Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৩ কার্তিক ১৪২৮, ১১ রবিউল আউয়াল সফর ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

ডিজিটালাইজেশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি

জামালউদ্দিন বারী | প্রকাশের সময় : ১৩ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০৫ এএম

করোনা মহামারি উত্তর বিশ্ব পরিস্থিতি ক্রমশ একটি জটিল আকার ধারণ করতে চলেছে। একদিকে শিনো-মার্কিন বাণিজ্যিক-ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বেড়ে চলেছে অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলমানদের অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো নতুনভাবে মেরুকরণ ঘটতে শুরু করেছে। বিশেষত: আফগানিস্তান থেকে মার্কিনীদের পশ্চাৎপসারনের পর থেকে আফগান-পশ্চিম সম্পর্ক এক ধরণের ধোঁয়াশাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয় একচীন নীতির প্রশ্নে চীন সব সময়ই আপসহীন ভূমিকায় থাকলেও করোনাপূর্ব হংকং এর পর এবার তাইওয়ান নিয়ে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তিন দশক আগে ১৯৮৯ সালে চীনের তিয়েনআনমেন স্কোয়ারে লাখো জনতার সরকারবিরোধী সমাবেশ ভন্ডুল করতে চীন সরকার চরম সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। সে বছর আফগান মুজাহিদদের প্রতিরোধের মুখে দখলদার সোভিয়েত বাহিনীকে আফগানিস্তান ছাড়তে হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের পতন, রুশ-মার্কিন সামরিক স্নায়ুযুদ্ধ এবং বিশ্বব্যবস্থায় ভারসাম্য ভেঙ্গে বিশ্বের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্য তথা ইউনিপোলার বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই আফগানিস্তানে পতনের মধ্য দিয়ে মার্কিন সাম্প্রাজ্যবাদের পতনের সুর বাজতে শুরু করেছে। বিপুল পারমানবিক শক্তিধর সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের পতনের পর চীনের অপার বাণিজ্যিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পশ্চিমা পুঁজিবাদি সাম্প্রাজ্যবাদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছিল, যা এখন অনেকটাই বাস্তব রূপ লাভ করেছে। গত ছয় দশক সমাজতান্ত্রিক বিশ্বে, মধ্য এশিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে যে সব রাজনৈতিক-সামরিক সংঘাত ঘটেছে তার কোনোটিই সিআইএ বা পশ্চিমা কুশীলবদের ইন্ধন বা নেপথ্য অনুঘটকের ভূমিকা ছাড়া ঘটেনি। তিয়েনআনমেন ঘটনার সাথে চীনের আভ্যন্তরীণ-রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ঘটনাবলী ও মানুষের অধিকারের প্রশ্ন থাকতেই পারে, তবে সেই আন্দোলন বিজয়ী হলে আজকের অপ্রতিদ্ব›দ্বী অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে চিনের উত্থান সম্ভব হতো কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আফগানিস্তানে সোভিয়েতের মত মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীর পতনের পুনরাবৃত্তি অনেকটা নিশ্চিত হলে ২০১৯ সালে হংকংয়ে তিয়েনআনমেন স্কোয়ারের পুনরাবৃত্তির আয়োজন দেখেছে বিশ্ব, তাতে হংকংবাসীর অধিকার খর্ব হয়েছে। করোনা মহামারী হংকং আন্দোলনে ছেদ ঘটালেও দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালী নিয়ে পুরনো উত্তেজনা জিইয়ে রাখতে পশ্চিমাদের নেপথ্য তৎপরতা কখনো বন্ধ হয়নি। মাও সে তুংয়ের নেতৃত্বে ১৯৪৯ সালে চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় চিয়াং ঝাই শেকসহ জাতীয়তাবাদী নেতারা দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। সেই থেকে তাইওয়ান চীনের অমিমাংসিত ইস্যু হয়ে আছে। গত ৭১ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বশাসিত তাইওয়ানকে চীনের জন্য একটি অস্বস্তিকর ইস্যু হিসেবে ধরে রাখতে সব রকম কৌশলগত ভূমিকা পালন করেছে। ইসরাইলের মত তাইওয়ানও তাদের জন্য কৌশলগত সাম্প্রাজ্যবাদী ইস্যু।

করোনা ভাইরাস মহামারীর পেছনে একাধিক কনস্পিরেসি থিউরি চালু রয়েছে। বিশ্বকে ই-কর্মাস নির্ভর করে তোলা এবং ভ্যাকসিনের উপর মনোপলি সৃষ্টির মধ্য দিয়ে একটি বৈশ্বিক কর্পোরেট শক্তি বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভুত হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছিল। তবে অক্সফোর্ড-এস্ট্রাজেনেকা ও মর্ডানার মত পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার একাধিক প্রতিষ্ঠান শুরুতেই ভ্যাকসিন উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিক উৎপাদনে সফল হওয়ায় তা অনেকটা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ নিয়ে এখনো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক-বাণিজ্যিক রশি টানাটানি চলছে। চলমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মেরুকরণে তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্যসন্ত্রাস আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি সেবার বিস্তার ও ডিজটালাইজেশন প্রক্রিয়ান সম্প্রসারিত হলেও এর জন্য কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় তা রাষ্ট্র ও জনগণের জন্য বড় ধরণের হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ণ এবং অর্থনৈতিক লুণ্ঠনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত এবং শেয়ারবাজার থেকে গত দেড় দশকে শত বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেছে। ব্যাংকিং সেক্টরে সরকারি বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে একশ্রেণীর ছদ্মবেশি লুটেরাদের বসিয়ে দেয়া হয়েছে। গত বছর জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এক রিপোর্টে দেশের ব্যাংকগুলো থেকে ব্যাংক পরিচালকদের পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা নামে-বেনামে সরিয়ে নেয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর সারাদেশে ব্যাংক আমানতকারীদের মধ্যে বিক্ষোভ, অনাস্থা এবং আতঙ্ক দেখা দিলেও সেসব টাকা পুনরুদ্ধার বা ব্যাংক পরিচালকদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়নি। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফ্ট কোড হ্যাক করে শত শত মিলিয়ন ডলার সরিয়েছিল একটি আন্তর্জাতিক চক্র। সেই টাকা এখনো উদ্ধার করা যায়নি। ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টাও লক্ষ্য করা গেছে। বিদেশি গণমাধ্যমে তথ্যটি প্রকাশিত হওয়ার আগে বাংলাদেশের মানুষ জানতেও পারেনি। এটি গোপণ রাখা সম্ভব হলে এবং হ্যাকিং প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন রিজার্ভ থেকে হাজার কোটি ডলার সরিয়ে নেয়া অসম্ভব ছিল না। আমাদের দেশের লাখ লাখ শ্রমিক গায়ের ঘাম ঝরিয়ে রক্ত পানি করে যে কারেন্সি দেশে পাঠায়, ডিজিটালাইজেশনের যুগে সে টাকা মুহূর্তেই ডাকাতি করে অন্যদেশে পাচার করে দেয়া সম্ভব। এটা এখন প্রামানিত হয়েছে। ডিজিটালাইজেশন ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন নিয়ে দেশে রাজনৈতিক গলাবাজি হচ্ছে খুব। কিন্তু ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে দেশের মানুষের সর্বনাশের রাস্তা বন্ধের জন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের ব্যর্থতার চিত্র অনেকটা স্পষ্ট।

দশক ধরে চলা অর্থনৈতিক লুটপাটের চিত্র এখন ই-ব্যাংকিং ও ই-কর্মাসের মাধ্যমে আরো স্মার্ট ও গতিশীল হয়ে উঠেছে। তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার ও সহজলভ্য হওয়ার কল্যাণে এমনিতেই বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশে ই-কর্মাসের মাধ্যমে লেনদেন ২৫-৩০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছিল। করোনাকালীন বাস্তবতা মানুষ অনলাইন পরিষেবা ও পণ্য কেনাবেচায় বাধ্য হওয়ায় গত বছর ই-কর্মাস প্রবৃদ্ধি হয়েছিল স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ সালে দেশে ই-কর্মাসের মাধ্যমে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বা ১৬ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। তথ্যপ্রযুক্তির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশে ইতিমধ্যে ৩০ হাজার ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠান এবং ফেইসবুক কেন্দ্রিক আরো প্রায় ৫০ হাজার প্রতিষ্ঠান অনলাইন ভিত্তিক পণ্য ও পরিষেবা ক্রয়-বিক্রয় করছে। এদের মধ্যে ২০-৩০টি ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও ভোক্তা-গ্রাহকদের কাছ থেকে শত শত কোটি প্রতারণামূলকভাবে লুটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, আলেশা মার্ট, বুম বুম, ধামাকা, আলাদিনের প্রদীপ, আদিয়ান মার্ট, সিরাজগঞ্জ শপ, আনন্দের বাজার ইত্যাদি নামের ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অনেক অভিযোগ উঠেছে। ই-ভ্যালি ও আলেশা মার্টের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা এখন অনেকটাই প্রমানিত। ইতিমধ্যে দেশে ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বিষয়ক আইনও পাস হয়েছে। তবে ভুত ছাড়াতে খাঁটি সরিষার তেল কাজে দিলে সর্ষের ভেতরের ভুত সবকিছু এলোমেলো ও নস্যাৎ করে দিতে পারে। আমাদের দেশে প্রতিদিনই এমন উদাহরণ তৈরী হতে দেখা যাচ্ছে। ভোক্তা-গ্রাহকদের কাছ থেকে ই-ভ্যালি, আলেশা মার্টের শত শত কোটি টাকা লোপাটের ঘটনার পর প্রতারণা রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে পেমেন্ট গেটওয়ে সিস্টেম (এসক্রো) তদারকি করতে একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ক্রেতা ও বিক্রেতার মাঝখানে এসক্রো দুই পক্ষের লেনদেন নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি চতুর্থ আরেকটি অনুমোদনহীন ‘ফস্টার পেমেন্টস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এই দায়িত্ব অপর্ণ করার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ১৩০০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলে বিএফআইইউ বা ফিনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অনুসন্ধানে তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রতিটা ক্ষেত্রে হাজার কোটি টাকা লোপাট হওয়ার পর কেন ধরা পড়ছে। শুরুতে আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ কি করে? হাজার হাজার মানুষকে নি:স্ব সর্বস্বান্ত করে শত শত কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ার পর সরকারের সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ে, অত:পর তাদের যেন আর কিছুই করার থাকে না! গ্রাহক-ক্ষতিগ্রস্তরাও টাকা ফেরত পাননা। ডেস্টিনি, হলমার্ক, শেয়ার বাজার, বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন রিজার্ভ হ্যাকিং থেকে শুরু করে কোনো ঘটনায়ই সাধারণ ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের ক্ষতিপূরণ বা অর্থ ফেরত পায়নি। চুরি-ডাকাতি ও অর্থপাচারের সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর লিপসার্ভিস, তদন্ত কমিটি ও অ্যাকশন কমিটির নামে এক ধরণের লোক দেখানো আই-ওয়াশ দেখা যায়।

সামাজিক-অর্থনৈতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক-অর্থনৈতিক জীবন অস্থিতিশীল ও অনিরাপদ করে তুলেছে। ফেসবুক-টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যমের নীতিমালায় সরকার ও কর্পোরেট শক্তির সাথে আপসহীন ভূমিকার কথা বললেও বাস্তবে এর উল্টোটাই দেখা যাচ্ছে। ফেসবুকের সাবেক কর্মী ফ্রান্সিস হাউগেন সম্প্রতি ভারতে হিন্দুত্ববাদীদের মুসলিম বিদ্বেষী ভূমিকায় ফেসবুকের নীতিবিরোধী আচরণসহ ফেসবুকের গুরুতর অনিয়মের বেশকিছু ঘটনার তালিকা প্রকাশ করেছেন। ফ্রান্সিসের তথ্য অনুসারে, ভারতে হিন্দুদের মধ্যে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক হত্যাকান্ডের মত ঘটনাগুলোর সাথে পরোক্ষভাবে ফেইজবুকের দায় আছে। এ সপ্তাহেও ভারতে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়–য়া একজন মুসলমান শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা করে লাস খন্ড-বিখন্ড করার নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের পাকিস্তান সংস্করণে এসব ঘটনার বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের দেশ ভারতে যদি হিন্দু গ্রামে মুসলমানের ব্যবসা করা বা প্রবেশ করা গুরুতর অপরাধ বলে গণ্য করা হয়, তাহলে মুসলিম দেশে হিন্দুদের চাকরির সুযোগ ও দেশে রেমিটেন্স পাঠানোর সুযোগ একসময় প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারে। সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। এখানে প্রসঙ্গ হচ্ছে, ভারতের উগ্রপন্থী ও বর্ণবাদীরা যখন সেখানে যখন-তখন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করছে, তখন ফেসবুকের মত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কর্তারা তাদের কথিত নীতিমালা ব্যবহার করে তা বন্ধের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সমুন্নোত রাখার কৃতিত্বের জন্য ফিলিস্তিনী সাংবাদিক মারিয়া রেসা এবং রাশিয়ান সাংবাদিক দিমিত্রি মুরাতভকে এ বছর নোবেল শান্তি পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়েছে। ফ্রান্সিস হাউহেনের পর নোবেল বিজয়ী সাংবাদিক মারিয়া রেসা ফেসবুকের বিরুদ্ধে বোমা ফাটিয়েছেন। রেসা বলেছেন, ফেসবুক সত্যের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট এবং গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি।

বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশের যে রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল তার দর্শন ও লক্ষ্য ছিল তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সরকারি বেসরকারি পরিষেবা, দুর্নীতিবিরোধী কর্মতৎপরতা ও সমাজে ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করা। এখনকার বাস্তবতা থেকে স্পষ্টই বোঝা যায়, ডিজিটালাইজেশনের সে লক্ষ্য এখনো অর্জিত হয়নি। ডিজিটালাইজেশন এখন সারাবিশ্বে এবং বাংলাদেশে উল্টো ফল বয়ে আনছে। ডিজিটালাইজেশনের নামে একদিকে অনলাইনে দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সেখানে সরকারের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট শ্রেফ কাগুজে বাঘের ভূমিকা পালন করে চলেছে। অন্যদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তাকে সরকারি বাহিনীর নির্বতনের লক্ষবস্তুতে পরিনত করা হয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউবের কন্টেন্ট ব্যবহার করে যে কাউকে যে কোনো সময় ফাঁসিয়ে দেয়া এখন কোনো বিষয়ই নয়। যে কারো ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক আইডি বা পেজ খুলে বেআইনী-উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়ার এমন সহজ সুযোগ আগে কখনো ছিল না। ডিজিটালাইজেশনের নামে ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানের প্রতারনা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে সরকারি বাহিনীর নির্বতনমূলক ব্যবস্থার মূল টার্গেট সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সাহস নিয়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশে যারা বিশ্বাস করেন তারা। কথা ছিল, ই-গর্ভনেন্স-এর মাধ্যমে মানুষের দ্বারে দ্বারে সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়া হবে। ভূমি ব্যবস্থাপনা ও রেকর্ড সংরক্ষণ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে এ খাতে ভোগান্তি লাঘব করা হবে। এনালগ গতির ডিজিটালাইজেশন মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। সাধারন মানুষ এহেন ভোগান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে মুক্তি চায়।
[email protected]



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ