Inqilab Logo

বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৫ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

আফগানিস্তানের মানবিক সংকট নিরসনে জি২০ সম্মেলন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১২ অক্টোবর, ২০২১, ৬:৩৩ পিএম | আপডেট : ৭:২০ পিএম, ১২ অক্টোবর, ২০২১

ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও ড্রাগি মঙ্গলবার আফগানিস্তান নিয়ে আলোচনার জন্য ২০ টি বড় অর্থনীতির গ্রুপের একটি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন। কারণ, তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

তালেবানরা গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেকে, দেশটি - ইতিমধ্যে কয়েক দশক ধরে যুদ্ধের পর খরা ও তীব্র দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করছে, অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে এবং শরণার্থীদের দেশত্যাগের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত এই বৈঠক শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা থেকে। এতে সাহায্যের চাহিদা, নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ এবং এখনও দেশে থাকা হাজার হাজার পশ্চিমা-সহযোগী আফগানদের বিদেশে নিরাপদ উত্তরণের গ্যারান্টি দেয়ার উপায়গুলোতে মনোনিবেশ করা হবে। জি২০ কর্মসূচিতে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য শীতের আগমনের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদান জরুরি।’

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সম্মেলনে যোগ দেবার কথা বলে, সংকট মোকাবেলায় জাতিসংঘের দেয়া কেন্দ্রীয় ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন - আংশিক কারণ অনেক দেশ তালেবানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করতে চায় না। ইতালি, যারা বর্তমানে জি ২০-এর প্রেসিডেন্টের ভূমিকায় রয়েছে, কাবুল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশৃঙ্খল প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তানকে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে তা নিয়ে ভিন্ন দলের মধ্যে অত্যন্ত ভিন্ন মতামতের মুখে বৈঠকটি স্থাপনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছে।

একটি কূটনৈতিক সূত্র বলেছে, ‘মূল সমস্যা হল তালেবানরা যেভাবে দেশ চালায়, তারা নারীদের সাথে কেমন আচরণ করে, সেদিকে পশ্চিমা দেশগুলো আঙুল তুলতে চায়, অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার হস্তক্ষেপ না করার পররাষ্ট্র নীতি রয়েছে।’ চীন প্রকাশ্যে আফগানিস্তানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে এবং আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক সম্পদের বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করে কাবুলের কাছে ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইউরোপের জি ২০ নেতারা বৈঠকে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে, চীনা সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এতে অংশ নেবেন না। আফগানিস্তানের প্রতিবেশী পাকিস্তান এবং ইরানকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, কিন্তু কাতার, যা তালেবান এবং পশ্চিমাদের মধ্যে একজন আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, আলোচনায় যোগ দেবে বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

চলতি বছরের, ২০ সেপ্টেম্বর ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও ড্রাগি, বিশ্বের ২০ টি বৃহৎ অর্থনীতির দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের নিয়ে এই সম্মেলনের ঘোষণা করেছিলেন। আগামী ৩০ ও ৩১ অক্টোবর রোমে অনুষ্ঠিত হতে চলা জি ২০ নেতাদের বৈঠকে কয়েক সপ্তাহ আগে এই সামিট আয়োজিত হয়েছে। সাংবাদিকদের ড্রাগি জানিয়েছেন, ‘জি ২০ সম্মেলনের আলোচনা করে আফগানিস্তানের জনগণের প্রাণ বাঁচানোর জন্য কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সেটা আমরা খতিয়ে দেখবো।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ইতালি


আরও
আরও পড়ুন