Inqilab Logo

শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৮ মাঘ ১৪২৮, ১৮ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

শেখ হাসিনা সরকার নিরপেক্ষ ইসি করবে বিএনপির ভয়ের কারণ নেই: আইনমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০২ এএম

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন করেছে, করে যাবে, তাদের (বিএনপি) সেটা নিয়ে ভীত হওয়ার কোনো কারণ নাই। তিনি বলেন, মহামান্য প্রেসিডেন্ট নাম চান সকল দলের কাছে। তাদের দেওয়া প্রস্তাব থেকেও কিন্তু আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি যে কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে, সেখানে একজন আছেন। সেক্ষেত্রে আমি বলছি, তারা আমার কথায় আশ্বস্ত হবেন কি-না জানি না, বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে।
গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এই মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন না হওয়ার মধ্যে প্রেসিডেন্ট সার্চ কমিটি গঠন করে যেভাবে নিয়োগ দিচ্ছেন, সে পদ্ধতিটিও আইনের কাছাকাছি। বাংলাদেশের সংবিধানে নির্বাচন কমিশন গঠনে আইনপ্রণয়নের কথা উল্লেখ করা হলেও সেই আইনটি এখনও হয়নি। এই অবস্থায় জিল্লুর রহমান প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ২০১২ সালে সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি সার্চ কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটির সুপারিশের মধ্য থেকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেন তিনি। একই পদ্ধতি বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান মো. আবদুল হামিদও চালু রেখেছেন।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, হয়তবা সার্চ কমিটি গেজেটেড, এটা আইন নয়, যেহেতু সকলের কনসেনসাসের ভিত্তিতে মহামান্য প্রেসিডেন্ট এটা করেছেন, এটা আইনের কাছাকাছি। কারণ, এটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে পাঁচ সদস্যের বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে; তাদের পর যে কমিশন গঠিত হবে ২০২৩ সালের শেষে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ভার থাকবে তাদের ওপরই।
নির্বাচন কমিশন আইন ও সার্চ কমিটি নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনটি করা প্রয়োজন, তবে বর্তমান মহামারী পরিস্থিতিতে এত দ্রুত সম্ভবপর নয়। কোভিড সিচুয়েশন ইমপ্রুভ করলে আমরা পুরো সংসদে আমরা সাড়ে তিনশ সদস্য বসতে পারব, বসে এই রকম একটা গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করতে পারব। সেই জিনিসটা কিন্তু আমাদের হচ্ছে না। সে কারণে আমি বলেছি, ১৫ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে করা সম্ভব নয়। এই বার সার্চ কমিটি করবে।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের উন্মোচন করতে তদন্ত কমিশন গঠনের কাজ শুরু হয়ে গেছে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারে রাষ্ট্রপক্ষের এই প্রধান কৌঁসুলি বলেন, তদন্ত কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ মহামারী দেখা দেয়। এই সময়ে কমিশন নিয়ে ব্যস্ত থেকে কোভিড মোকাবেলা না করলে সেটা বোধহয় বিবেচকের কাজ হতো না। আমরা ইতোমধ্যে কাজ করা শুরু করেছি। এটার অবকাঠামো কী হবে, এটা কোন আইনের আওতায় থাকবে বা নতুন কোনো আইনের প্রয়োজন হবে কি-না, এটা পরিধি কেমন হবে- এগুলোর খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছে।
তদন্তের আওতার বিষয় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এখন যেটা প্রয়োজন, যারা এই ষড়যন্ত্রের মধ্যে ছিলেন, তারা অনেক অপরাধের সাথে জড়িত। শুধু হত্যার অপরাধের সাথে তারা জড়িত না। তারা হচ্ছে এই ঘটনার পরে বাংলাদেশের ইতিহাস পরিবর্তন বা বিকৃত করার অপরাধ করেছেন। তারা এই অপরাধটার যাতে বিচার না হয়, সেই আইন করার অপরাধ তারা করেছে। এজন্য অবশ্যই নতুন প্রজন্ম এবং এখনকার প্রজন্মকে বাংলাদেশের ইতিহাস সঠিকভাবে জানানো প্রয়োজন।
আইনমন্ত্রী বলেন, যেটা প্রধানমন্ত্রীর চাওয়া, এই কমিশন কিন্তু কোনো প্রতিহিংসামূলক নয়। এই কমিশন হচ্ছে যে, বিকৃত ইতিহাসকে ফেলে দিয়ে সত্য যে ইতিহাস সেটাকে সঠিক পথে চালিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সেটা সম্পর্কে জ্ঞাত করা। এটার পরিধিগত ব্যাপার আছে, গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তিদের নিয়ে এটা করা উচিৎ। সেসব কারণে এটার অবকাঠামোগত আলাপ-আলোচনা সেটার কাজ চলছে।
বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যাতে ‘অপব্যবহার’ না হয়, সেজন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এই আইনের মাধ্যমে সাংবাদিক হয়রানির বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কোনো সাংবাদিককে যাতে অন্যায়ভাবে হয়রানি করা না হয়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হয়রানি করতে চাইলে তার বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে পুলিশের বিশেষ সেলের সুপারিশ নেওয়ার পদক্ষেপটি জোরদার করা হবে বলেও আশ্বাস দেন আইনমন্ত্রী।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানীর সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আইনমন্ত্রী


আরও
আরও পড়ুন