি দুর্দান্ত দল।’
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে ফ্রান্স অথবা বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে স্পেন। গতরাতে জুভেন্টাস স্টেডিয়ামে ম্যাচটির ফলাফলও হয়তো এতক্ষণে জেনে গেছেন পাঠকরা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: অজেয় ইতালি
আরও পড়ুন