Inqilab Logo

রোববার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২২ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

কয়লার মজুত শেষ : তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে দিল্লিসহ কয়েকটি রাজ্য

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১০ অক্টোবর, ২০২১, ৭:১২ পিএম

তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের মুখে ভারতের রাজধানী দিল্লি, পাঞ্জাব, রাজস্থানসহ আরো কয়েকটি রাজ্য। এদের কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে শুধু দুই-তিন দিনের কয়লা মজুত রয়েছে। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী কয়লা খনি থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সমস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রে কমপক্ষে ৩০ দিনের কয়লার মজুত রাখা উচিত।
তবে বর্তমানে অধিকাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কয়লার মজুত তলানিতে এসে ঠেকেছে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের কাছে কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক করার আবেদন করেছে রাজ্যগুলো। এটি না হলে তাদের ব্ল্যাক আউট পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে। তবে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা হচ্ছে। কয়লা মন্ত্রণালয় প্রতি সপ্তাহে দুই বার কয়লার মজুত পর্যালোচনার জন্য দুটি আন্ত:মন্ত্রণালয় গ্রুপ করেছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, কেন্দ্র যদি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার ঘাটতি দ্রুত সমাধান না করে তাহলে রাজধানী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্মুখীন হবে। রাজধানী দুই দিনের মধ্যে ব্ল্যাকআউট পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। দিল্লির পাওয়ার সাপ্লাই প্ল্যান্টগুলোতে এক মাসের স্টক থাকত, যা এখন এক দিনে নেমে এসেছে। সমস্ত প্ল্যান্ট ইতোমধ্যে ৫৫ শতাংশ ধারণক্ষমতায় চলছে।
বাওয়ানায় দিল্লির একটি ১৩০০ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। দিল্লির নিজস্ব কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নেই এবং এটি কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল।
রাজস্থান সরকার ইতোমধ্যেই বলেছে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমায় ১০টি বড় শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহে কাটছাট করা হবে। কিছু এলাকায় ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ।
সেন্ট্রাল গ্রিড রেগুলেটরের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম সাত দিনেই বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে যে ঘাটতি হয়েছে, সেটি সারাদেশে সারা বছরের ঘাটতির ১১ দশমিক ২ শতাংশ। কয়লার অভাবে বিহার ও ঝাড়খণ্ডেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জগন মোহন রেড্ডি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছেন।
জগন মোহন বলেছেন, এক মাসে অন্ধ্রের বিদ্যুতের ব্যবহার ২০ শতাংশ বেড়েছে। তিনি অন্ধ্রের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ২০ রেক কয়লার বরাদ্দ দাবি করেছেন।
আর্জেনকো কয়লা প্ল্যান্ট ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ ধারণ ক্ষমতায় কাজ করছে। তার কাছে মাত্র এক-দুই দিনের কয়লা মজুত রয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যে কয়েক ঘণ্টার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
পাঞ্জাবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাঞ্জাব স্টেট পাওয়ার করপোরেশনের মতে, রোপার, লেহরার মতো প্লান্টগুলোতে কয়লার মজুদ আছে মাত্র পাঁচ দিনের মতো। রাজ্যে নয় হাজার মেগাওয়াটের চাহিদা রয়েছে। অক্টোবরে অস্বাভাবিক গরম পড়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। নাভা বিদ্যুৎকেন্দ্রে মাত্র দুই দিন এবং তালওয়ান্দিতে ১ দশমিক ৩ দিনের কয়লা মজুত আছে।
ভারত সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার মজুত শেষ হওয়ার চারটি কারণ রয়েছে। এগুলো হলো অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের কারণে বিদ্যুৎ চাহিদা অনেক বেড়েছে; সেপ্টেম্বরে কয়লা খনি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কয়লা উৎপাদন এবং খনি থেকে কয়লা পাঠানোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে; আমদানি করা কয়লার দাম অনেক বাড়ায় আমদানি করা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন যথেষ্ট কমেছে। এ কারণে দেশীয় কয়লার ওপর বেশি নির্ভরশীলতা দেখা দিয়েছে এবং বর্ষা শুরুর আগে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত না করায়ও সংকট বেড়েছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: দিল্লি


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ