Inqilab Logo

শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৮ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

ফাইভজির সকল ক্ষেত্রে ইন্টেলিজেন্স আনতে অটোনোমাস নেটওয়ার্কের কাজ করছে: হুয়াওয়ে

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ অক্টোবর, ২০২১, ৬:৩৯ পিএম

পরিকল্পনা ও নির্মাণ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ ও অপ্টিমাইজেশন পর্যন্ত ফাইভজি নেটওয়ার্কের সকল ক্ষেত্রে ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আসতে অটোনোমাস নেটওয়ার্কের উন্নয়নে কাজ করছে হুয়াওয়ে। ফাইভজির বিকাশে আইসিটি খাতের সবাইকে একসাথে কাজ করারও আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গত বুধবার দুবাইয়ে শুরু হওয়া দুইদিনব্যাপী হুয়াওয়ের ১২তম বার্ষিক বৈশ্বিক মোবাইল ব্রডব্যান্ড ফোরাম (এমবিবিএফ) অনুষ্ঠানে একথা বলেন রোটেটিং চেয়ারম্যান কেন হু।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের সময় হু তার মূল প্রবন্ধে পরবর্তী পর্যায়ের ফাইভজি প্রবৃদ্ধির সুযোগের ক্ষেত্রে তিনটি মূল বিষয়ের উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি (এক্সআর) সেবা, বিজনেজ টু বিজনেজ (বিটুবি) মার্কেট এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস।

বর্তমানে, বিশ্বজুড়ে ১৭৬টি বাণিজ্যিক ফাইভজি নেটওয়ার্ক রয়েছে, যার মাধ্যমে ৫০ কোটির বেশি গ্রাহককে সেবাদান করা হচ্ছে। গ্রাহকদের ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফাইভজি’র ডাউনলোড গতি ফোরজি’র চেয়ে আনুমানিক ১০ গুণ বেশি। এর ফলে ভিআর ও ৩৬০ ডিগ্রি ব্রডকাস্টিং -এর ক্ষেত্রে অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এন্টারপ্রাইজগুলোর ব্যবহারের ক্ষেত্রে, বিশ্বজুড়ে ইতোমধ্যে ১০ হাজার প্রকল্প ফাইভজি’র বিটুবি অ্যাপ্লিকেশন (ফাইভজিটুবি) নিয়ে কাজ করছে। উৎপাদন, মাইনিং ও বন্দরের মতো শিল্পখাতে ফাইভজি অ্যাপ্লিকেশনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার সম্পন্ন হয়েছে এবং বড় পরিসরে ফাইভজি ব্যবহার নিয়ে কাজ চলছে।

ফাইভজি’র সম্প্রসারণ ধারাবাহিক হলেও এক্ষেত্রে উন্নতির এখনও অনেক সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন হু। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ফাইভজিটুবি প্রকল্পের অর্ধেকের বেশি চীনেই রয়েছে। আমাদের ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘ইউজ কেস’ রয়েছে, কিন্তু আমাদের আরও বেশি টেকসই বিজনেস কেস তৈরি করা প্রয়োজন।”

বৈশ্বিক মহামারির কারণে রূপান্তরিত এই ডিজিটাল নির্ভর বিশ্বে কীভাবে ক্লাউড ও এআই সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য আবশ্যিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং কীভাবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে, এসব বিষয়সহ ভবিষ্যতে আইসিটি খাতে দীর্ঘমেয়াদী বিস্তৃত পরিবর্তন নিয়ে হু আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “এসব ট্রেন্স আমাদের শিল্পখাতের জন্য অনেক সুযোগ তৈরি করেছে।” তিনি আরও বলেন, “কিন্তু এসব বিষয় কিছু চ্যালেঞ্জেরও সৃষ্টি করছে। এক্ষেত্রে, প্রস্তুত হতে আমরা কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারি।”

প্রথমত, এক্সটেন্ডেড প্রবৃদ্ধির জন্য শিল্পখাতকে নেটওয়ার্ক, ডিভাইস ও কনটেন্ট নিয়ে প্রস্তুত হতে হবে। স্বাচ্ছন্দ্যদায়ী ক্লাউড-ভিত্তিক অভিজ্ঞতার জন্য নেটওয়ার্কের ডাউনলোড স্পিড ৪.৬ গিগাবাইট প্রতি সেকেন্ডের চেয়ে বেশি হওয়া প্রয়োজন, যার ল্যাটেন্সি ১০ মিলিসেকেন্ডের চেয়ে বেশি হবে না। হু বলেন, “গত বছর হুয়াওয়ে ৫.৫জি’র জন্য এর লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছে । আমাদের বিশ্বাস, এ চ্যালেঞ্জগুলো তাতে সমাধান হয়ে যাবে।”

ডিভাইসের ক্ষেত্রে, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি’তে এআর, ভিআর ও এমআর সহ এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি’র সর্বোচ্চ সেবা পেতে হ্যান্ডসেট ব্যবহারের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। “এ পর্যায়ে পৌঁছাতে হ্যান্ডসেট ও কনটেন্টের উন্নতি করতে হবে। ছোট, হালকা ও সাশ্রয়ী ডিভাইস গ্রাহকগণ ব্যবহার করতে চান,” বলেন হু।

দ্বিতীয়ত, ফাইভজিটুবি’র জন্য প্রস্তুত হতে টেলিকম অপারেটরদের নেটওয়ার্কের মানোন্নয়ন ঘটাতে হবে এবং নতুন সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। শিল্পখাতে ফাইভজি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। তাই, অপারেটরদের আপলিঙ্ক, পজিশনিং ও সেনসিং -এর মতো নেটওয়ার্ক সমক্ষমতায় উন্নয়ন করতে হবে। শিল্পখাতে সামগ্রিক কাজের ধরণ যেহেতু গ্রাহক পর্যায়ের চেয়ে জটিল, তাই অপারেশন ও ম্যানেজমেন্ট (ওঅ্যান্ডএম) সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। এক্ষেত্রে, হুয়াওয়ে পরিকল্পনা ও নির্মাণ থেকে রক্ষণাবেক্ষণ ও অপ্টিমাইজেশন পর্যন্ত ফাইভজি নেটওয়ার্কের সকল ক্ষেত্রে ইন্টেলিজেন্স নিয়ে আসতে অটোনোমাস নেটওয়ার্কের উন্নয়নে কাজ করছে।

কানেক্টিভিটি সেবা প্রদান ছাড়াও, অপারেটররা ক্লাউড সেবাদাতা, সিস্টেম ইন্টিগ্রেটর হিসেবে কাজ করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় সক্ষমতার উন্নয়ন ঘটাতে পারে। শিল্পখাতে বিস্তৃত পরিসরে ফাইভজি ব্যবহার ত্বরাণ্বিত করতে খাতসংশ্লিষ্ট টেলিকম স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, কয়লা খনি, স্টিল ও বৈদ্যুতিক শক্তির মতো খাতে ফাইভজি ব্যবহারে চীনে অপারেটরা শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সাথে কাজ করা শুরু করেছে এবং এ অংশীদারিত্ব এসব খাতে ফাইভজি ব্যবহার বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

তৃতীয়ত, এ শিল্পখাতকে সবুজবান্ধব হতে হবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তি বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ অন্তত ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করতে পারে। “এ দিক দিয়ে” হু বলেন, “ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নিঃসরণ কমাতে এবং জ্বালানির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সকল শিল্পখাতকে সহায়তা করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। অন্যদিকে, আমাদের মেনে নিতে হবে আমাদের খাতের কার্বন ফুটপ্রিন্ট বাড়ছে এবং আমাদের এ অবস্থায় উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এজন্য, সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে আমরা সাইটগুলো রিমডেলিং করছি এবং আমাদের ডেটা সেন্টারগুলোতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা উপযোগিতা বৃদ্ধি করছি।”

বৈশ্বিক মহামারি, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও অর্থনীতিতে গত দুই বছরে অনেক পরিবর্তন এসেছে। হু বক্তব্যের শেষে বলেন, “সারাবিশ্ব বৈশ্বিক মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। এক্ষেত্রে, সামনে এগিয়ে যেতে আমাদের সামনে থাকা সুযোগগুলোর সদ্ব্যবহার করতে হবে এবং সুযোগগুলোর জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আমাদের প্রযুক্তি প্রস্তুত করে তুলতে হবে, ব্যবসাকে প্রস্তুত করতে হবে এবং আমাদের সক্ষমতার ক্ষেত্রেও প্রস্তুত হতে হবে।”

খাত সংশ্লিষ্ট অংশীদার – জিএসএমএ এবং এসএএমইএনএ টেলিকমিউনিকেশনস কাউন্সিলের সাথে একসাথে বৈশ্বিক মোবাইল ব্রডব্যান্ড ফোরাম আয়োজন করেছে হুয়াওয়ে। ফাইভজি’র সম্ভাবনা কীভাবে বাড়ানো যায় এবং মোবাইল খাতকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় এ নিয়ে আলোচনায় এ ফোরামে সারাবিশ্ব থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর, বিভিন্ন খাতের নেতৃবৃন্দ ও ইকোসিস্টেম পার্টনাররা অংশগ্রহণ করেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হুয়াওয়ে


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ